অবসরে প্রচুর বাংলা বই পড়েছি এবং পড়ছি : ইশরাক তূর্য

বন্ধুরা, আশা করি সবাই ভালো আছো। ধারাবাহিক সাক্ষাতকারের এই পর্বে তোমাদের সাথে রয়েছে তোমাদেরই প্রিয় শিশু অভিনেতা ইশরাক তূর্য। যাকে তোমরা তোমাদের পছন্দের চ্যানেল দুরন্ত টিভিতে দেখে থাকো। এছাড়াও টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে তো দেখোই। দুরন্ত টিভিতে প্রচারিত জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘শহর থেকে দূরে’ এবং ‘মেছো তোতা গেছো ভূত’ নাটকে যথাক্রমে অয়ন ও তোতা চরিত্রে অভিনয় করছে সে। এছাড়াও অর্ক চরিত্রে কাজ করেছে দীপ্ত টিভির জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ভালোবাসার আলো আঁধার’ নাটকে। টিভিতে প্রচারিত তার বিজ্ঞাপনগুলোর মধ্যে রয়েছে ডেটল হ্যান্ড ওয়াশ, বিডা, রবি, নগদ, হরলিক্স, নেসলে, সার্ফ এক্সেল, ফ্রেশ স্টেশনারি, বাংলালিংক, হরলিকস, রুচি চিপস, গাল্ফ, ফ্রেশ পেন, লাইফবয় পকেট হ্যান্ড ওয়াশ, সিটি ব্যাংক এবং নেরোলাক ইত্যাদি।
ইশরাক তূর্য’র সাক্ষাতকার নিয়েছে টিন এবং ইয়ুথ প্লাটফর্ম পরিচয়’র ইয়ুথ কো-অর্ডিনেটর, শিশুসাহিত্যিক তুফান মাজহার খান-

পরিচয়: কেমন আছো তূর্য?
তূর্য: আলহামদুলিল্লাহ্, আমি ভালো আছি, আপনি কেমন আছেন আংকেল?

পরিচয়: হ্যাঁ, আমিও ভালো আছি।

পরিচয়: তোমার বয়স কত?
তূর্য: আমার বয়স ১১ বছর।

পরিচয়: বাহ্ বেশ! এ পর্যন্ত আমি যতগুলো শিশুতারকার সাক্ষাতকার নিয়েছি তাদের মধ্যে তুমিই বড়। তোমার পরের অবস্থান শানের। তার বয়স দশ। যদিও তোমাদের দু’জনের হেয়ার স্টাইল এবং পছন্দ অনেকাংশে একইরকম। যা আমরা মৌমির ফেসবুক লাইভ শো’তে দেখেছিলাম। আচ্ছা যাকগে, এবার বলো তোমার পড়ালেখা সম্পর্কে। কোন ক্লাসে পড়ছো?
তূর্য: আমি স্ট্যান্ডার্ড ফাইভে পড়ি।

পরিচয়: মানে ইংলিশ মিডিয়ামে?
তূর্য: জি আংকেল।

পরিচয়: আচ্ছা, এবার বলো এ পর্যন্ত কতগুলো নাটক/টিভিসি/ওভিসি/মডেলিং করেছো?
তূর্য: প্রথমত আমি সবাইকে বলতে চাই আমার অভিনয় জীবন শুরু ৫৬ পর্বের ধরাবাহিক নাটক ‘শহর থেকে দূরে’ দিয়ে। যার ২৬ পর্বেই আমি কাজ করেছি। আমার চরিত্রের নাম ‘অয়ন’। এটি ছিল দুরন্ত টিভির নাটক।
দ্বিতীয়ত যে নাটকে কাজ করেছি সেটির নাম হলো ‘ভালোবাসার আলো আঁধার’। নাটকটি ছিল ৩৭৪ পর্বের একটি ধারাবাহিক। সেটিতে আমার চরিত্রের নাম অর্ক। দীপ্ত টিভির নাটক ছিল এটি। যেখানে আমি টানা ১৭ মাস কাজ করেছি।
তৃতীয়ত আমি যে ধারাবাহিকে কাজ করেছি সেটি হলো ‘মেছো তোতা গেছো ভূত’। এটি ২৬ পর্বের ধারাবাহিক। সেখানে আমার চরিত্রের নাম তোতা। এটিও দুরন্ত টিভির নাটক।
আরেকটি যে বড় কাজ করতে যাচ্ছি সেটি হলো, স্যাম বেনেগাল এর বঙ্গবন্ধুর জীবন ভিত্তিক বায়োপিক। সেখানে আমি শেখ কামাল (৮-১২ বছর) চরিত্রটির জন্য নির্বাচিত হয়েছি। এটা আমার অভিনয় জীবনের একটি বড় পাওয়া। তবে করোনা পরিস্থিতির জন্য আপাতত ওটা স্থগিত রয়েছে।
এবার আসি একক নাটকের প্রসঙ্গে- অপ্রিয় অতিথি, মৃতের আত্মহত্যা নামের দুটি নাটকে কাজ করেছি।
ডকুমেন্টারি ফিল্মের মধ্যে রয়েছে, ছায়াবাজি এবং কোথায় পাবো তারে।
ওভিসির মধ্যে আছে, ডেটল হ্যান্ড ওয়াশ, বিডা, রবি, নগদ, হরলিকস, নেসলে, সার্ফ এক্সেল, ফ্রেশ স্টেশনারি ইত্যাদি।
টিভিসিগুলো হলো, বাংলালিংক, হরলিকস, রুচি চিপস, গাল্ফ, ফ্রেস পেন, লাইফবয় পকেট হ্যান্ড ওয়াশ, সিটি ব্যাংক এবং নেরোলাক।
আর ফটোশুট করেছি লারিভ, এমব্রেলা, মাইক্রোসফট এবং সিটি ব্যাংক।

