আলথুসার : মাসরুর আরেফিনের সবচেয়ে শক্তিশালী গদ্য

মৃধা আলাউদ্দিন

বর্তমান বিশ্বে করোনা ভাইরাসই সবচেয়ে আলোচিত বিষয় এবং এই করোনাও নোংরা রাজনীতির সৃষ্টি। মানুষের ক‚টচাল। কে হবেন বিশ্বের প্রথম মোড়ল, এই নিয়ে পৃথিবীতে এখন মৃত্যুর মিছিল। বাংলাদেশেও হানা দিয়েছে এই করুণ মৃত্যু। করোনা ভাইরাস। মানুষ এখন দিশাহারা। যদিও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর কিছুটা মোড় ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বিশ্বরাজনীতি। পতন হয়েছিল মোড়লে থাকা জার্মানির। তারপরও নানা চড়াই-উতরাই অতিক্রম করে উন্নতির পথে এগিয়ে চলছিল আমাদের এই পৃথিবী। ঠিক তখনই আবার ফিরে এলো ভয়ঙ্কর ভাইরাস করোনা। পৃথিবীকে এর আগে কখনো দেখতে হয়নি লাশের এতো মিছিল। একটু বাঁচার আশায় ইউরোপ-আমেরিকাও চেয়ে আছে অসহায়ের মতো। উন্নতমানের ক্ষেপণাস্ত্র, বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার, পারমাণবিক শক্তি কিংবা অন্যকোনো কিছুই তাদের বাঁচাতে পারছে না তাদের। পুরো বিশ্ব আজ এক অনিশ্চিত ও বীভৎস পরিস্থিতির মধ্যে ডুবে আছে। মৃত্যুপুরীতে রূপ নিয়েছে ইতালি, স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র ও লন্ডন। একইসঙ্গে সংক্রমণের হটস্পট হয়েছে নিউইয়র্ক, ম্যানহ্যাটন। আর ভাইরাস সংক্রমণে চীন, ইতালিকে পেছনে ফেলে এক লাফে সর্বোচ্চ স্থানে উঠে এসেছে ৫০০ বছর আগে আরব বণিকদের কাছে শোনা, ‘ভারত উপমহাদেশ’ নামে একটি সুজলা-সুফলা দেশ আছে, সেই যুক্তরাজ্য। নিজেদের দেশকে, নিজের দেশের মানুষজনকে সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে বিশ্ব মোড়ল, ক্ষমতাশালী এক দাম্ভিক ট্রাম্প। ফলে শুধু নিজেদের দেশই নয় বরং তার নেতৃৃত্বে থাকা অন্য দেশের পাশেও দাঁড়াতে পারছে না যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্র। সে কারণেই অবনতি শুরু হয়েছে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সব সম্পর্কের। এই সুযোগ আলিবাবা নেবে কিনা আমরা জানি না। যেই নিক না কেনো, আমরা চাই পৃথিবীর মানুষ এই মৃত্যুর মিছিল থেকে ফিরে আসুক। পৃথিবীতে আবারো নেমে আসুক শান্তির পায়রা।
কমিউনিস্ট দেশগুলো ছাড়াও প্রজাতান্ত্রিক, নিরপেক্ষ ও পুঁজিবাদী দেশগুলোও এমন মহামারির দিনে আলিবাবাকে পাশে পেয়ে বোধ করি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। তবে এটা সত্য, করোনা-পরবর্তী বিপর্যস্ত পৃথিবীতে মোড়লতার লড়াই নিয়ে ইউরোপ-আমেরিকা-রাশিয়া-চীনের মধ্যে শুরু হবে নতুন স্নায়ুযুদ্ধ। এই যুদ্ধে কোন দেশ জয়ী হবে বলা কঠিন। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে চীন অনেকটা এগিয়ে থাকবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। পরবর্তী বিশ্বকে নেতৃত্ব দেয়ার লালসায়, মোড়লগিরির নগ্ন চেতনায় চীন এই ভাইরাস সৃষ্টি করেছে এই কথা বারবার বিশ্বকে মনে করিয়ে দিতে চাইছে আমেরিকা-ইউরোপ। বিশ্বে হয়তো আবির্ভাব হবে নতুন কোনো মোড়লের। কিন্তু মানুষ চায় শান্তি। ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে নেতৃতের প্রচণ্ড কাঠামোগত ওলট-পালট হবে এটা বলা যায়। কিন্তু গ্লোবাল লিডারশিপ অন্য জিনিস। বিশ্ব মোড়ল কারা থাকবেন তা দেখা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।
