আজ থেকে কয়েকটা দিন আবার চিন্তিত থাকবেন

জুতোর সাইজ সিক্স
মোঃ ফেরদৌস আহাদি

নবম তলার উপর জানালার পাশে বসে আছি। এখান থেকে ঢাকা শহরের অনেক কিছু দেখা যায়। অনুভব করা যায়। আমার সামনে বসে আছে মাসুদ। আহমেদ মাসুদ। বয়স ২৪, একটি প্রাইভেট কম্পানিতে জব করছে, পরিবারে তেমন কেউ নেয় মা ব্যতীত।

– মাসুদ সাহেব আপনি চা খান?
– না”।
– কফি?
– মাঝে মধ্যে।
– তাহলে চলুন আমরা কফি খেতে খেতে আপনার সমস্যা নিয়ে কথা বলি।
– ঠিকাছে।
– কফি কোনটা খাবেন কোল্ড না হট?
– আপনার যা ভালো লাগে বলুন।
– অন্যের পছন্দের উপর নিজেকে গুরুত্ব দিতে যাবেন না। নিজের পছন্দকে গুরুত্ব দিতে শিখুন।
– আমি আপনার কাছে অ্যাডভাইস নিতে আসি নি।
– এটা কোন অ্যাডভাইস না। এখান থেকে আপনার সমস্যার সূত্র পাওয়া যেতে পারে।
– আপনার কি গার্লফ্রেন্ড আছে?
– আপনি কি আমার সাথে জোক করছেন?
– যদি মনে করেন তাই।
– তাহলে আমি অন্য কোন সাইক্রিয়াটিস্টের কাছে যেতে পারি। আমি উঠলাম।

– মাসুদ সাহেব। বসুন। এত রাগ করলে হবে! আপনার সমস্যা বলুন।
– বেশ কিছুদিন যাবৎ, আমি রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময়। মনে হয়, আমার পিছন থেকে কেউ ঢিল মারছে। কখনও শরীরে এসে পরে। কখনও আবার মাথার উপর দিয়ে সামনে চলে আসে।
– গার্লফ্রেন্ড আছে?
– অদ্ভুত সাইক্রিয়াটিস্ট তো আপনি, এক প্রশ্ন দুইবার করে করছেন!
– তখন আপনি প্রশ্নের এন্সার দেন নাই।
– গার্লফ্রেন্ডের কথা জেনে আপনার কি লাভ?
– লাভ, লোকসান বুঝি না। সমস্যা সমাধান করার জন্যে জানা প্রয়োজন। আছে?
– হ্যাঁ।
– কত বছরের রিলেশন?
– পাঁচ বছর।
– বিয়ে করবেন তাকে?
– আপনি অনেকক্ষণ যাবৎ ফালতু বকবক করে যাচ্ছেন। আমার মনে হচ্ছে আপনাকে-ই কোন সাইক্রিয়াটিস্ট দেখানো দরকার।
– এসব ফালতু বকবক না। প্রয়োজন। বিয়ে করবেন?
– না।

– আপনার বাবা তো অনেক সম্পদের মালিক ছিলেন। আর সেই সম্পদের একমাত্র উত্তরাধিকারী আপনি। তাই না?
– হ্যাঁ।
– আপনার কাছের কোন রিলেটিভ আছে? যে, আপনি মারা যাওয়ার পর সব সম্পত্তি তারা পাবে?
– হ্যাঁ, চাচাতো বোন আছে একজন।
– তিনি-ই কি আপনার পাঁচবছরের রিলেশনের মেয়েটি?
– হ্যাঁ।
– ঠিকাছে আপনি আগামিকাল আসেন!
– আপনার ভিজিট কত?
– সিডিউল দেয়া আছে দেখে নেন।
– ধন্যবাদ আমি আসি।
.
“আহমেদ মাসুদ সাহেব আমার সামনে বসে কোল্ড কফি খাচ্ছে। তাকে খুব চিন্তিত লাগছে। মাসুদ সাহেব, কফি আরেকটা বলব”?
– না। ঠিকাছে।
– কি করে আসলেন? বাসে না, সিএনজি?
– আমি বাসে চলতে পারি না। সিএনজি। আমার সমস্যার সমাধান ফেলেন?
– পায় নি। তবে পেয়ে যাবো। অতি শিগগির। আচ্ছা আপনার পায়ের সাইজ কত?
– পাঁচ।
– রাতে হাঁটার সময় কি জুতা পরে হাঁটেন?
– চটি।
– চটির সাইজ কত?
– ছয়।

