আকাশের মতো ছেলেরাই একসময় উত্তীর্ণ হয়ে যায়

ইস্রাফিল আকন্দ রুদ্র

আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ
র্স্পধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি,
আঠারো বছর বয়সেই অহরহ
বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি।

সুকান্ত ভট্টাচার্যের এ কবিতা পরম সত্য।আঠারো বছর বয়সে আমাদের তরুণ প্রজন্মের রক্ত টগবগ করতে থাকে নতুন কিছু করার জন্য। গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের চন্নাপাড়া গ্রামের শাহজাহান মিয়ার বড় ছেলে আকাশ। দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী। পড়ালেখার পাশাপাশি নেশা গ্রাফিক্স ও ইউটিউবের দিকে। গ্রাফিক্সের কাজ করে গত দুই বছরে প্রায় ৬০-৬৫ হাজার টাকা আয় করেছে।

ছোট বেলা থেকেই গ্রাফিক্স ডিজাইনের প্রতি আগ্রহ ছিল। যখনই কোনো পোস্টার, নামলিপি দেখতো তখনই তার ভাবনা এগুলো কীভাবে করে! নিজের ভেতরে প্রশ্ন ঘুরপাক খেতো, কাউকে জিজ্ঞাসা করার সাহস পেতো না। স্মার্টফোন পাওয়ার পর গুগল ঘাঁটাঘাঁটি আর ইউটিউব দেখা, সেখান থেকে কিছু শেখা, নিজের নামকেই বিভিন্ন ভাবে ডিজাইন করা, এভাবেই শুরু।

এরপর ইউটিউবে আসার যাত্রা, নিজের ভেতর থাকা প্রতিভা কিভাবে অন্যদের দেখাবে এটা ভাবতো সবসময়। হঠাৎ ভাবলো পড়ালেখার পাশাপাশি ইউটিউবের জন্য ভিডিও বানাবে। বন্ধু বান্ধবকে ভাবনাটা বলতেই সিদ্ধান্তে পৌঁছল তারা , ইতিবাচক সাড়া দিলো।গড়ে উঠলো RIR AKASH টিম। সেই যে শুরু, ধীরে ধীরে তারা এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের পথটা মসৃণ ছিল না কিংবা এখনো নেই। কাঁটাময় তাদের পথ। একটা একটা করে কাঁটা উঠিয়ে তারা এগিয়ে যাচ্ছে তাদের টিমকে সুদূরপ্রসারী করার লক্ষ্যে।
অনেকে পাগল ডাকে! পরিবার প্রথম দিকে অনেক কথা বলতো, সাপোর্ট করতো না। পরিবারের বড় ছেলে হিসেবে একটা দায়িত্ব আছে তাই হয়তো। এখন আর কেউ কিছু বলেনা। বলতে বলতে অতিষ্ঠ, বুঝে গেছে যে তাকে কিছু বললেও শুনবে না, হয়তো তার আবেগের কাজগুলো দিয়েই সফলতা আনবে সে! ভিডিও বানানোর সময় অনেকে হাসিঠাট্টা করে, মজা নেয়। এসব উপেক্ষা করে ভিডিও বানিয়ে যাচ্ছে। আর তা মানুষ গ্রহণও করছে, ভালো সাড়া পাচ্ছে। পিছনের লোকের কথা থামতে নেই তা আকাশ জানে ও মানে।

স্বপ্ন সবাই দেখতে ভালোবাসে, সে অনুযায়ী কাজও করে। আকাশ স্বপ্ন দেখে আগামী দশ বছরের মধ্যে তার ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার হবে দশ মিলিয়ন!

ভালোবাসা রইলো আকাশ ও তার টিমের প্রতি। এগিয়ে যাক এমন হাজারো আকাশের স্বপ্ন।

 

আপনার মতামত দিন