নোংরা ও অশান্তিপ্রিয় রাষ্ট্রীয় নীতিমালাগুলো এবং এগুলোর ফলে সৃষ্ট ফলাফলগুলোর মধ্যে খুব দুর্বল কাজ-কর্মের সম্পর্ক থাকে, কেননা এখানে প্রচুর মোড়লের উপস্থিতি; এত বেশি মোড়লদের উপস্থিতির কারণে কোনো রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতিমালার ভালো কোনো ফলাফল নির্ধারণ করা জটিল ও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। অনেকের মতো এই জটিল ও অনিশ্চিত ফলাফলের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মানুষগুলো মধ্যে ফরাসি দার্শনিক লুই আলথুসারও একজন। আলথুসারের জন্ম ১৯১৮ সালের ১৬ অক্টোবর ফ্রান্স অধ্যুষিত আলজেরিয়ায়। পড়ালেখার জন্য তিনি দেশ ছেড়ে ফ্রান্সে আসেন। পরবর্তীতে স্ট্রাকচারালিস্ট ঘরানার সাথে যুক্ত হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আলথুসার কিছুদিন জার্মানদের ‘কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে’ বন্দি ছিলেন এবং সে সময় তিনি কমিউনিস্ট সহবন্দিদের সংস্পর্শে আসেন এবং তাদের দ্বারা প্রভাবিত হন। নিজেও ফরাসি প্রতিরোধ আন্দোলনে অংশ নেন এবং ১৯৪৮ সালে ফ্রান্স কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। কিন্তু দলে যোগ দিলেও দলের মধ্যে তিনি ভিন্নমতাবলম্বী হিসেবে পরিচিতি পান। জ্যাঁক দেরিদা এবং মিশেল ফুঁকো তার ছাত্র ছিলেন। আলথুসার ও তার কিছু তরুণ শিক্ষার্থী মিলে মার্কসীয় তত্ত¡চিন্তায় মনোনিবেশ করেন এবং প্রচুর বিতর্কের জন্ম দেন। লুই আলথুসার ১৯৪৭ থেকে ১৯৮০, এই দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক রোগে ভোগেন। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম যেমন ভুগেছিলেন আমাদের এই দেশে। কেউ কেউ বলেন তার এই মানসিক রোগের উৎস জার্মান শিবিরে বন্দিত্ব ও নির্যাতন। মানসিক অসুস্থতা নিয়েই ১৯৮০ সালে তিনি তার স্ত্রীকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করেন। পরবর্তীতে তিনি বলেছিলেন, স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা থেকেই এবং অসুস্থ স্ত্রীর অনুরোধে তিনি এমনটি করেছিলেন। আলথুসারের অসুস্থতা, দর্শনে তার অবদান এসব বিবেচনায় নিয়ে অবশেষে তাকে মানসিক রোগ নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো হয়। ১৯৯০ সালের ২২ অক্টোবর লুই আলথুসার মারা যান।
ভাবাদর্শ, মতাদর্শ বা অধিবিদ্যা হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও মূল্যবোধের সমষ্টি যা একজন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিশুদ্ধ জ্ঞানতাত্তি¡ক যুক্তির বাইরে গিয়ে ধারণ করে। আলথুসারের ভাষায় ভাবাদর্শ হচ্ছে কোনো কিছুর কাল্পনিক অস্তিত্ব বা ধারণা। যা অস্তিত্বের বাস্তব অবস্থাগুলোর সাথে সম্পর্কিত এবং এর মাধ্যমে তিনি অশান্তিপ্রিয় মানুষের অযৌক্তিক আবেগের বিরোধী ধারণার একটি যুক্তিসঙ্গত ব্যবস্থা প্রকাশের চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত তিনি তাদের বিপক্ষে কথা বলেন। অন্তত মোড়লরা তাই মনে করতেন এবং এক সময় আলথুসার এই বিশ্ব মোড়লদের নিয়ে কথা বলতে লাগলেন, লিখতে থাকলেন বইÑ ‘ফর মাক্স’ তার বিখ্যাত রচনা। আলথুসারকে নিয়ে বাংলা ভাষায় ২০২০ সালে লেখা হলো এক জটিল ও জ্যামিতিক উপন্যাস। লিখলেন এ সময়ে ভিন্নস্বরেভেজা কবি ও কথাশিল্পী মাসরুর আরেফিন। মাসরুর যখন লিখতে বসেন, তখন তার কলমকে শানিত করেই বসেন। তিনি বাংলা ভাষায় নির্মাণ করেন এক গ্লোবাল ভিলেজ।

২.
