আমার নাচ, গান, আবৃত্তি করতে ভালো লাগে : মানহা মেহজাবিন মান্যতা

টিন এবং ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম পরিচয় বরাবরই নতুন নতুন শিশুশিল্পীদের তোমাদের সামনে নিয়ে আসে। যাদের তোমরা টিভিতে দেখে থাকো। তাদের নিয়ে হয়ত তোমাদের মনে জাগে হাজারও প্রশ্ন। যেমন তারা কেমন মানুষ, তাদের কী পছন্দ আর কী অপছন্দ, তাদের কী করতে ভালো লাগে, বড় হয়ে কী হতে চায়, কী খেতে পছন্দ করে, তারা তাদের বন্ধুদের কাছে কেমন ইত্যাদি। তোমাদের এরূপ প্রশ্নগুলোর উত্তর জানানো এবং তাদের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে তোমাদের অবগত করার প্রয়াসেই আমরা এ সাক্ষাৎকারের আয়োজন করেছি। আজ তোমাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেব শিশু অভিনয় শিল্পী মানহা মেহজাবিন মান্যতাকে। যে কিনা প্রাণ লেয়ার কেক, রূপায়ন সিটি, ওয়েফার, মিল্ক ভিটাসহ আরও অনেক টিভিসি ও ফটোশুট করেছে। ও হ্যাঁ আরেকটি কথা আজ (২০ নভেম্বর) মান্যতার জন্মদিন। তাকে পরিচয়’র পক্ষ থেকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
আজ তার পছন্দ, অপছন্দ, ভালো লাগা, মন্দ লাগাসহ অনেক অভিজ্ঞতার কথা শোনাচ্ছেন পরিচয়’র ইয়ুথ কো-অর্ডিনেটর ও শিশুসাহিত্যিক তুফান মাজহার খান।

 

পরিচয়: কেমন আছো মান্যতা?
মান্যতা: ভালো।

পরিচয়: তোমার বয়স কত? কোন ক্লাসে পড়?
মান্যতা: আমার বয়স ৬ বছর। আমি নার্সারিতে পড়ি।

পরিচয়: আচ্ছা, এ পর্যন্ত কতগুলো নাটক, টিভিসি ও ফটোশুট করেছো?
মান্যতা: আমি প্রাণ লেয়ার কেক, রূপায়ন সিটি, ওয়েফার, মিল্ক ভিটাসহ বেশ কিছু টিভিসি ও ফটোশুট করেছি এবং আরও কিছু কাজ করেছি যা এখনও অনইয়ারে আসেনি।

পরিচয়: অল্প বয়সে এতগুলো কাজ কীভাবে সম্ভব হলো?
মান্যতা: ছোটবেলা থেকেই আমার নাচ, গান, আবৃত্তি করতে ভালো লাগতো তাই পড়াশোনার পাশাপাশি আমি এসব চর্চা করতাম। তাছাড়া আমার বাবা-মাও আমাকে উৎসাহ দিতেন।

পরিচয়: প্রথম কার মাধ্যমে কাজে প্রবেশ করেছিলে?
মান্যতা: রুবাইয়াৎ এবং শান মামার মাধ্যমে আমি মিডিয়া জগতে কাজ শুরু করি।

পরিচয়: বেশ, লেখাপড়া এবং কাজ এ দুটো একসাথে সামলাতে হিমশিম খেতে হয়?
মান্যতা: হ্যাঁ, লেখাপড়ার পাশাপাশি অবসরে এসব কাজ করার চেষ্টা করি। আর স্কুল বন্ধ থাকলে এসব কাজ করতে সুবিধা হয় তবে পরীক্ষার সময় অনেক ভালো কাজ ছেড়ে দিতে হয়।

পরিচয়: বর্তমান করোনাকালে কীভাবে সময় কাটাচ্ছো?
মান্যতা: করোনাকালে স্কুল বন্ধ থাকায় প্রচুর সময় পেয়েছি তাই এ সময় কিছু নাচ তুলেছি, গান গেয়েছি, বাগানে মাকে সাহায্য করেছি, কিছু রান্নার রেসিপি শিখেছি, অনলাইন বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছি এবং মিঃ নুডলস আয়োজিত ‘শিশুর প্রতিভা বিকাশ’ ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী নির্বাচিত হয়েছি এবং একটি সুন্দর উপহার পেয়েছি। বাবার সাথে দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের সাহায্য করেছি এবং জেনেছি কিভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাফেরা করতে হবে এবং সচেতন হতে হবে। এছাড়াও নিয়মিত অনলাইন ক্লাস করেছি।

