কবিতা: পরিপূরক

 

হিমু শোয়েব:

সেদিন বাতাসের দেয়ালে দেখি

লাল-নীল-সবুজ সহ হরেক রঙের

ডাকটিকেট সাঁটা।

 

কৌতুহল বসত একটা হাতে নিয়ে অবাক হয়ে দেখি

প্রেরক-প্রাপকের স্থানে,

তোমার অার বাতাসের নাম লেখা।

 

চিঠি খুলতেই অদ্ভুত হতাশায় ভরে উঠে হৃদয়;

বার বার পড়তে থাকি প্রথম শব্দমালাটাকে

চোখের ভুল হিসেবে প্রমাণ করার জন্য,

কিন্তু অামার সব হিসেব গোলমেলে করে দিয়ে

বার বার  চোখের পর্দায় ভেসে উঠে এক থোমকা শব্দমালা;

“প্রিয় ভালোবাসার বাতাস”।

 

কিন্তু এটা যে শুধুই একটা শুরু তা কয়েক সারি

পড়ার পরই বুঝে অাসে।

 

তার সাথে কাটানো প্রত্যেক বৃষ্টিই

অামার কাছে ছিল অসহ্য যন্ত্রণার,

কেনই বা হবে না?

অামাকে যদি অালিঙ্গন করতে না পারে

তাহলে একটু ছুঁয়েও তো সে দিতে পারে;

তুমি হলেও তো অন্তত এটায় করতে নাকি?

তুমি বলো তো,

অামি কিভাবে সেই বৃষ্টির  নাম দেব

ভালোবাসার শ্রাবণ,

যদি অন্তত তার একটু স্পর্শও না পায় সে শ্রাবণে?

 

তার সাথে কাটানো প্রত্যেক বিকাল ছিল

যুদ্ধে হারা একেকটা যখম সৈনিকের মত;

যেহেতু, অামার খোলা চুল কিংবা নরম কোমরে

ছিল না তার ঠোট কিংবা অাঙুলের স্পর্শ,

যা অামার দেহে কামনার উদ্রেক করতে পারে।

 

তার সাথে ঘোরা একেকটা পার্ক

যেন অামার কাছে একেকটা অভিশপ্ত শ্মশান;

যেহেতু সেখানের কোন দূর্বা বা কৃষ্ণচূড়া সাক্ষী দিতে পারবে না অামাদের গোপন অভীসারের।

 

অামাদের প্রেমটা নাকি

পৃথিবীর কাছে পবিত্র প্রেমের নিদর্শন?

কিন্তু অামি তো বলি এটা হলো

সময়ের একটা অযোগ্য না’চাওয়া মরণ।

 

তার সাথে থেকে অামি হারিয়েছি

শ্রাবণের উষ্ণ অালিঙ্গন;

বিকালের কামনা;

পার্কের গোপন অভিসার;

এক কথায় অামি তো হারিয়েছি অামার কৈশোরের সম্পূর্ণ জীবন।

অামার নেই কোন ভালোবাসার শ্রাবণ;

নেই কোন বিকালের স্মৃতি;

নেই গোপন অভিসারের স্বাদ;

তার জন্য অামার কিছুই নেই

অামি সব হারিয়েছি অামার কৈশোরের।

 

নিজেকে অার সংবরণ করতে না পেরে,

চিঠিটা হাওয়ায় মিলিয়ে দিয়ে

অামার পরিপূরক বাতাস কে শুনিয়ে শুনিয়ে

বলতে থাকলাম;

“সে সব হারিয়েও অামার মনটা তো পেয়েছে

কিন্তু তাকে ভালোবেসে অামি কি পেলাম?”