২০১৯ সালে মাসরুর আরেফিন ‘আগস্ট আবছায়া’ লিখে বাংলা সাহিত্য জগতে একটা তুমুল হইচই ফেলে দেন। ৩২৮ পৃষ্ঠার বইটি পড়ে আমি আলোচনায় বলেছিলাম। এটি একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস। কালের খেয়া। যা আপনার সংগ্রহকে সমৃদ্ধ করবে। বোধকে করবে শানিত। ‘আলথুসার’ নিয়েও আমি একই কথা বলতে চাই। আলথুসার একটি মাস্টারপিস। আলথুসারের কাহিনি, ভাষার সাবলীল বর্ণনা, বিদেশি শব্দের ব্যবহার ও ঘটনার ঘনঘটা আমাদের তাই প্রমাণ করে। ৩৪৪ পৃষ্ঠার আলথুসার পড়েও আমার মনে হয়েছে, মাসরুর আরেফিন কোনো আগন্তুক নন। তিনি বাংলার দোঁআশ, বেলে ও পলি মাটির ঘ্রাণে বেড়ে ওঠা একচজন শব্দ-নাবিক। তিনি বিশ্ব ভ্রমণ করা এক পর্যটক ইবনে বতুতা। অথবা সাত সাগরের মাঝি। মাসরুর ইংরেজি শব্দকে এতোটাই নিপুণতার সঙ্গে ব্যবহার করেছেন, আমাদের বোঝার উপায়ই নেই কে কার অলঙ্কার। এ মুহূর্তে আমার মনে পড়ছে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে। বাংলা সাহিত্যে কবি কাজী নজরুলই প্রথম উর্দু-ফারসি শব্দ, বাক্যের পর বাক্য সাবলীল, সুন্দর-ষড়ৈশ্বর্যই মালায় বিনির্মাণ করেছেন। তার আগে-পরে অনেকই উর্দু-ফারসি শব্দ ব্যবহার করেছেন। কিন্তু তার মতো এতোটা জোড়ালো হয়নি সেসব বাক্য বা শব্দের সাগর-সমুদ্র। তাজমহল। নজরুল বলেছেন আলগা করো গো খোপার বাঁধন/দিল ওহি মেরা ফাস গায়ি/বিনোদ বেনির জরিন ফিতায়/আন্ধা ইশক মেরা কাস গায়ি…/দেহেরও দেউরিতে বেড়াতে আসিয়া/অউর নেহি ওয়াপাস গায়ি…। ফররুখ আহমদও ব্যবহার করেছেন উর্দু-আরবি-ফারসি শব্দ। তিনিও এ ব্যাপারে মুন্সীয়ানার দাবিদার। তার ‘সাত সাগরের মাঝি’ আমাদের তাই প্রমাণ করে। নিমাই ভট্টাচার্য্যরে উপন্যাস ‘ডিফেন্স কলোনি’-তেও প্রচুর বাংলা ও ইংরেজি শব্দ আছে। আমার মনে হয় এ শব্দগুলো নিমাইকে আলাদা বৈশিষ্ট্য দিয়েছে। তার মেম সাহেব পড়ে আমি বার বার কেঁদেছি।
দশ-বারো বছর আগে মাসরুরের কাব্য ‘ঈশ্বরদী, মেয়র ও মিউলের গল্প’ পড়ে আমার মনে হয়েছিল, দেশ স্বাধীনের পর এমন শ্লেষ মিশ্রিত রাজনৈতিক কবিতা আর লেখা হয়নি। সাধারণের চেনাজানা পথে হাঁটেন না কবি ও কথাশিল্পী মাসরুর আরেফিন। আকাশ পরী বা হুর-গেলমানের মতো তিনি কখনো হেঁটে যান বরিশাল, ঝালকাঠির মেঠোপথ ধরে, আবার সাতক্ষীরার …। আবার লন্ডন বা প্যারিসের রাস্তা ধরে হাঁটতে থাকেন কবি। আবার চলে যান ম্যানহ্যাটনের কোনো শুঁড়িখানায়। চা বা কফিতে চুমুক দিতে দিতে পড়তে থাকেন অন্ধ হোমারের মহাকাব্য ‘ইলিয়াড’ বা নোবেল বিজয়ী কবি স্যাঁ-পের্সের মহাকাব্য ‘আনাবাজ’। কখনো বা নীল পরীর মতো উড়াল মারেন মেলবোর্নের ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে।

৩.
