কখনোই অন্যের অনিষ্ট চিন্তা করতেন না…

নূরে জান্নাত কামনাঃ ক্ষণজন্মা এক মহীয়সী নারী...

নূরে জান্নাত কামনা। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামে এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। নানী বাড়ী পাশের গাজীপুর ইউনিয়নের নয়নপুর মোল্লাহ্ পাড়ার মোল্লাহ্ বাড়ী। ছোটবেলায় প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন ২নং চকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে মাওনা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগে লেখাপড়া করেন। গাজীপুর সরকারি মহিলা কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পাশ করে ঢাকার উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে গণিতে বিএসসি করেন। এর পাশাপাশি মাওনা চৌরাস্তা পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের আইসিটি প্রভাষক ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই ছিলেন অদম্য মেধাবী ও পরিশ্রমী। মেধাবী হিসেবে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নজর কেড়েছিলেন। আমরণ শিক্ষকদের পছন্দের পাত্রী ছিলেন। সবসময় মানুষের কল্যাণের চিন্তায় মগ্ন থাকতেন। নিজের সৎ উপার্জনের টাকায় মানুষের উপকার করেছেন আমৃত্যু। প্রতিষ্ঠা করেছিলেন গাজীপুর নারী সংগঠন, এছাড়াও ছিলেন শ্রীপুর উপজেলা মহিলা শ্রমিক লীগের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক, শ্রীপুরের বহুল আলোচিত ও প্রশংসিত আলোর দিশারী শিক্ষা ফাউন্ডেশন এর উপদেষ্টা ছিলেন। এতো এতো পদবী থাকার পরেও কখনোই পদের দাম্ভিকতা বা ক্ষমতার অপব্যবহার করেননি। জীবনের শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত শিক্ষকতা করে সৎভাবে উপার্জন করেছেন। জীবনের প্রতিটি পদচারণায় ছিল মেধার স্বাক্ষর। সবসময় বাস্তবমুখী চিন্তা ও কাজ করছেন। কখনোই অন্যের অনিষ্ট চিন্তা করতেন না। তাহাজ্জুদ নামাজ থেকে শুরু করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন, কুরআন তিলাওয়াত করতেন নিয়মিত। সকল কাজকর্মের মধ্যে মহান আল্লাহ্ তাআলাকে রাজি খুশি রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করতেন। সবসময় সকল কাজের সময় উক্ত কাজের দোয়া পড়ে শুরু করতেন৷ (ঘুমানোর দোয়া, ঘরে প্রবেশের দোয়া বের হওয়ার দোয়া প্রভৃতি)। তিনি  একাধারে নারী সংগঠক, নারী নেত্রী, শিক্ষক, সমাজকর্মী, মানবাধিকার কর্মী ও আদর্শবান মানুষ ছিলেন। গত ১৯ আগস্ট-২০২০ বিকেলে এই ক্ষণজন্মা মহীয়সী নারীর জীবনাবসান হয়। পরম করুণাময় এই মহান মানুষটিকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন। আমিন।

খন্দকার আনোয়ার
প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক,
আলোর দিশারী শিক্ষা ফাউন্ডেশন

আপনার মতামত দিন