একাত্তরের গণহত্যা: নির্যাতিত মোনায়ারা বেগম

মাসুদ রানা:

১৫ই জ্যৈষ্ঠ রবিবার পাকিস্তানি সেনারা টেংরাখোলা মুকসুদপুর আসে। পাকিস্তানি সেনারা মুকসুদপুর খাল পাড়ে এসে গোলাগুলি শুরু করে। আব্দুল আজিজ কমান্ডার গিয়ে তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করে। কিন্তু পাকিস্তানি সেনাদের চারদিক হতে আসতে দেখে তারা পিছু হটে যায়। সেই দিন পাকিস্তানি সেনারাও পিছু হটে মুকসুদপুর হিরু চেয়ারম্যনের বাড়ি আশ্রয় নেয়। পরের দিন ১৬ই জ্যৈষ্ঠ সোমবারে পাকিস্তানি সেনারা বল্লভদী কাটা খাল (কুমার নদীর একটি শাখা) পার হয়ে চর- বল্লভদী গ্রামে প্রবেশ করে। খাল পার হওয়ার সময় সেখানে পাকিস্তানি সেনারা ২ জন গ্রামবাসিকে গুলি করে হত্যা করে।

পাকিস্তানি সেনারা চর-বল্লভদী গ্রামের নব বিবাহিতা ১৫ বছরের গৃহবধু মোনায়ারা বেগমের স্বামীর বাড়ি ঘিরে ফেলে। পাকিস্তানি সেনারা তাদের বাড়ি ঘিরে ফেলে তার স্বামী রুস্তম সরদারকে ধরে ফেললে মোনোয়ারা বেগম তার স্বামীকে বাঁচাতে আসে। মোনোয়ারা বেগম যখন তার স্বামীকে বাঁচাতে আসে তখন পাকিস্তানি সেনারা তাকে ধরে তার হাতে আঘাত করে। পাকিস্তানি সেনাদের আঘাতে তার হাত ভেঙ্গে যায়।

কিছুক্ষণ পরে পাকিস্তানি সেনারা তার উপরে ঝাপিয়ে পরে। পাকিস্তানি সেনাদের নির্যাতনে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘পাকিস্তানি সেনারা আমাদের গ্রামে প্রবেশ করে আমাদের বাড়ি ঘিরে ফেলে। আমার স্বামীকে একজন গিয়ে বলে ‘পাকিস্তানি সেনারা তুমার বউকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে।’ এ কথা শুনে আমার স্বামী আমাদের বাড়ি আমাকে বাঁচাতে আসে। তখন পাকিস্তানি সেনারা আমার স্বামীকে ধরে ফেলে। তখন আমার বিয়ের বয়স ছিল মাত্র ২ মাস। আমি আমার স্বামীকে বাঁচাতে গেলে পাকিস্তানি সেনারা আমার হাতে বাড়ি দেয়। এতে আমার হাত ভেঙ্গে যায়। পাকিস্তানি সেনারা আমাকে উঠে দাঁড়াতে বলে, কিন্তু আমার হাতে ব্যথা নিয়ে আমি দাঁড়াতে পারি নাই। তখন পাকিস্তানি সেনারা আমার উপর ঝাঁপিয়ে পরে।’

পাকিস্তানি সেনারা গ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রামবাসিকে ধরে গ্রামের বটতালায় এনে একসাথে একজনের হাতের সাথে আর একজনের হাত বেঁধে নির্যাতন করে। পাকিস্তানি সেনারা তাদের নির্যাতন করার পরে গুলি করে হত্যা করে। ১৬ জ্যৈষ্ঠ পাকিস্তানি সেনারা গ্রামের ৯ জনকে হত্যা করে।

সাক্ষাৎকার গ্রহণের তারিখ- ১৭ নভেম্বর ২০১৮, স্থান- নিজ বাড়ি।

মাসুদ রানা

লেখক : কর্মকর্তা, গণহত্যা-নির্যাতন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র, খুলনা।

আপনার মতামত দিন