‘আলথুসার’ উপন্যাসের শুরুটা হয় এভাবে যে গল্পের নায়ক, তরুণ ব্যাংকার ট্রেনিং নিতে লন্ডন যায় এবং সেখানে তিনি লন্ডনের অক্সফোর্ড স্ট্রিটের কোথাও আলথুসারের অবস্থানকালীন বাড়িটিকে খুঁজে বের করা ও স্বচক্ষে দেখা। সময়টা ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি একটা সময়। লন্ডন শহরজুড়ে তখন চলছে বড় পরিবেশবাদী দল ‘এক্সটিংকশন রেবেলিয়ন’-এর তীব্র আন্দোলন। অন্দোলনকারীদের প্রতীকী ‘পিংক বোট’ শহরের রাস্তায়, তাদের মূল স্লোগান যে ‘টেল দ্য ট্রুথ’। কী সেই ট্রুথ? তারা বলছে পরিবেশ ধ্বংসকারী এই নিপীড়নবাদী দুনিয়া বদলাতেই হবে, নয়তো এ গ্রহ নিশ্চিহ্ন হবে। যেমন বর্তমান করোনা ভাইরাস ও তারপরবর্তী দুর্ভিক্ষে পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ প্রাণ হারাবে। আলথুসারের নায়ক পরিবেশ ধ্বংসকারী এই নিপীড়নবাদীদের এই আন্দোলনের ইস্যুর সঙ্গে, সে বুঝতে পারছে তার নিজের ভেতরেও আছে দূর অতীতের সবুজ-শ্যামল ঢাকা, বরিশালের অনেক বেদনা-বিধুর স্মৃতি, সাতক্ষীরার আলো-হাসি-কান্না মেশানো স্মৃতি, প্রিয় কবি জীবনানন্দ দাশের সেই বিখ্যাত, আজকের মৃতপ্রায় ধানসিঁড়ি নদীটার হাহাকার। নিজের সঙ্গে এই বোঝাবুঝি থেকেই নায়ক এক ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে, পৃথিবীর ভালোর জন্য কাজ করবেন তিনি। নজরুল-জীবনানন্দের রূপসী বাংলাকে ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি আজীবন লড়ে যাবেন। কিন্তু বিরুদ্ধপক্ষ কেনো তাকে করতে দেবে সেই লড়াই? অবিশ্বাস্য ঘূর্ণির মধ্যে পড়ে নায়ক এখন বুঝতে চাইছে, পৃথিবী বদলানো বিষয় সম্পর্কে আলথুসার কী কী বলতে চেয়েছিলেন এবং আজকের ভায়োলেন্স কেনো ও কতোটা মিলেমিশে আছে আমাদের সবার পৃথিবীর ভালো করার অস্বচ্ছ স্বপ্নগুলো ভেতরে।
সে যাই হোক, স্টেশনে নামতেই নায়ককে পাকড়াও করে লন্ডনের পুলিশ, ভাবে সে ওই পরিবেশবাদীদের আন্দোলনে যোগ দিতে এসেছে। অথচ, নায়ক ‘এক্সটিংশন রেবেলিয়ন’ নামের পরিবেশবাদীদের সম্পর্কে ওই পুলিশের মুখেই প্রথম শুনল, আর সে জানতোই না সামনে অক্সফোর্ড স্ট্রিটে তারা এক বিশাল সভা ডেকে বসেছে। পুলিশের হাত থেকে মুক্ত হয়ে নায়ক ও তার দুই আত্মীয় আচমকাই গিয়ে পড়ে পরিবেশবাদীদের আন্দোলনের ভেতরে, আর লেখক জড়িয়ে পড়েন সে আন্দোলনের সাথে এবং এক সময়, সেখানে মেগান নামের এক মেয়ে তার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে এসে ঠেকে, তবে তার মূল আগ্রহ এই কৌত‚হলোদ্দীপক পরিবেশবাদীদের আন্দোলনের পেিরাধা ব্যক্তি প্রফেসর স্যামুয়েল ও উইলিয়াম স্কিপিং নামের কিছু ব্যতিক্রমী মানুষজনের ওপর। পরিবেশবাদীদের আন্দোলনের বিপক্ষে এক জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিতে গিয়েই যারা ফেঁসে যায় এবং এক সময় স্যামুয়েল তাকে টানতে টানতে নিয়ে যায় বাইরে, এক প্রতœঘরে। যেখানে বিশাল টেবিলের ওপর শায়িত এক তিমিÑ আর সেটাই ওই প্রজাতির সর্বশেষ তিমি, যা কিনা মানুষের মতো কথা বলে। এভাবে গল্প এগুতে থাকে আলথুসারের মূল কাহিনি হলো লন্ডন শহর, যা আমাদের এই দেশের মানুষের চেনাশোনা গণ্ডির এতোটাই বাইরে, আপনি পড়লে মনে হবে বিদেশি কোনো উপন্যাস পড়ছেন। ব্রিটিশ চরিত্রগুলো