আলাদিনের চেরাগ পেলে অনেকগুলো খেলনা এবং মজার খাবার চাইতাম : তাইফ

ছোট্ট বন্ধুরা, আশা করি সবাই ভালো আছো। তোমাদের ভালো থাকাই আমাদের সবসময়ের কাম্য। আজ তোমাদের পরিচয় করি দিতে যাচ্ছি শিশুতারকা তাওহীদুল ইসলাম তাইফের সাথে। তার ডাকনাম তাইফ। তার বয়স মাত্র ৬ বছর। অথচ তার কাজের সংখ্যা তার বয়সকেও ছাপিয়ে গেছে। এ অল্প বয়সেই নাটক, টিভিসি, ওভিসিসহ তার কাজের সংখ্যা হয়ে গেছে একশোরও বেশি। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কাজ হলো হরলিক্স, স্যাভলন, এপেক্স, বাটা, হেট্রিক বিস্কুট, দারাজ ইত্যাদির বিজ্ঞাপন। নাটকের মধ্যে রয়েছে ওগো বধু সুন্দরী, বাবুর্চিয়ানা, ক্লোজআপ কাছে আসার গল্প, লাভ এন্ড লস্ট ইত্যাদি। আজ এই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে জানব তাইফের নানা অজানা গল্প। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন ‘পরিচয়’ এর ইয়ুথ কো-অর্ডিনেটর শিশুসাহিত্যিক তুফান মাজহার খান।

পরিচয়: কেমন আছো তাইফ?
তাইফ: আলহামদুলিল্লাহ্ ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন?

পরিচয়: হ্যাঁ, আমিও ভালো আছি। তা এখন তোমার বয়স কত এবং কোন ক্লাসে পড়ছো?
তাইফ: আমার বয়স এখন ৬ বছর এবং
আমি প্লে-তে পড়ি।

পরিচয়: এ পর্যন্ত কতগুলো বিজ্ঞাপন/ফটোশুট/নাটকে কাজ করেছো এবং সেগুলো কী কী?
তাইফ: এই পযর্ন্ত প্রায় ১০০ এর উপরে কাজ করেছি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হলো ওগো বধু সুন্দরী,
বাবুর্চিয়ানা, ক্লোজআপ কাছে আসার গল্প, লাভ এন্ড লস্ট ইত্যাদি। টিভিসির মধ্যে রয়েছে হরলিক্স, স্যাভলন, এপেক্স, বাটা, হেট্রিক বিস্কুট, দারাজ ইত্যাদি ফটোশুটের মধ্যে রয়েছে রবি, সেইলর, আড়ং ডেইরি ইত্যাদি। শর্টফিল্ম বন্ধু অথবা বন্দুকের গল্প।

পরিচয়: বাহ! অতি চমৎকার! এত এত কাজ। আমি আসলে থ হয়ে যাচ্ছি। মিডিয়ার কাজে তোমাকে বেশি অনুপ্রেরণা দেয় কে?
তাইফ: মিডিয়ার কাজে আমাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে আমার আম্মু। ছোটবেলা থেকে আমাকে আমার আম্মু অনুপ্রাণিত করে আসছে এবং ইনশাআল্লাহ সামনেও করবে।

পরিচয়: ছোটবেলা থেকে? তুমি কি এখন বড় হয়ে গেছ পিচ্চি! ছেলের কথা শোনো। আচ্ছা যাকগে, এবার বলো প্রথম কার মাধ্যমে কাজে প্রবেশ করেছিলে?
তাইফ: প্রথম আমি আমার আঙ্কেল ইফতেখার আহমেদ অসিন এর মাধ্যমে মিডিয়ার কাজ আরম্ভ করি।

পরিচয়: লেখাপড়া এবং কাজ- এ দুটো একসাথে সামলাতে হিমশিম খেতে হয়?
তাইফ: না, ততটা না। আমার আম্মু শিখিয়েছে ‘যদি তুমি একটা কাজ মন দিয়ে করতে চাও তখন তোমার সবকিছু সামলিয়ে আগাতে হবে’। যে কাজটা আমি এখন করছি।

