আমরা অনেক পোলাইট তো তাই কুংফু কারাতে খেলি : তাসিন-তাজিম

সাক্ষাৎকার : টুইন তারকা তাসিন-তাজিম
আমরা অনেক পোলাইট তো তাই কুংফু কারাতে খেলি!

ছোট্ট বন্ধুরা, নিশ্চয়ই ভালো আছো। আর সবসময় ভালো থাকো সেটাই কামনা করি। টুইন শব্দটা নিশ্চয়ই তোমাদের সকলেরই জানা। টুইন মানে যমজ। আজ তোমাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেব ক্ষুদে টুইন তারকা তাসিন এবং তাজিমকে। তারা দু’জনে এ পর্যন্ত অনেক নাটকে অভিনয় করেছে এবং বিজ্ঞাপনের মডেল হয়েছে। তোমরা নিশ্চয়ই তাদের টিভিতে দেখেছো। করোনা পরিস্থিতির কারণে পরিচয়’র হয়ে আজ তাদের অনলাইন সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন শিশুসাহিত্যিক তুফান মাজহার খান-

তুফান: কেমন আছো তোমরা?
তাসিন-তাজিম: আলহামদুলিল্লাহ্, আমরা ভালো আছি।

তুফান: এই করোনায় ভালো আছ কী করে?
তাসিন-তাজিম: আসলে এই সিচুয়েশনে সুস্থ আছি, তাই বলেছি ভালো আছি। কিন্তু মনের অবস্থা ভালো নেই।

তুফান: তা বটে। মনের অবস্থা কারোরই ভালো নেই। তা এখন কীভাবে তোমাদের সময় কাটে?
তাসিন-তাজিম: সারাক্ষণ আব্বু-আম্মুর কাছে করোনার নিউজ শুনি আর এটা বিদায় হওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি। অনলাইন ক্লাস করছি, টুকটাক ছবি আঁকছি আর অনলাইনে সবার সাথে কমিউনিকেশন রাখছি, এইতো।

তুফান: বেশ ভালো। তোমরা যেন কোন ক্লাসে পড়ছো?
তাসিন-তাজিম: মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে (ইংলিশ ভার্সন) তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছি।

তুফান: কার রোল কত? নাকি দু’জনেরই এক?
তাসিন-তাজিম: হা হা হা। দু’জনের একই রোল হয় তা কখনও শুনেছো?

তুফান: না, মজা করে বললাম। আসলে টুইন বলে এরূপ প্রশ্ন অনেকের মনেই আসে।
তা বললে নাতো কার রোল কত? পাশাপাশি হলে না বললেও চলবে।
তাসিন-তাজিম: হ্যাঁ, আমাদের রোল পাশাপাশি। ঘুরেফিরে কেন জানি আমাদের রোল পাশাপাশিই হয়। এটা কিছুটা অদ্ভুত। আমরা ছোটবেলায় আলাদা রুমে বসে এক্সাম দিলেও একজন সি উল্টা করে লিখলে আরেকজনও উল্টা লিখত। পরে টিচাররা এটা আমাদের দেখাত আর হাসত অবাক হয়ে।

তুফান: বাহ্ বেশ! তা অনেক শিশুশিল্পীরাই দেখছি এই করোনার মধ্যেও কাজ করছে। তোমরাও কি করছো? নাকি পুরোপুরি বাসাতেই আছো?
তাসিন-তাজিম: আমরা অনেকদিন কাজ অফ রেখেছিলাম। এখন সীমিত আকারে সব প্রোটেকশনসহ ২/৩ টা কাজ করেছি। তাও ২ টা বাসা থেকেই। শর্ট টাইমের। লং শ্যুট এড়িয়ে যাচ্ছি।

তুফান: এটা ভালো। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিরাপদে থাকাই উত্তম। আচ্ছা, চেহারায় একটা তিল ছাড়া তোমাদের দু’জনের মধ্যে কি আর কোনো অমিল আছে? আই মিন শারীরিক দিক থেকে।
তাসিন-তাজিম: হ্যাঁ, আছে। তাসিন ২ মিনিটের বড়। তাই ওর ওজন ১ কেজি বেশি। হা হা হা।