এতো নিখুঁত, আর মাসরুর আরেফিনের ভাষা এতো সাবলীল আমার মনে হয়, এটা একমাত্র উন্নত বিশ্বের লেখকদের পক্ষেই লেখা সম্ভব। অর্থাৎ আমরা বলতে চাই, এক্সটিংশন রেবেলিয়নের পরিবেশসংক্রান্ত বক্তৃতা কেবল কৌত‚হোদ্দীপক নয়; আমাদের জানার চৌহদ্দির বাইরে, বেশ জ্ঞানগর্ভ কঠিন কিছু, যা মানুষকে শেখায়। ডুবিয়ে রাখে ভাবনার অতল গভীরে। মেগান, জোসেফ, বুড়ো ক্লেইজ, মলিন্ডা, পুলিশ কনস্টেবল মার্ক ও ফারজানাদের চরিত্র সাজাতে মাসরুরের বেশ ভালোই অধ্যয়ন করতে হয়েছে। মাসরুর আরেফিনের আলথুসারে আরেক মহান চরিত্র আমেরিকার মাকাহ উপজাতির নেতা স্পেন্সার সভেক। এই রেড ইন্ডিয়ান উপজাতি মানুষটি তিমি শিকার করেই জীবনধারণ করেন। এখানে আরেক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র প্রফেসর স্যামুয়েল (যা আমি আগেও বলেছি), যিনি স্কটল্যান্ডের এক ইউনিভার্সিটিতে রাজনৈতিক অর্থনীতি বিষয়ে পড়ান। তিনি আলথুসারের একজন কট্টর সমালোচক। বস্তুত আলথুসারের বিপক্ষের সমস্ত কথা, তীব্র সমালোচনাগুলো লেখক, নতুন ব্যাংকার আমাদের স্যামুয়েলের জবান দিয়েই শোনান। তাদের ওই তীব্র বাদানুবাদ কখনো কখনো আমাদের কাছে ভারি ঠেকতে পারে, মনে হতে পারে, এ কোনো প্রবন্ধ বা সাহিত্য-সমালোচনা পাঠ করছি কিনা। কিন্তু না, এ মাসরুর আরেফিনের ‘আগস্ট আবছায়া’র মতোই আরেকটি ঐতিহাসিক উপন্যাস। আমাদের বাংলাসাহিত্যে নতুন মাস্টারপিস। অর্থাৎ, আমি বলতে চাই, আলথুসার এক বসায় লেখা কোনো ফালতু উপন্যাস নয়। অথবা আমাদের দেশের ‘ঈদসংখ্যা’র কোনো প্রায়োপন্যাস নয়; আলথুসার মাসরুরের আরেফিনের নতুন এক মাস্টারপিস। এখানে সাত-সমুদ্র পার হয়ে, মহাসাগর পাড়ি দিয়ে পৃথিবীর নিপীড়িত মানুষ, ধানসিঁড়ি ও সুন্দরবনকে রক্ষার জন্য লড়ছেন নায়ক। যা আমরা মহাকাব্যে দেখে থাকি।
৪.
রবীন্দ্রনাথের সোনার তরী কাব্যগ্রন্থের ‘ইচ্ছা করে অবিরত আপনার মনোমতো/গল্পলিখি একেকটি করে।/ছোট প্রাণ, ছোট ব্যথা, ছোট ছোট দুঃখ কথা/নিতান্তই সহজ সরল;/সহস্র বিস্মৃতিরাশি প্রত্যহ যেতেছে ভাসি/তারি দুচারিটি অশ্রুজল।/নাহি বর্ণনার ছটা, ঘটনার ঘনঘটা,/নাহি তত্ত্ব নাহি উপদেশ।/অন্তরে অতৃপ্তি রবে সাঙ্গ করি মনে হবে/ শেষ হয়ে হইল না শেষ।’ এই কবিতাকে বাংলাভাষার কিছু আতেলেকচুয়াল, আবাল পণ্ডিতরা মনে করে ছোটগল্পের সংজ্ঞা। কিন্তু তা নয়; এটা স্রেফ একটা কবিতা। অনন্ত যারা রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছ পড়েছেন। তারা আমার সাথে একমত হবেন। কেননা, রবীন্দ্রনাথের গল্পগুলোতে ঘটনার ঘনঘটা, তত্ত¡-উপদেশ, অশ্রুজল এতো বেশি যে, আমি ভাবনার অতল গহ্বরে হারিয়ে যাই। একটা মানুষ কীভাবে এমন করে একটার পর একটা থরে থরে সাজিয়ে পরিবেশন করেন? সে কি মানুষ না, অন্যকিছু। রবীন্দ্রনাথ দেবতা। মাসরুর আরেফিনও এমনিভাবে ঘটনার পর ঘটানা, তত্ত¡-উপদেশ, বিস্মৃতি জলরাশি এমনভাবে আলথুসার উপন্যাসে ঢেলে সাজিয়েছেন, যা পড়ে আমরা থান্ডার না হয়ে আর পারছি না। তবে এখানে, প্রেম-ভালোবাসা একটু কমই আছে। মাসরুরের এ উপন্যাসটির বিষয়বস্তু জটিল। উপন্যাসে যারা প্রেমপরিণয়বিরহ খোঁজেন, তারা মনে হয় একটু হতাশ হবেন। আলথুসার প্রবল যুক্তিবাদী অথচ সাগর-সমুদ্রস্রোতের মতো প্রবাহমান এক জটিল উপন্যাস।

৫.