– “বসুন আমি আসছি”। আপনার পায়ের জুতা জোড়াটি খুলে এই জোড়াটি পায়ে দিন।
– এতো নর্মাল জুতা! আপনি কি আমাকে ইনসাল্ট করার চেষ্টা করছেন?
– ইনসাল্ট নয়। এগুলো আমার নিজের টাকায় কেনা। রিসার্চ করার জন্যে কিনেছি মাত্র। দামি সোজ কিনার প্রশ্ন-ঐ উঠে না।
– এগুলো পরলে কি হবে?
– এগুলো পরে আপনি তিনদিন হাঁটবেন। যে যে রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময়, আপনার মনে হতো, পেছন থেকে কেউ ঢিল মারছে। ঐ রাস্তা গুলো দিয়ে বেশি হাঁটবেন। আর তিনদিন পর আসবেন? আসার সময় জুতা জোড়াটি নিয়ে আসবেন।

তিনদিন পর-
“আজ মাসুদ সাহেবকে কিছুটা চিন্তাহীন মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে তার উপর আমার করা রিসার্চ কাজে দিয়েছে। কাজে দিবে না কেনো। সাইক্রিয়াটিস্ট সামাদ আহমেদ ঢাকা শহরের টপ ফাইভের একজন”।
– মাসুদ সাহেব। আপনাকে কি এখনও কেউ পেছন থেকে ঢিল মারে?
– না।
– আর কেউ মারবেও না।
– এতদিন কে মারছিল?
– আপনার জুতা।
– আমার জুতা?
– হ্যাঁ।
– অদ্ভত না!
– হ্যাঁ অদ্ভুতি।
– জুতা কিভাবে ঢিল মারে?

– আপনার পায়ের সাইজ হচ্ছে পাঁচ। আর আপনি পরেন ছয়। এক সাইজ বেশি। আপনি যখন দ্রুত হাঁটেন। তখন জুতার অবশিষ্ট জায়টিতে যখন কোন কংক্রিটের টুকরো বা অন্য কোন কিছুর টুকরো পরে। তারপর যখন আপনার পায়ের তলাতে জুতা বাড়ি খায়। তখন তা উপরে উঠে আসে। মাঝে মধ্যে আপনার শরীরে এসে পরে। কখনও বেশি গতি হওয়ার ফলে সামনে চলে আসে।
– আপনার ভিজিট! থ্যাংক য়্যু আপনাকে। আমি আসি।
– জুতা জোড়াটি আনতে ভুলে গেছেন?
– স্যরি। এই নেন জুতা জোড়া।
– থ্যাংক য়্যু। আপনি আসতে পারেন।

– মাসুদ সাহেব।
– হ্যাঁ বলুন।
– মেয়েটিকে বিয়ে করে ফেলেন। খুব ভালো মেয়ে। টাকা পয়সার প্রতি কোন লোভ নেয়। আপনাকে খুব ভালোবাসে।
“মাসুদ সাহেব কিছু বললেন না। হাঁটা শুরু করলেন। তিনি হয়তো ভাবছেন আমি কিভাবে তার গার্লফ্রেন্ডের ব্যাপারে জানতে পারলাম! আর এটা ভাবতে ভাবতে-ই তিনি পুরোটা রাস্তা শেষ করবেন। আজ থেকে কয়েকটা দিন আবার চিন্তিত থাকবেন”।

 

আপনার মতামত দিন