এ শুধু সবুজ রঙ‍া দালান নয়, সবুজ রঙা ভালোবাসা!

ইসমাম জাহান:
স্কুলে ভর্তি হওয়ার সময় বিশাল প্রস্তুতি ছিল। এই স্কুলেই ভর্তি হতে হবে, এই সাদা ইউনিফর্মটা যেন এক স্বপ্ন। মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ব্রাঞ্চ ২ এ ভর্তি হলাম।

২০১০ সালের স্কুলে প্রথম যেদিন ক্লাস করেছি তার অনুভুতি ভুলবার মত নয়। সব গোছানো ছিলো না। ক্লাস রুমগুলো ছিলো অনেক বড়! গার্লগাইডরা সাহায্য করছিলো ক্লাস এবং রুম খুঁজে বের করতে। তখন আমরা আমাদের আসল ক্যাম্পাসে আসিনি। কিছুদিনের মধ্যে আমরা আমাদের আসল ক্যাম্পাসে আসি।

এই সবুজ রঙে ঘেরা দালানে, যেখানে আমার জীবনের ১০ বছরের সব থেকে ভালো দিনগুলো কাটিয়েছি। এই দালান ৯ তলা উঁচু। এখানে দুইটি দালান রয়েছে এবং দুইটি একটি আরেকটির সাথে যুক্ত।
গ্রাউন্ড ফ্লোরে বাম অংশে ক্যান্টিন আর লাইব্রেরি। ক্যান্টিনে সবসময় স্বাস্থ্যসম্মত খাবার বিক্রি করা হয় শিক্ষার্থীদের জন্য। আর প্রয়োজনের সকল শিক্ষাসামগ্রী লাইব্রেরিতে পেয়ে থাকি। ডান অংশে অফিস রুম, যেখানে স্কুল ফি জমা দেয়া হয়। মেডিকেল রুম আছে, যেখানে কোন শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হয়।

ডান পাশে দ্বিতীয় তালায় টিচার্স রুম পাঠাগার ও প্রিন্সিপাল রুম। এই পাঠাগার আগে ৯ম তালায় ছিল। পরে এটি শিফট করা হয় ২য় তালায়। আমাদের মহিলা শিক্ষক এবং পুরুষ শিক্ষকদের কক্ষ আলাদা। রয়েছে আলাদা টয়লেট।

এইবার ৩য় তালা থেকে শিক্ষার্থীদের কক্ষ ছিলো। সাধারণত ডান পাশের বিল্ডিং কক্ষগুলো ব্যবহার করা হতো বেশিই শিক্ষার্থীদের জন্য। বাম পাশের রুম শুধু ৫ম, ৮ম ও ১০ম শ্রেণির এক্সট্রা ক্লাসের জন্য ব্যবহার করা হয়।

আমাদের বিদ্যালয়ের সাথেই আছে সুদীর্ঘ একটি মাঠ। এখানে প্রতিদিন সকালে আমাদের পিটি করানো হতো। এই মাঠের সাথে শিক্ষার্থীদের রয়েছে আলাদা ভালোবাসা। প্রত্যেক উৎসবে এই মাঠ নিজেদের মত করে রাঙিয়ে তুলে তারা। এই মাঠের দুই প্রান্তে দুইটি গেট রয়েছে। একটি এন্ট্রি গেট এবং একটি এক্সিট গেট। আন্ডারগ্রাউন্ডে যাওয়ার জন্যও একটি আছে যদিও সেটি এখন ব্যবহার করা হয় না।

আমাদের এই স্কুলে প্রত্যেক বছর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বিজ্ঞান মেলাও আয়োজন করা হয়। এই স্কুলে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয় আমাদের নিজেদের কিভাবে উন্নতির পথে নিয়ে যেতে পারবো এবং মানবিক মূল্যবোধও শিখায়।

আমাদের স্কুলে শিফট দুই ভাগে বিভক্ত। মর্নিং এবং ডে। মর্নিং শিফট মেয়েদের যেটি সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত । অনেক সময় ১২টার বেশি বেজে যায় যাদের এক্সট্রা ক্লাস থাকে। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ছেলেদের ক্লাস হয়।
প্রত্যেক শিফটের জন্য আলাদা সিডিউলে পিটি অনুষ্ঠিত হয়। দুই শিফটের পিটি শিক্ষক আলাদা। আমাদের শিক্ষকরা খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের। তারা খুবই স্নেহ করেন আমাদের।

শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্মে রয়েছে বৈচিত্র্য। মেয়েদের সাদা এপ্রোন, নেভি ব্লু বেল্ট সাদা সেলোয়ার, সাদা ওড়না ও স্কার্ফ এবং ছেলেদের সাদা শার্ট এবং নেভিব্লু পেন্ট, শার্টের পকেটে স্কুলের চিহ্ন। জুতা কিন্তু উভয় এক। আইডি কার্ড আলাদা ফিতে। সবুজ মেয়েদের এবং নীল ছেলেদের।

আমাদের স্কুলে বাংলা মিডিয়ামের পাশাপাশি রয়েছে ইংলিশ মিডিয়াম। আমাদের এই ক্যাম্পাসে অধ্যায়নরত সকল শিক্ষার্থীদের ভালোবাসার একটি স্থান এটি।

লেখক : কিশোর মিডিয়াকর্মী।

আপনার মতামত দিন