আমরা শিক্ষকের মর্যাদা কতটুকু দিচ্ছি, কতটুকু মানছি শিক্ষককে?

অসুস্থ মস্তিষ্কের শিক্ষার্থীরা সুস্থ হোক
ইস্রাফিল আকন্দ রুদ্র

“শিক্ষক ও ছাত্রের সম্পর্ক হওয়া উচিত বন্ধুর মতো, কিন্তু বন্ধু না”- এ কথাটি আমার এক শিক্ষক আমাকে প্রায়ই বলতো। বন্ধুর ন্যায় কথা বলা ও চলা যায় শিক্ষকের সাথে, আবার অনেক ক্ষেত্রে বন্ধু হতে নেই। শিক্ষককে রাখতে হবে শিক্ষকের মর্যাদায়। যিনি আমাদের শিক্ষাদান করেন তিনিই আমাদের শিক্ষক‌। শিক্ষকের মর্যাদা কতটুকু তা আমরা প্রাচীন গল্প ও কবিতাগুলো থেকে জানি, গুরুজনদের কাছ থেকে জানতে পারি। বর্তমানে আমরা শিক্ষকের মর্যাদা কতটুকু দিচ্ছি, কতটুকু মানছি শিক্ষককে?

“নেশা করতে নিষেধ করায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশে এক স্কুল শিক্ষককে জনসম্মুখে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। নির্যাতনের শিকার রঘুনিলী মঙ্গলবাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক আইয়ূব আলী (২৮)। তাকে মারধর করেছে ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছাব্বির হোসেন ও তার স্বজনরা।
ছাব্বির উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের বিপাচান গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। মঙ্গলবার সকালে পৃথক দুটি স্থানে হামলার শিকার হন ওই শিক্ষক।”(দৈনিক ইত্তেফাক,২৫ জুন ২০১৯)
চিন্তা করা যায় পরিবারের সদস্যরাও এর সাথে জড়িত ছিল? অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র বয়স-ই আর কত! এ বয়সে এতো বড় দুঃসাহস কীভাবে দেখায়! পারিবারিক শিক্ষার অভাব ও পারিবারিক সাপোর্ট তা সহজেই অনুমেয়‌।
আমরা কোন সমাজে বাস করছি! কোন উদ্দেশ্য নিয়ে জীবনযাপন করছি। শিক্ষক আমাদের দ্বিতীয় বাবা-মা, আমরা আমাদের বাবা-মায়ের সম্মান নষ্ট করি, অপমান করি, এ শিক্ষা অর্জন করে আমাদের কী লাভ হবে? দিন যাচ্ছে আর আমাদের মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে। অতীতে শিক্ষককে লাঞ্ছিত করছে এমন নিউজ শোনা যায়নি, শুনলেও হাতেগোনা কয়েকটি। আর বর্তমানে তীব্র আকার ধারণ করছে এ ব্যাধি।
এমনও কাহিনী শুনেছি, শিক্ষক হাতে বেত নিয়ে প্রবেশ করায় শিক্ষার্থী শিক্ষকের হাতের লাঠি ভেঙে ক্লাস থেকে চলে যেতে বলেছে। এর পিছনে কারণ টাকা পয়সার গরম। বড়লোকের সন্তান (সবাই না) আলালের ঘরের দুলালরা এসব করে থাকে বেশিরভাগ। তাদের থাকে ক্ষমতা ও অর্থের প্রতিপত্তি। এজন্য সাহস পায়। বাবা মায়ের উচিত তাদের শাস্তি দেওয়া কিন্তু তারা তা না করে উস্কে দিচ্ছে। ভবিষ্যতে বাবা-মায়ের সাথেও এমন করবে, তখন হয়তো বাবা মায়ের কিছুটা হুঁশ হবে কী করেছিল পূর্বে।

সম্প্রতি মাইলস্টোন কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের জনপ্রিয় এক শিক্ষককে অনলাইন ক্লাসে যাচ্ছেতাই বললেন এক শিক্ষার্থী। এ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। শাস্তি হলো তার? জানা নেই। খুব সম্ভবত হয়নি। সার্টিফিকেট দেওয়ার প্রতিষ্ঠান আছে আমাদের কিন্তু এদের মতো অমানুষদের মানুষ বানানোর প্রতিষ্ঠান নেই কেন? আমরা এদিকটায় ব্যর্থ।
একজন আদর্শ শিক্ষার্থীর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে –
১. শিক্ষকগণের আদেশ-নিষেধ মেনে চলা।
২.সাক্ষাৎ হলে বিনেয়ের সাথে সালাম দিয়ে তাঁদের খোঁজ-খবর নেওয়া।
৩ .শিক্ষক যা শিক্ষা দেন তা মনোযোগ সহকারে শোনা ও পালন করা।
৪.সব সময় শিক্ষকগণের সাথে নম্র, ভদ্র, ও উত্তম আচরণ করা।
৫.শিক্ষকগণ অপছন্দ করেন এমন কাজ না করা।
৬. অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সকল পাপকাজ বর্জন করা
আমাদের সবার মধ্যে এ ছয়টি গুণ থাকা আবশ্যক। কয়জনের মধ্যে তা আছে? বর্তমান প্রেক্ষাপট বলে খুব অল্প সংখ্যক মানুষের মধ্যে এ গুণগুলো বিদ্যমান।আমরা কোনদিকে যাচ্ছি। আমরা যদি এ সমস্যাগুলো থেকে পরিত্রাণ পেতে চাই, প্রথমত পরিবারকে সজাগ থাকতে হবে। একটা শিশু অনুকরণ করে ধীরে ধীরে বড় হয়। পরিবার যা শিখাবে শিশুটি তাই শিখবে। ছোট থেকেই নৈতিকতার শিক্ষা দান করতে হবে। কোনো অন্যায় করলে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না, শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, বুঝাতে হবে।

বলে রাখি অনেকেই হয়তো বলবেন এসব বিষয়ে আমি লেখার কে আর আমিই বা কতটা বিশুদ্ধ? অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে বলি আমি এদিকটায় সতর্ক থাকি সবসময়ই। এ বিষয়টি আমাকে খুব পীড়া দেয় তাই লিখেছি। অসুস্থ মস্তিষ্কের শিক্ষার্থীরা সুস্থ হোক এই প্রত্যাশা করি সবসময়-ই। ধন্যবাদ সবাইকে।

পড়ুন: https://porichoy.net/শিক্ষার্থীদের-সোচ্চার-হত/

আপনার মতামত দিন