মাসরুর আরেফিনকে নিয়ে লিখেছেন প্রথিতযশা কবি, কথাসাহিত্যিকও দেশের নাট্য ব্যক্তিত্বরা। লিখেছেন, কথাশিল্পী হাসনাত আবদুল হাই, নাট্য ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ, মির্জা ইয়াহিয়া, আশানুর রহমান, কামরুল হাসানসহ আরো অনেকে
রাতে ঘুম না আসায় আবার মাসরুর আরেফিনের ‘আলথুসার পড়া শুরু করলাম। প্রথম পাঠে মুগ্ধ হয়েছিলাম কাহিনির ঠাসবুনন আর কশলী বর্ণনাভঙ্গির জন্য। এবার অবাক হলাম ভাষা ব্যবহারে তার অনন্য দক্ষতা দেখে। এমন জটিল অথচ প্রাঞ্জল ভাষা যার আয়ত্বে, তিনি ভাষার কারিগর। এই ভাষা কোথাও থামে না, ছুটে চলে বল্গাহারা ঘোড়ার মতোন আপন বেগে। এই ভাষার সঙ্গে তুলনীয় টমাস পিনচানের লেখা, যিনি ২০ বছর আগে নোবেল প্রাইজ পাবেন বলা হয়েছিল। কাহিনির ঠাসবুনন, বর্ণনাভঙ্গি আর ভাষার ব্যবহারে মাসরুর আরেফিনকে বলা যায় এই মুহ‚র্তে বাংলাভাষার সবচেয়ে শক্তিশালী কথাশিল্পী। হাসনাত আবদুল হাই
মাসরুর আরেফিন ছুটছে প্রচণ্ড গতিতে। তার লেখা সাম্প্রতিক উপন্যাস আলথুসার-এর পাঠক আমি, ছুটছি পেছন পেছন। জটিল সে ছোটা।… গত বছর আগস্ট আবছায়া পাঠে চমকে উঠেছিলাম।… উচ্ছ¡সিত আমি বলেছি বিভিন্ন আয়োজনে মাসরুর আরেফিন বাংলা সাহিত্যের এ সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লেখক। আমার অনুমান যে সঠিক, মাসরুর সে কথা তার আলথুসার-এ আবারো প্রমাণ করেছে। নাসির উদ্দীন ইউসুফ
মাসরুর আরেফিনকে নিয়ে কামরুল হাসান তার এক লেখায় বলেন, ‘আলথুসার পড়তে পড়তে আমার মনে হয়েছে আমি হোর্হে লুইস বোর্হেস পড়ছি, কখনো মনে হয়েছে প্রবন্ধ পড়ছি, কখনো উপন্যাস। এটি মাসরুরের শক্তি হতে পারে, হতে পারে তার অন্যতম দুর্বলতা। আর এই যে একটি দিনের ভিতর এত ঘটনার ঘনঘটা, তা তো মনে পড়িয়ে দেয় গত শতাব্দীর অনেকের মতেই শ্রেষ্ঠ উপন্যাস জেমস জয়েসের ইউলিসিসের কথা। মাসরুরকে আমি বলবো ডিটেলিংয়ের মাস্টার। কল্পনার অকল্পনীয় বিস্তার তার লেখায়, আর ফিকশন তো কল্পনাই। উত্তম পুরুষে লিখিত বলে তা হয়ে ওঠে বিশ্বাসযোগ্য।
‘আলথুসার’-কে আমি বলবো একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। রাষ্ট্র কীভাবে নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণ করে, তার সেনাবাহিনী, পুলিশ, কর্মচারী দিয়ে, আবার তার প্রোপাগান্ডা, মগজধোলাই, সূ² প্রচারণা দিয়ে, মাসরুর তাকে উন্মোচিত করেন এ উপন্যাসে। একদল পরিবেশবাদীর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে উঠে আসে রাষ্ট্রের নিপীড়ন, ভেতরকার কলকব্জা আর এমনকি এইসব পরিবেশবাদী আন্দোলনের গতিপ্রকৃতিও। রাষ্ট্রবিজ্ঞান, পৌরনীতি, সমাজবিজ্ঞান আর সংস্কৃতি, পরিবেশ দূষণ ইত্যাদি নিয়ে মাসরুরের ব্যাপক পড়াশোনার প্রতিফলন ঘটতে থাকে পাতায় পাতায়। মাসরুর যে আধুনিক, পাশ্চাত্য ঢঙের আধুনিক তা বুঝতে সময় লাগে না। তার চরিত্রগুলো ছুৎমার্গ বিবর্জিত। এই আন্তর্জাতিক চরিত্র বোঝা যায় যৌনতার বর্ণনায়, যা প্রোভোকেটিভ হয়েও সীমান্ত মেনে চলে, কোনোরূপ ভনিতা করে না।’
৬.
