এই অনন্ত পথের পথযাত্রীর প্রতি হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে শ্রদ্ধা ও প্রণতি

অনন্তলোকে মুর্তজা বশীর
মিশকাত রাসেল

চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর। মুদ্রা সংগ্রাহক মুর্তজা বশীর। সাহিত্যিক মুর্তজা বশীর। আরেক বড় পরিচয় ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সন্তান মুর্তজা বশীর। এমন বহু পরিচয়ে পরিচিত তিনি। এসব পরিচয়ে পরিচিত মানুষটি আজ নাই। চলে গেছেন। চলে গেছেন দূর অনন্তলোকে।

তিনি আমার কাছে প্রথম পরিচিত একজন মুদ্রা সংগ্রাহক হিসেবে। সেই থেকে উনাকে জানার প্রতি আগ্রহ। একটা সময় সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছি জেনে তিনি ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্’র ছেলে। বাবা প্রথমে চাননি তিনি চিত্রশিল্পী হোক। কিন্তু একটা সময় ঠিকই সন্তানের চাওয়াকে মূল্যায়ন করেছিলেন। এ নিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘…বাবা যেটা করলেন তা অদ্ভুত। তিনি আমাকে তাঁর লাইব্রেরিতে নিয়ে গেলেন। আলমারিতে তাঁর মূল্যবান গ্রন্থের মধ্যে চামড়ায় বাঁধানো দুটি মোটা বই ছিল। বই দুটি তিনি আমার হাতে দিয়ে বললেন, ‘এতদিন আমার কাছে ছিল, এখন থেকে তোমার।’ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ নিশ্চয়ই শিল্পপ্রেমিক ছিলেন, তা না হলে কেন তাঁকে আর্টের বই দেওয়া হবে? মেহগনি কাঠের সেই ছোট্ট আলমারিটি আমার খুব পরিচিত। সবসময় তালা দেওয়া থাকত। তিনি বই দুটি আমার দিকে বাড়িয়ে বললেন, আমার বিদায় উপলক্ষে ১৯২৮ সালে প্যারিসের ভারতীয় ছাত্রদের অ্যাসোসিয়েশন আমাকে উপহার দিয়েছিল।
বই দুটিতে ল্যুভর চিত্রশালার অমূল্য ছবির রঙিন কিছু নিদর্শন ছিল ; ফলে আমার জন্য ছিল নিষিদ্ধ। বইয়ের নারীর উন্মুক্ত ছবির প্রতি কৈশোরের স্বাভাবিক একটা কৌতূহল ছিল। বই দুটি তিনি অন্য ছেলেদের দিলেন না, দিলেন তাকে, যে সবে ১৬ থেকে ১৭-তে পা দিয়েছে। তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে এই ছবিগুলো অন্যদের কাছে হবে ন্যাকেড, আমার কাছে ন্যুড।’
এইযে স্মৃতিচারণ, যেখানে একজন সচেতন পিতার পরিচয় পাওয়া যায়। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ আলোকোজ্জ্বল নক্ষত্র মানুষ। আবার সচেতন পিতা। আসলে সফল মানুষ খুব কমই সফল পিতা হতে পারে। বটবৃক্ষের নিচ থেকে খুব কম বৃক্ষ বড় হতে পারে। এক্ষেত্রে মুর্তজা বশীর ভিন্ন। তিনি সতন্ত্র বলয় থেকে নিজেকে উজ্জীবিত করেছেন। বিকশিত হয়েছেন আপন কর্মে।
এই অনন্ত পথের পথযাত্রীর প্রতি হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে শ্রদ্ধা ও প্রণতি।

১৫ আগস্ট ২০২০

আপনার মতামত দিন