পরিচয়: করোনাকালে কি কোনো শুট করেছো?
মান্যতা: হ্যাঁ, প্রাণ লেয়ার কেক এবং রূপায়ন সিটির শুট ছিল। তবে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুট করা হয়েছে।

পরিচয়: হ্যাঁ সেটাই আগে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে যতটুকু কাজ করা যায়। কারণ আগে তো আমাদের বাঁচতে হবে। এ মহামারী থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বিকল্প নেই। যেহেতু এখনো আমরা করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারে পুরোপুরি সক্ষম হতে পারিনি। এবার বলো, স্কুলে কতজন বন্ধু আছে এবং বন্ধুদের মিস করো কিনা?
মান্যতা: ক্লাসের সবাই তো বন্ধু। তবে তিন জন বেস্ট ফ্রেন্ডকে অনেক মিস করি। বিশেষ করে টিফিন পিরিয়ডে বন্ধুদের সাথে আড্ডার সময়টাকে খুব মিস করি।

পরিচয়: তোমার প্রিয় ব্যক্তি কে?
মান্যতা: আমার প্রিয় ব্যক্তি আমার বাবা-মা তবে আমার নানি আমাকে অনেক ভালোবাসে তাই প্রিয় ব্যক্তির তালিকায় তার নামও যোগ করতে চাই।

পরিচয়: তোমার প্রিয় জায়গা কোনটি?
মান্যতা: আমার প্রিয় জায়গা কক্সবাজার। সমুদ্র আমার খুব প্রিয়। সমুদ্রের পানিতে গোসল করতে এবং বালু নিয়ে খেলতে অনেক মজা লাগে।

পরিচয়: আর প্রিয় খাবার কোনটি?
মান্যতা: আমার প্রিয় খাবার নুডলস তবে চকোলেট ও আইসক্রিমও খুব পছন্দের।

পরিচয়: অবসরে কী করতে ভালো লাগে?
মান্যতা: অবসরে নাচ করতে ভালো লাগে। মজার মজার গল্প পড়তেও খুব ভালো লাগে। আর সময় পেলে ইউটিউবে কার্টুন দেখি।

পরিচয়: সাগর, নদী, পাহাড় কোনটি বেশি প্রিয়?
মান্যতা: পাহাড়।

পরিচয়: বড় হয়ে তোমার যদি মানুষের জন্য কোনো ভালো কিছু করার সুযোগ হয়, তাহলে তুমি কী করতে চাও?
মান্যতা: আমার একটি হাসপাতাল করার ইচ্ছা আছে, যার মাধমে আমি মানুষের জন্য কিছু করার সুযোগ পাবো।

পরিচয়: বড় হয়ে কী হতে চাও?
মান্যতা: আমি ডাক্তার হতে চাই। মানুষকে সেবা করতে পারলে অনেক ভালো লাগবে।

পরিচয়: টিভিতে কাজ করায় তোমার বন্ধুদের প্রতিক্রিয়া কী? তারা তোমার সাথে কেমন আচরণ করে?
মান্যতা: আমি কাজ করায় আমার বন্ধুরা অনেক খুশি। অনেক নতুন নতুন কাজের অভিজ্ঞতা হয়। বন্ধুরা অনেক ভালো এবং আমরা অনেক মজা করি।

পরিচয়: তোমাকে কি শিক্ষকরা অন্য সবার থেকে একটু আলাদাভাবে মূল্যায়ন করে? শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া কেমন?
মান্যতা: হ্যাঁ, শিক্ষকরা অনেক স্নেহ করে ও ভালোবাসে। তারা বলে তুমি আমাদের স্কুলের গর্ব। তারা ভবিষ্যতে আরও ভালো করার জন্য উৎসাহ দেয়।

পরিচয়: পরিচয় (porichoy.net) সাইটটি কি কখনো ভিজিট করেছো? যদি করে থাকো তাহলে এ সাইটটি ভিজিট করে তোমার কেমন লেগেছে?
মান্যতা: হ্যাঁ, পরিচয় সাইটটি আমি ভিজিট করেছি। এখানে অনেক নতুন নতুন প্রতিভাবানদের তুলে ধরা হয়। পরিচয় সাইটটি আমার অনেক ভালো লেগেছে যা আমি আমার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করেছি।

পরিচয়: পরিচয়‘কে সময় দেওয়ার জন্য তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
মান্যতা: পরিচয়কে ধন্যবাদ জন্মদিনে আমার সাক্ষাৎকার নেয়ার জন্য। অনেক অনেক শুভকামনা।

আপনার মতামত দিন