মাসরুর আরেফিনের মূল বক্তব্য আমাদের ইনহিউম্যান বা অমানুষ হওয়া চলবে না। এখানে আমরা তার উপন্যাস থেকে কিছু অংশ তুলে ধরছি।
‘আমি আগেই বুঝেছিলাম, আগেই বুঝে ছিলাম। কিন্তু না, আমার আরো আগেই বোঝা উচিত ছিল যে তুমি একটা মানবতার বিপক্ষে দাঁড়ানো পশু, যার কাছে কোনো কিছুরই আর কোনো অর্থ নেই, স্রেফ ফোনের ক্যামেরায় কিছু গাছের ছবি অকারণে তোলা ছাড়া। তোমরা যে সিন্ডিকেটের অংশ তার সঙ্গে ফাইট করে করে আমি জীবনে এতো দূর এসেছি। কিন্তু একটা, কিছু একটা তো করার চেষ্টা করেছি (এ সময়ে আমার মনে হলো তাকে বলি যে, কে আপনাকে কিছু একটা করতে বললো? আপনি কিছু একটা না করলেও আমাদের চলবে ভ্রাতা!), আর তুমি ও তোমার মতো মানুষরা আমাদের না বুঝে অ্যানাকিস্ট বলে গালি দিচ্ছ, আলথুসার পড়ে তুমি যে রাষ্ট্রযন্ত্র রাষ্ট্রযন্ত্র, নিপীড়ক রাষ্ট্রযন্ত্র ইত্যাদি করছ, তা তুমি কি মনে করো, আমি বুঝি না যে তুমি কী বলতে চাও? নিজেই দাঁড়িয়ে আছ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে, রাষ্ট্রের ধারণার বিরুদ্ধে, কিন্তু তোমার এই আলথুসারের মতোই তুমি জানো না যে রাষ্ট্র ছাড়া কীভাবে আমাদের চলবে, এতো এতো কোটি লোককে কে কীভাবে লাইনে রাখবে? অ্যানাকিস্ট তুমি। আমরা বায়োস্ফিয়ারের সবকিছুর সঙ্গে আত্মীকৃত যে হিউম্যান সাবজেক্টের কথা বলছি, তা নিঃসন্দেহে জাতি-রাষ্ট্রগুলোর সব বর্ডার পার হয়ে বিশ্বমানবসংঘের কথা বলে, কোনো রাষ্ট্র রাষ্ট্র ভাগ ভাগ ও কৃত্রিমতার কথা বলে না। কিন্তু যা বলে, আমাদের কথাগুলো যা বলে, তা রাষ্ট্রের এক নতুন রূপের কথা, বর্তমান রূপের পরবর্তী এক আবিশ্ব রূপ এবং সেটা কোনোভাবেই আদিমতার কাছে যাওয়ার কথা না। ঘরবাড়ির পানি, বিদ্যুৎ-গ্যাস সব বন্ধ করে গুহায় গিয়ে বসে থাকার কথা বলে না। আর তোমাদেরটা ক্লাসিক্যাল অ্যার্নাকিÑ রাষ্ট্রবিরোধী, রাষ্ট্রের ধারণাবিরোধী, অতএব, অবাস্তব এবং মানবতাবিরোধী। ছি! কী জঘন্য মানুষের সব মানুষবিরোধী চিন্তাগুলো।’
‘আমরা ঠিক করলাম যে যাই দেখে আসি আমানতগঞ্জরে বিলটাকে, মানে আমি বিলটা েেখাই ওদের, যেখানে একদিন বিলে মাছ ধরতে গিয়ে দেখি এক হিলহিলে ঢোঁড়া সাপ কী সুন্দর এঁকেবেঁকে, একদম আমার গায়ের পাশ দিয়ে, চলে যাচ্ছিল মূল নদীর দিকে। আমরা পৌঁছে গেলাম সেখানে, প্রচুর রিকশার টিং টিং পেরিয়ে, আর যেতে যেতেই আমি শুনে নিলাম যে কবি আর নেই, কবি চলে গেছেন কলকাতায়।’
