আলোর ফেরিওয়ালা

একজন আতিফ আসাদ, আলোর ফেরিওয়ালা
ইস্রাফিল আকন্দ রুদ্র

একজন আতিফ আসাদ, আলোর ফেরিওয়ালা। প্রতিবেশীর লাঞ্ছনা গঞ্জনা শোনার পরও থেমে যাননি। এগিয়ে গিয়েছেন নিজের উদ্যমে। রাজমিস্ত্রী,ধানকাটার কাজ-দিনমজুরি করে চালিয়েছেন নিজের পড়ালেখা এবং গড়েছেন পাঠাগার। ২০ টি বই থেকে এখন আড়াই হাজারের বেশি বই রয়েছে তাঁর পাঠাগারে। অনেক দূর পর্যন্ত যাবে, যেতেই থাকবে আতিফ আসাদের স্বপ্নগুলো।

গ্রামের ছেলে মেয়েরা স্বভাবতই বই বিমুখ।বিভিন্ন ভাবে সময় পার করে। তাছাড়া টাকার অভাবে যেখানে লেখাপড়া করতে পারেনা সেখানে পাঠ্যবই কিভাবে কিনবে? তাদের তো সামর্থ্য নেই। গ্রামে বা উপজেলায় কোথাও পাঠাগার নেই আশেপাশে। তাই নিজেই উদ্যোগী হয়ে বিনামূল্যে বই পড়ানোর চিন্তা করলেন আসাদ।

কিছু মানুষ অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, সেই লোকগুলোর জন্যই উৎসাহ পেয়েছেন আসাদ। পরিবারও এগিয়ে এসেছেন। পরিবারের অনুপ্রেরণা না থাকলে এ পথে হাঁটা সম্ভব হতো না হয়তো। সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা দিয়েছেন বড় ভাই মিলন। যার নামেই পাঠাগার -মিলন স্মৃতি পাঠাগার।পাঠাগার শুরুর দিকে নাম ঠিক করতে পারছিলেন না।একসময় জমির বিরোধে ভাইকে প্রতিবেশিরা হত্যা করে। ভাইকে স্মরণীয় করে রাখতে অবশেষে পাঠাগারটির নামকরণ করেন ‘মিলন স্মৃতি পাঠাগার।’

আসাদের পাঠাগার

সব ভালো কাজে তো কিছু নিন্দুক থাকবেই। আতিফ আসাদকে গ্রামের কিছু মানুষ পাগল বলে, হাসাহাসি করে। কিন্তু আসাদ ভাবে দেশটা তো তাঁর। সমস্যা গুলো তাঁর চোখে পড়ে। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই শুরু। এই চিন্তা মাথায় আসে, আর নিন্দুকের কথা ভুলে গিয়ে আবার কাজ করে।

আতিফ আসাদের পাঠাগারে এখন প্রায় ১০০ পাঠক। ভবিষ্যতে এই পাঠাগার তাঁর উপজেলার ছেলে মেয়েদের আলোকিত করবে তা প্রত্যাশা। সব ছেলে মেয়েদের বই পড়াতে উৎসাহিত করছেন, পাঠাগারে সব শ্রেণির পাঠকই আছে। তবে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। ভালোবাসার কখনো মূল্য হয় না। দেশের সকল বই পড়ুয়া পাঠক এবং যোদ্ধাদের পক্ষ থেকে আসাদের প্রতি ভালোবাসা সবসময়ই থাকবে।

আপনার মতামত দিন