ত্রিধার জন্মদিন

ত্রিধার জন্মদিন
দীপ্তি সরকার

ত্রিধার তৃতীয় জন্মদিন আজ। অবশেষে ত্রিধার মনের মতো পালিত হলো তার জন্মদিন। কিভাবে? তবে শুরু করি সেই গল্প।
ত্রিধা ভীষণ বুদ্ধিমতি। ওদের বাসার বারান্দায় দাঁড়িয়ে পাশের কলোনির ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের দেখে। ও দেখে প্রায় প্রতিদিন এক লোক একটা ভ্যানগাড়িতে অনেক রংবেরঙের খেলনা নিয়ে আসে সেই কলোনিতে। ছেলেমেয়েগুলো খুব আনন্দ নিয়ে ছুটে যায় সেই ভ্যানগাড়ির কাছে। চারপাশে ওরা ঘুরতে থাকে আর খেলনাগুলো ছুঁয়ে দেখতে চায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেউ আর খেলনাগুলো নিয়ে খেলা করতে পারে না।
একদিন ত্রিধা তার মাকে প্রশ্ন করে, ‘মা, ওই লোকটি কে?’
মা বলেন, ‘ওই লোকটি হলো ফেরিওয়ালা।’
‘মা, ফেরিওয়ালা মানে কী?’
‘ফেরিওয়ালা মানে যে অনেক জিনিস ফেরি করে।’
‘আচ্ছা মা, ওই ফেরিওয়ালার কাছে তো অনেক খেলনা, তাহলে সে বাচ্চাদের সব খেলনা কেন দিয়ে দেয় না?’
মা হেসে বললেন, ‘ফেরিওয়ালা তো ওই খেলনাগুলো এক জায়গা থেকে কিনে এনেছে। সে এই খেলনাগুলো বিক্রি করে। ওই বাচ্চাদের কাছে তো টাকা নেই, তাই তারা কিনতে পারে না।’
ত্রিধা মায়ের কথা শুনে চুপ করে রইল। কয়েকদিন পর বাবা ত্রিধাকে বললেন, ‘সামনেই তো তোমার জন্মদিন, তুমি কী গিফট চাও?’
ত্রিধা বলে উঠল, ‘বাবা, আমি ফেরিওয়ালা হতে চাই। আর ওই পাশের কলোনির বাচ্চাদের খেলনা দিতে চাই।’
ত্রিধার কথা শুনে তার বাবা-মা দুজনেই খুব অবাক হলেন। কিন্তু ত্রিধার এই মহৎ ইচ্ছেটাকে তারা পূরণ করতে চাইলেন। ত্রিধার বাবা-মা তাদের আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব সবাইকে মেয়ের এই ইচ্ছের কথা বললেন। সবার কাছে সাহায্য চাইলেন। বললেন, তারা যেন তাদের বাসার পুরনো খেলনা বা ছোটবেলার গল্পের বই ত্রিধার জন্মদিনে গিফট করে। দেখা গেল সবার বাসায় তাদের ছেলেমেয়েদের বেশ কিছু ছোটবেলার খেলনা বা বই রয়ে গেছে। কমবেশি সবাই সেগুলো ত্রিধাদের বাসায় পাঠাতে শুরু করলেন। এবার ত্রিধার জন্মদিনে বাবা একটি ভ্যানগাড়িতে সেসব খেলনা আর বাচ্চাদের গল্পের বই দিয়ে সাজালেন। এরপর সেই ভ্যান নিয়ে এলেন কলোনিতে। মা ত্রিধাকে নিয়ে বারান্দায় এলেন। ত্রিধা দেখল অনেক খেলনা আর মজার মজার গল্পের বইয়ে ভরা এক ফেরিওয়ালার ভ্যান। আরও আশ্চর্য হয়ে দেখল ফেরিওয়ালা হলেন ওর বাবা।
ত্রিধা চিৎকার করে মাকে বলল, ‘মা, ওই যে বাবা আমার ফেরিওয়ালা।’
বাবা কলোনির সব বাচ্চাকে তাদের পছন্দের খেলনা আর বই দিলেন। সাথে ত্রিধার জন্মদিন উপলক্ষে মায়ের হাতের বানানো কেক ও একটা করে মাস্ক উপহার দিলেন। ত্রিধা খুশিতে বারান্দা থেকে তালি দিচ্ছিল, আর ওই বাচ্চারা চিৎকার করে বলছিল, ‘হ্যাপি বার্থডে ত্রিধা। থ্যাংক ইউ।’
ত্রিধার সব থেকে খুশির দিন ছিল এটি। বাড়ি ফিরে এলে বাবার কোলে উঠে তাকে আদর করে বলে, ‘বাবা, তোমাকে অনেক ভালোবাসি। আজ থেকে তুমি আমার স্বপ্নের ফেরিওয়ালা।’

আপনার মতামত দিন