পরিচয়: আচ্ছা, বর্তমান করোনাকালে কীভাবে সময় কাটাচ্ছো?
তাইফ: বর্তমান করোনাকালে আমি বিভিন্ন ধরণের কাজ করছি। যেমন গাছ লাগাচ্ছি, ছবি আঁকছি, নানান মজার খাবার আম্মুর সাথে বানাচ্ছি। এতে আমার খুব আনন্দ হয়।

পরিচয়: ওয়াও, অসাধারণ! স্কুলে কতজন বন্ধু আছে এবং তোমার বেস্ট ফ্রেন্ডের নাম কী?
তাইফ: স্কুলে আমার অনেক বন্ধু আছে। এর মধ্যে আমার বেস্ট ফ্রেন্ডের নাম হলো মিম। সে আমাকে সব কাজে সাহায্য করে।

পরিচয়: বেশ, তা তোমার প্রিয় জায়গা কোনটি?
তাইফ: আমার প্রিয় জায়গা হলো শপিংমল এবং রেস্টুরেন্ট।

পরিচয়: নাগরিক চয়েস। তোমার প্রিয় খাবার কোনটি?
তাইফ: আমার প্রিয় খাবার অনেকগুলো। যেমন আইসক্রিম, চকোলেট, চিকেন ফ্রাই, পিজ্জা, বার্গার ইত্যাদি।

পরিচয়: এই ছোট্ট পেটে এত খাবার কীভাবে সম্ভব?
তাইফ: কি যে বলেন না, আমি কি সব খাবার একসাথে খাই নাকি?

পরিচয়: ও হ্যাঁ, সেটাও তো কথা। আচ্ছা, অবসরে কী করতে ভালো লাগে?
তাইফ: অবসরে আমার ছবি আঁকতে ভালো লাগে।

পরিচয়: বই পড়ো? পড়লে কী ধরণের বই পড়তে ভালো লাগে? পাঠ্যবইয়ের বাইরে কী বই পড়েছো?
তাইফ: জ্বি, আমি বই পড়ি এবং আমার বইয়ের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় হলো ভূতের বই। আমার প্রিয় ভূতের বই এর নাম হলো, ভূতেরা কালো পানি খায়।

পরিচয়: চমৎকার! তবে ভূতের বই থেকে একটু চোখ সরাতে হবে। আসলে ভূতের বই থেকে ভীতি ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায় না। সায়েন্স ফিকশন এবং বাস্তবধর্মী বই পড়ার অভ্যাস করতে হবে। এবার বলো সাগর, নদী, পাহাড় কোনটি ভালো লাগে?
তাইফ: নদী। কারণ, নদীর ঢেউ, শব্দ এবং নদীর দৃশ্য আমার খুব ভালো লাগে।

পরিচয়: আচ্ছা, বড় হয়ে তোমার যদি মানুষের জন্য কোনো ভালো কিছু করার সুযোগ হয়, তাহলে তুমি কী করতে চাও?
তাইফ: এখনকার সময় অনেক মানুষ না খেয়ে ক্ষুধার জ্বালা সহ‍্য করছে। বড় হয়ে আমি মানুষের ক্ষুধার জ্বালা যতটুকু সম্ভব দূর করার চেষ্টা করব।

পরিচয়: যদি আলাদিনের চেরাগ পেয়ে যেতে তাহলে চেরাগের দৈত্যের কাছে কী চাইতে?
তাইফ: যদি আমি আলাদিন এর চেরাগ পেয়ে যেতাম তবে আমি সর্বপ্রথম অনেকগুলো খেলনা এবং মজার খাবার চাইতাম।

পরিচয়: বড় হয়ে পেশা হিসেবে কোনটিকে বেছে নিতে চাও এবং কেন?
তাইফ: আমি বড় হয়ে এক্টিংকে আমার পেশা হিসাবে গ্রহণ করতে চাই।