‘সুউন্নত, সুগোল বুক, তাতে খয়েরি রঙের বুলবুল পাখির ছানার মতো দুটো উঁচু নিপল, তারপর কোনো আন্দালুসিয়ার অলিভ বাগানের গাছে ধরা। রোদে ঝিকমিক করা অলিভের গায়ের মতো তার পেট, স্বচ্ছ, ঝকঝকে, তারপর তীব্র লাল রং একটা অতি ছোঁ প্যান্টি … সেই সঙ্গে তার পুরো মুখ লাল, অরেঞ্জ-হানি-স্কারলেট ও কোরাল মেশানো লাল, …’
কথাসাহিত্যিক মাসরুর আরেফিন একজন কবিও বটে। তাই আমরা প্রায়ই লক্ষ করি তার গদ্যের গাঁথুনিতে একধরনের কাব্যময়তা থাকে। অলঙ্কার, উপমা-উৎপ্রেক্ষা থাকে। যা পাঠককে এগিয়ে নিয়ে যায় আলাদা এক আকর্ষণে। এখানে সুগোল উপমান, বুক উপমেয় (লুপ্ত উপমা), বুলবুল পাখি উপমান, নিপল উপমেয়, মতো তুলনাবাচক শব্দ (লুপ্ত উপমা) রোদে ঝিকমিক উপমান, অলিভ গায়ের উপমান, পেট উপমেয়, (মালোপমা)।
কবি ও কথাশিল্পী মাসরুর আরেফিনের আলথুসার পাঠ করলে আমরা পাই এই যে লক্ষ লক্ষ কলকারখানার ধোয়া উড়িয়ে, কোটি কোটি যানবাহনের তেল পুড়িয়ে পৃথিবীর স্বৈরাচারী শাষক বা মোড়লরা বাতাসে ছেড়ে দিচ্ছি লক্ষ লক্ষ টন কার্বন, যা উষ্ণ করে তুলছে পৃথিবীর তাপমাত্রা, যার প্রভাবে গলে যাচ্ছে মেরুঅঞ্চলের বরফ, বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা, যাকে আমরা বলি গ্রিনহাউস ইফেক্ট, বনজঙ্গল ধ্বংস আর জীববৈচিত্র্যকে হুমকীর মুখে ফেলে দিচ্ছে ওই মোড়লরা। পুড়ে ফেলছে আমাজন। হয়তো কোনো একদিন শুনব, নায়েগ্রা জলপ্রপাত সেখানে আর নেই। অথচ এই বিপন্ন পৃথিবীকে রক্ষা করতে আলথুসার সমগোত্রীয় মানুষজন বেশ সচেতন। আলথুসারে পরিবেশ বিপর্যয়ের তথ্যগত ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও পাওয়া যায়। আটলান্টিকে তিমি শিকার থেকে সুন্দরবন, ধানসিঁড়ি নদী আলথুসারে সবই আছে। রাজনীতি, দর্শন, অর্থনীতি, পরিবেশ নিয়ে মাসরুরের বিস্তৃত পড়াশোনার সাক্ষর পাওয়া যায় তার আলথুসার উপন্যাসের পরতে পরতে। বিশেষ করে তার গাছের প্রতি ভালোবাসা, তাদের নাম মনে রাখা ও যুদ্ধাস্ত্র বিষয়ে কৌত‚হলগুলোও বেশ মজার। পাঠককে আকৃষ্ট সামনের দিকে ধাবিত হতে এবং আমরা বলব, একটি উপন্যাসের সবরকমের সার্থকতা আছে আলথুসারে। আলথুসার এমন এক উপন্যাস যা নিয়ে আলোচনা বা কথা বলে শেষ করা যায় না। সমকালীন বাংলা উপন্যাসে এমন গদ্য আগে এসেছে বলে আমার সন্দেহ দিনদিন বেড়েই যাচ্ছে। যদিও আমার পড়ার পরিধি খুব কম, তবুও বলছি এর বিষয়বস্তু অভিনব, সুন্দর ও সাবলীল এবং একই সঙ্গে বৈশ্বিক। আমি আবারো বলছি, আলথুসারের ভাষা কাব্যিক, গতিময় আর এর গল্পের প্লটগুলো ক্লেদজ-কুসমের মতোই জটিল। সাত রঙ-ষড়ৈশ্বর্য ভরা।

আপনার মতামত দিন