শুটিং সেটে বন্ধুদের সাথে তূর্য

পরিচয়: ওহ্ মাই গড! মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনছিলাম। এত কাজ এত ছোট্ট একটা মানুষ কিভাবে করতে পারে! আচ্ছা, এত অল্প বয়সে এতগুলো কাজ কীভাবে সম্ভব হলো?
তূর্য: আমাকে আমার পুরো পরিবার এবং যাদের সাথে কাজ করেছি তারা সবাই অনেক সাহায্য করেছে এ পথচলাটাকে সফল করতে। তাই আমি এত অল্প সময়ে অনেক দূর এসেছি।

পরিচয়: চমৎকার! তা এত এত সাফল্যের পেছনে নিশ্চয়ই কারো কারো অনুপ্রেরণা/উৎসাহ অনেক বেশি ছিল। কে বা কারা তোমাকে বেশি উৎসাহিত করেছে?
তূর্য: আমার মা, বাবা এবং অবশ্যই আমার পুরো পরিবার। আর আমার দাদি এবং ফুপি।

পরিচয়: প্রথম কার মাধ্যমে কাজে প্রবেশ করেছিলে মনে আছে?
তূর্য: হ্যাঁ, আমার প্রথম কাজ সাইদ রিংকু আংকেলের হাত ধরে।

পরিচয়: আচ্ছা, তা লেখাপড়া এবং কাজ এ দুটো বিষয় একইসাথে সামলাতে হিমশিম খেতে হয় না?
তূর্য: অসুবিধা হতো, তবে এখন মা এবং আমার বন্ধু ও টিচারদের সহযোগিতায় সেটা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠেছি।

পরিচয়: তাহলে তো বেশ ভালো। আসলে সবার সহযোগিতা পেলে যেকোনো কাজে দ্রুত সফলতা আসে। বর্তমান সংকটাপন্ন মুহূর্তে (করোনাকাল) কীভাবে সময় কাটাচ্ছ?
তূর্য: করোনা ভাইরাস আমাদের কাছে এমনকি পুরো পৃথিবীর কাছে এক ভয়াবহতার প্রতিচ্ছবি। অনেক মূল্যবান সময় এবং জীবন কেড়ে নিয়েছে এই করোনা ভাইরাস।
তবুও সব ভয়কে দূরে সরিয়ে আমি এবং আমার পরিবারের সবাই এটাকে জয় করতে শিখছি একটু একটু করে।
এই অবসরে আমি প্রচুর বাংলা বই পড়েছি এবং পড়ছি। যেহেতু আমি ইংরেজি মাধ্যমে পড়ি আমার নিজের ভাষাতে আরও দখল নিতে এই বই পড়া। প্রতিদিন কিছু সময় শরীরচর্চা, সকালের রেওয়াজ এবং স্কুলের পড়ার পেছনে ব্যয় করছি। সবমিলিয়ে বলব, ভুলে থাকতে চাচ্ছি এই দুঃসময়টাকে।

পরিচয়: শুনে ভালো লাগল। কারণ, অনেকেই ইংরেজি মাধ্যমে পড়ার দরুণ বাংলা চর্চাটা ওভাবে করে না। এমনকি কিছু পরিবারে তো পুরোই ইংরেজি চর্চা চলে হরদম। তোমার বাংলার প্রতি অনুরাগের কথা শুনে সত্যিই ভালো লাগল।
আচ্ছা, অনেক শিশুশিল্পীদেরই তো দেখছি এ করোনা পরিস্থিতিতেও কাজ করছে। তা তুমি কি কোনো শুট করেছ?
তূর্য: অাসলে অনেকটা সময় আমি বা আমরা কাজ থেকে বিরত থেকেছি। তবে একটা সময় গিয়ে আমি আমার মতো অনেকেই আবার একটু একটু করে কাজে ফেরার চেষ্টা করছি। এই করোনাকালীন সময়ে প্রথম দুটি ওভিসি আমার বাসায় এসে শুট হয়েছে তবে পরবর্তী সময়ে আমি বাইরে গিয়েও কাজ করেছি এবং করছি।

পরিচয়: হুম সেটাই, আসলে নিজে সতর্কতা অবলম্বন করে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে যতটুকু কাজ করা যায়। তোমার স্কুলে কতজন বন্ধু আছে? বন্ধুদের মিস করো?
তূর্য: ক্লাসের সবাই আমার বন্ধু, তবে আমার দুজন ভালো বন্ধু আছে।
আমি সত্যিই আমার স্কুল এবং আমার বন্ধুদের অনেক অনেক বেশি মিস করি।

