একাত্তরের গণহত্যা : পারকুমিরায় নৃশংসতা

তাওসিফ সাদমান তুর্য:

১৯৭১ সালে সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার পারকুমিরায় একটি দাতব্য চিকিৎসালয় ছিলো। বিভিন্ন স্থানের শরণার্থীরা সাতক্ষীরা হয়ে ভারতে যাওয়ার সময় এখানে বিশ্রাম নিতেন।

একাত্তরের ২৩ এপ্রিল স্থানীয় কতিপয় রাজাকারদের সহযোগিতায় পাকিস্তানি সেনারা পারকুমিয়া ও পুটিখালি গ্রামে প্রবেশ করে। এ সময় খুলনা, ফুলতলা ও নওপাড়া থেকে আগত শরণার্থীরা পারকুমিরা দাতব্য চিকিৎসালয়ে বিশ্রাম করছিলেন। রাতের আধারে পাকিস্তানি সেনারা দাতব্য চিকিৎসালয়টি ঘিরে ফেলে। ভোরে মসজিদ থেকে আজানের ধ্বনি ভেসে আসার পর পরই পাকিস্তানি সেনারা শরণার্থীদের উপরে নরকীয় হত্যাযজ্ঞ চালাতে শুরু করে। পাকিস্তানি সেনারা অর্ধশতের বেশি মানুষকে দাতব্য চিকিৎসালয়ের সামনে নির্যাতন করে হত্যা করে।

পাকস্তানি সেনারা শরণার্থীদের হত্যা করার পরে সকালে পাটকেলঘাটা বাজারে আব্দুর রউফ, দীনবন্ধু পাল, অনিল দাস নিমাই সাধু সহ কয়েকজনকে গুলি করে হত্যা করে। পুড়িয়ে মারে তৎকালীন মুসলীম লীগের কর্মী কাশিপুর গ্রামের হায়দার আলী বিশ্বাসকে। হায়দার আলী বিশ্বাসকে পারকুমিরা গ্রামের হিন্দু বাড়িগুলোতে আগুন দেওয়‍ার জন্য পাকিস্তানি সেনারা বলেছিলেন। কিন্তু তিনি অসম্মতি জানালে শরীরে পাট জরিয়ে কেরোসিন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করে।

ঐদিনের আক্রমণে পারকুমিরার কতো জন শহিদ হয়েছিলেন এবং তাদের নাম পরিচয় সম্পর্কে জানা যায়নি। কারন শহিদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন বিভিন্ন স্থানের শরণার্থী।

তাওসিফ সাদমান তূর্য

লেখক : শিশু অভিনয় শিল্পী।

আপনার মতামত দিন