তুফান: তার মানে আমি এখন তাজিমের সাথে কথা বলছি। তবে উত্তরটা বেশ চমৎকার লেগেছে।
তাসিন-তাজিম: হ্যাঁ, আমি তাজিম। তাসিন একটু কম কথা বলে তাই ওরটাও আমিই বলি। ওর মুখ কম চলে ভাইয়া, হাত-পা চলে বেশি। মানে মারামারি করে বেশি।
তুফান: শুনে হাসি পেলো। আচ্ছা, মানুষ যখন তোমাদের একজনকে অপরজন মনে করে ডাকে বা কিছু বলে তখন কি বিব্রত হও?
তাসিন-তাজিম: না, বিব্রত হই না। এখন বরং মজাই লাগে। দুজনের দুই টাইপের ফ্রেন্ড। মাঝে মাঝে তাসিনের ফ্রেন্ডরা ভুলে আমাকে চকোলেট দেয়, তখন তাদের ভুল ধরিয়ে দিই না, হা হা। নানুও মাঝে মাঝে ভুল করে।

তুফান: বলছিলে তাসিনের হাত-পা চলে বেশি। তা সে কি তোমাকে মারে?
তাসিন-তাজিম: মারামারি তো হয় অনেক। আমরা অনেক পোলাইট তো তাই কুংফু কারাতে খেলি আরকি।

তুফান: মচৎকার তো! স্যরি, আমি আসলে খেই হারিয়ে ফেলছি। চমৎকারকে মচৎকার বলে ফেলেছি।
আচ্ছা, তোমরা কি একজনের শ্যুট অপরজন করে দিয়েছ? আই মিন একজনের পরিবর্তে আরেকজন সেটে গিয়েছ?
তাসিন-তাজিম: এত তাড়াতাড়ি খেই হারিয়ে ফেললে চলবে? হ্যাঁ, আমরা একজনের কাজ আরেকজন করে দিয়েছি। একটা বাইসাইকেলের বিজ্ঞাপনে দুজনেই সেটে ছিলাম। তাসিনের চোখে ধূলা গিয়েছিল, ড্রোন দিয়ে শ্যুট হচ্ছিল। পরে ডিরেক্টর আঙ্কেল ওকে রেস্ট নিতে বললেন আর আমাকে বাকি শ্যুটটা করতে বলেছিলেন।

তুফান: ওয়াও! এটা তো দারুণ অভিজ্ঞতা। তোমাদের মনে হয় অনেক সময় নিয়ে ফেলছি। আর দু-একটি প্রশ্ন করব। বিরক্ত হচ্ছ না তো?
তাসিন-তাজিম: না ভাইয়া, একদমই না। লকডাউনে তুমি সকল প্রশ্ন ওপেন করতে পার, বাট ৯ বছর জীবনের সব প্রশ্নের উত্তর কি পত্রিকায় ধরবে?

তুফান: তা বটে। তোমাদের বয়স ৯ বছর? নাকি ১৮ বছর?
তাসিন-তাজিম: নয়ও আবার আঠারোও। আলাদা করে ধরলে নয়, একসাথে আঠারো।

তুফান: চমৎকার! সত্যিই দারুণ জীবন তোমাদের। আচ্ছা, এবার বলো তোমরা বড় হয়ে কে কী হতে চাও? নাকি দু’জনেই অভিনেতা?
তাসিন-তাজিম: হ্যাঁ, একটু আলাদা তো আছেই। আমি বড় হয়ে ডাক্তার হতে চাই। যেভাবে ডিজিজ আর ভাইরাস বাড়ছে। কিন্তু তুলনামূলক ডাক্তার তো কম। আর ফ্যামিলিতে একজন ডাক্তার থাকলে সবাই ভরসা পাবে। আর্টটাও কন্টিনিউ করতে চাই।
আমি তাসিন, আমি বিজ্ঞানী হতে চাই। তাতে তাজিমের হেল্পও হবে। আর একটা রোবট বানাতে চাই যেন এরকম করোনার মতো সময়ে তাকে ছেড়ে দিলে সে মানুষের হেল্প করতে পারে। তাকে তো আর ভাইরাস এ্যাটাক করতে পারবে না। অভিনয়টা আসলে এখন শখের বশে করছি, ভালো কিছু কাজ করতে চাই। যার পজিটিভিটি মানুষ মনে রাখে। বাকিটা আল্লাহ্ জানেন। দুয়া করবে।

তুফান: হ্যাঁ, অবশ্যই দুয়া থাকবে তোমাদের জন্য। তোমাদের দুজনের মনের ইচ্ছা পূর্ণ হোক। অনেক অনেক শুভ কামনা এবং ধন্যবাদ জানাচ্ছি টিন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম ‘পরিচয়’ এর পক্ষ থেকে।
তাসিন-তাজিম: তোমাকেও অনেক ধন্যবাদ তুফান ভাইয়া। আর পরিচয়’কেও।

আপনার মতামত দিন