পরিচয়: টিভিতে কাজ করায় তোমার বন্ধুদের প্রতিক্রিয়া কী? তারা তোমার সাথে কেমন আচরণ করে?
তাইফ: আমার টিভির কাজ দেখে আমার বন্ধুরা খুব আনন্দ পায়। বন্ধুরা আমাকে অনেক ভালোবাসে।

পরিচয়: টিভিতে যখন নিজেকে দেখো তখন কেমন লাগে?
তাইফ: তখন মনে হয় আমি একজন তারকা এবং তখন আমার খুব গর্ব হয় নিজের প্রতি।

পরিচয়: বিরক্ত লাগে কখন? ভালো লাগে কখন?
তাইফ: বিরক্ত লাগে যখন কিছু করার থাকে না এবং একা একা বসে থাকা লাগে। ভালো লাগে যখন বন্ধুদের সাথে খেলি এবং খুব আনন্দ করি।

পরিচয়: কার অভিনয় দেখে অনুপ্রাণিত হও বা বড় হয়ে কার মতো অভিনেতা হতে চাও?
তাইফ: আমার একজন প্রিয় অভিনেতা রয়েছে। তার নাম মুশফিক আর ফারহান। আমি তার মতো ডেশিং হিরো হতে চাই এবং মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চাই।

পরিচয়: শুটিং এর মজার ঘটনা বলো। যা মনে পড়লে হাসি পায়-
তাইফ: আমার প্রথমবার ফারহান মামার সাথে দেখা হওয়ার পরে আমরা অনেক মজা এবং কিছু দুষ্টুমি করেছিলাম। যা মনে পড়লে আজও হাসি পায়।

পরিচয়: যদি কোন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে থাকো তাহলে সেটি কোনটি? ওই চরিত্রে অভিনয় করতে কেমন লেগেছে? সেই শুটিং এর কিছু অভিজ্ঞতা বা গল্প বলো-
তাইফ: আমার এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিল ক্লোজআপ কাছে আসার গল্পের চরিত্রটি। সেই চরিত্রে অভিনয় করতে ভালো এবং নার্ভাস লাগছিল। এবং সবচেয়ে ভালো মুহুর্ত হলো মাবরুর রশীদ বান্না মামার ডিরেকশনে কাজ করা। খুব মজার দিন ছিল সেটি।

পরিচয়: যদি তোমাকে ছোট্ট একটি গল্প লিখতে বলা হয় কী লিখবে?
তাইফ: আমি এই কাজ বড় হয়ে করতে চাই এবং সেই ছোটগল্প হলো আমার নিজের ছোটবেলার মজার কাহিনী। আমার ইত্তেফাক পত্রিকায় ইন্টারভিউ
হয়েছিল। সেখানে বলেছিলাম বঙ্গবন্ধুর ছোটবেলার (খোকা) চরিত্রে অভিনয় করব। বঙ্গবন্ধু বায়োপিকে আমাকে কাষ্ট করেছেন। করোনার কারণে কাজটি দেরি হচ্ছে।

পরিচয়: পরিচয় (porichoy.net) সাইটটি কি কখনো ভিজিট করেছো? যদি করে থাকো তাহলে এ সাইটটি ভিজিট করে তোমার কেমন লেগেছে?
তাইফ: হ্যাঁ, আমি ভিজিট করেছি এবং আমার সবচেয়ে ভালো লাগে এখানে জুনিয়র আর্টিস্টদের নিয়ে অনেক ভালো ভালো ইন্টারভিউ তৈরি করা হয় এবং তাদের আরও কাজ করার জন্য আগ্রহ এবং অনুপ্রেরণা দেওয়া হয়।

পরিচয়: পরিচয়’কে সময় দেওয়ার জন্য তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। শুভকামনা তোমার জন্য। অনেক বড় হও। ভালো থেকো সবসময়।
তাইফ: আপনাকেও ধন্যবাদ। আপনারাও ভালো থাকুন।

আপনার মতামত দিন