আতিকুল ইসলামের হার না মানার গল্প

তাসনীমুল হাসান মুবিন (১৭), ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল থানার ধানীখলা ইউনিয়নের কাটাখালি গ্রামের যুবক আতিকুল ইসলাম।

জন্মানোর বছর পেরুতেই বাবা-মা বুঝতে পারলেন তাদের সন্তান আতিকুল ইসলাম আর কয়েকটা স্বাভাবিক ছেলের মত নয়। স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠছে না।

বাবা স্কুল মাস্টার খালেক ও মা গৃহিণী মমতাজ বেগম দম্পতির ১০ জন সন্তানের মাঝে আতিকুল ইসলাম অষ্টম। এবং দুটি জমজ সন্তানের একজন। আতিকুলের জমজ অন্য ভাই এবং অন্য সকল ভাই বোন স্বাভাবিক মানুষের মত বেড়ে ওঠলেও আতিকুল হেরে যায় ভাগ্যের কাছে।

বাবা মা চিন্তায় পড়ে গেলেন সন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে। এদিকে এলাকাবাসীর সমালোচনা শুরু হয়ে যায়।

গ্রামের কোন বৃহৎ বৃক্ষের নিচে অথবা কোন চায়ের দোকানে সব জায়গায় আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে ওঠে আতিকুল ইসলাম। এলাকার মুরুব্বিরা খালেক মাস্টারকে পরামর্শ দেয় আতিকুলকে কোন কাজে লাগিয়ে দিতে।

কিন্তু আতিকুলের ছিল বড় হওয়ার দৃঢ় ইচ্ছে। যা বুজতে পেরেছিলেন মানুষ গড়ার কারিগর স্কুল মাস্টার খালেক। নিজের বিদ্যালয়েই ভর্তি করালেন প্রতিবন্ধী আতিকুলকে। প্রতিদিন কোলে করে স্কুলে নেওয়া এবং ছুটির পর কোলে করে বাসায় নিয়ে আসা খালেক মাস্টারের প্রাত্যহিক জীবনের রুটিন হয়ে ওঠে। তার এই অক্লান্ত পরিশ্রম ও ছেলের ইচ্ছে শক্তির কাছে সফলতা ধরা দিতে বাধ্য হয়।

এসএসসি’তে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৪.৫০ জিপিএ এবং এইচএসসি’তে বাণিজ্যিক বিভাগ থেকে ৪.০০ জিপিএ অর্জন করে সকলকে তাক লাগিয়ে জায়গা করে নেয় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০১১-২০১২ শিক্ষাবর্ষে ‘গ’ ইউনিটে মেধা তালিকায় ৩৬ তম স্থান অর্জন করে সকলকে অবাক করে দেয় আতিকুল ইসলাম।

ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে অনার্স এবং মাস্টার্স সম্পন্ন করে ২ ফিট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার এই আতিকুল ইসলাম।

মাস্টার্স সম্পন্ন করার পরপরই নিজ মেধার জোরে ধানীখোলা উজান দাস পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের পদ অর্জন করে নেন।

এই বছরের ৮ই মার্চ সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেন হার না মানা এই মানুষটি। যোগদানের স্বল্পদিনের মাঝেই অর্জন করে নিয়েছেন সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা।

আজ এলাকার তরুণ-তরুণীদের কাছে অনুপ্রেরণার আরেক নাম আতিকুল ইসলাম। এলাকার আনাচে-কানাচে আজও আতিকুল ইসলাম আলোচনার বিষয়বস্তু। তবে পার্থক্য হল, আগে ছিল প্রতিবন্ধী আতিকুল ইসলাম আর এখন সফল আতিকুল ইসলাম।

আপনার মতামত দিন