পরিচয়: তোমার প্রিয় ব্যক্তি কে?
তূর্য: বাবা, বাবা এবং বাবা। অনেক ভালোবাসি প্রিয় বাবাকে।

পরিচয়: শুধুই বাবা কেন? মা কি বেশি শাসন করে? নাকি আদর করে না?
তূর্য: না না, আদর করে না সেটা নয়, একটু শাসন তো করেই। তবে মাকেও ভালোবাসি। কিন্তু বাবাকে বেশি।

পরিচয়: তা বেশ, তোমার প্রিয় জায়গা কোনটি?
তূর্য: আমার নানু বাড়ি আমার খুব প্রিয়।

পরিচয়: ভালো, তা তোমার প্রিয় খাবার কোনটি?
তূর্য: আমি সাধারণত সব ধরনের খাবার খাই, যা আমাদের জন্য পুষ্টিকর এবং হেলদি। তবে পিজ্জা আমার ভীষণ প্রিয় এবং বিভিন্ন রকমের ভর্তা খেতেও আমি ভালোবাসি।

পরিচয়: অবসরে/অবকাশে কী করতে ভালো লাগে?
তূর্য: আমার অবসর খুব একটা নেই। তবে এখনকার সময়টা ব্যতিক্রম। আমি বিকেলের অবসরে সাধারণত বাবার সাথে শরীর চর্চা করে, ঘুড়ি ওড়িয়ে এবং আমাদের ছাদ বাগানে কাটাই। কখনোবা ছোট ভাইয়ের সাথে ছবি এঁকে।

পরিচয়: বাহ্! এবার বলো সাগর, নদী, পাহাড় এর মধ্য থেকে কোনটি ভালো লাগে?
তূর্য: আমি ভীষণভাবে প্রকৃতিপ্রেমী। পাহাড়, নদী ও সমুদ্র সবই প্রকৃতির অংশ। তবে সমুদ্র আমাকে বেশিই টানে।

পরিচয়: বড় হয়ে তোমার যদি মানুষের জন্য কোনো ভালো কিছু করার সুযোগ হয়, তাহলে তুমি কী করতে চাও?
তূর্য: আমি যদিও এখনো অনেক বড় হইনি, তবুও বলি আমার বাবা আমাকে অনেক ছোটবেলা থেকে অসহায়দেরকে সহায়তা করার জন্য বিভিন্নভাবে শেখাতো আমি বিশ্বাস করি ভালো কাজের জন্য অনেক বড় বা অনেক বয়স হতে হয় না। এখন থেকেই আমি একটু একটু করে ওদের পাশে থাকতে চাই। সেটা খুব ছোট কোনো সাহায্য হলেও।

পরিচয়: গ্রেট, খুব সুন্দর বলেছ। আসলেই তাই। আচ্ছা, পেশা হিসেবে কোনটিকে বেছে নিতে চাও?
তূর্য: আমি একজন ভালো মানুষ হতে চাই। আর প্রফেশন সম্পর্কে যদি বলি, প্রথম পছন্দ এয়ার ইঞ্জিনিয়ার এবং দ্বিতীয় পছন্দ ক্যামেরার পেছনে থেকে নিজের কাজকে মেলে ধরতে চাই (ডিরেকশন)।

পরিচয়: অতি চমৎকার! যদি ডিরেক্টর হও তাহলে তোমার তুফান আংকেলকে কাজের সুযোগ দিবে তো?
তূর্য: হা হা হা। আপনি কাজ করবেন?

পরিচয়: হ্যাঁ করব তো। আমি তো বেশ কয়েকটি টিভি নাটকে কাজ করেছি।
তূর্য: তাই নাকি? কোন কোন নাটক বলেন তো।

পরিচয়: দীপ্ত টিভির ধারাবাহিক ‘পালকী’র দুটি পর্বে, চ্যানেল আইয়ের ধারাবাহিক ‘সাত ভাই চম্পা’র দুটি পর্বে এবং মাছরাঙায় প্রচারিত প্যাকেজ নাটক ‘ঝুমকা’তে কাজ করেছি। একটি সিনেমাতেও কাজ করার সুযোগ হয়েছিল।
তূর্য: বাহ্! জানতাম না তো।

পরিচয়: আচ্ছা, যাইহোক। এখন তোমার সাক্ষাতকার নিতে গিয়ে প্রসঙ্গক্রমে আমার সাক্ষাতকারও কিছুটা তোমাকে দিয়ে দিলাম। যাক, আর কথা বাড়াব না। আল্লাহ্ তোমার মনের আশা পূর্ণ করুন। জীবনে অনেক বড় হও সেই কামনাই থাকবে। পরিচয়কে সময় দেওয়ার জন্য তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
তূর্য: আপনাকে এবং পরিচয়কে অনেক ধন্যবাদ, আমাকে কিছু বলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। শুভকামনা।

আপনার মতামত দিন