কবিতা: বৌদি

মোঃ আঃ কুদদূস

বৌদির আঁচলের আড়ালে— দু’মুঠো অন্ন;
নিবারণ করে নিদারুণ জঠর জ্বালা,
মুখে তার প্রসন্ন হাসি
উহ! কী যে সুখ, কত যে ভালোবাসি।
আলতা রাঙা পায়ে নূপুর, লাল শাড়ির পাড়,
আড়চোখে অনুপম আহ্বান তার,
ইশরায় বলে, “ত্বরা করে খেয়ে— কেটে পড়ো,
আমি ঐদিকটা সামলাই।
পেট পুরে খেও কিন্তু— এই বেলা,
পরের বেলা খাবারের ঠিক নাই-”
শুধু হনহন ঘুরে বেড়াও, কাজ করো ঠনঠন,
বাসার সকলে ক্ষেপে— নির্দেশ দিয়েছে চেপে,
পরের বেলা ভাত দিলে— আমারও স্থান নাই।
ছাড়তে হবে এই বাড়ি— দিতে হবে পাড়ি।
ঠাকুরপো, কিছু একটা করলে কী হয়!

হাতে তালের হাতপাখা, মুখে মধুর হাসি,
হাতে চুড়ির ঝনঝনানি— কাঁজল আঁকা আঁখিপাতে,
জীবনের অপূর্ব শরণ!
পরাণে মোর সইবে নারে— জীবনের তরে
ইস! রয়ে গেল অগোচরে—
সে তো মোর নয়— ছিলো না আপন
তবুও কত যে অলেখা দাবী,
পর হয়েও যে জনম-জনমের সখি
জগতে এমন আর নাহি!
এমন আর নাহি— বলেই তো তার গুণগাহি।
সত্যি! সকালে কাজের খোঁজে— বহুদূর চলি,
মনে মনে বলি, যদি কাজ নাহি পাহি;
তার খাওয়া হবে না— ভরদুপুরে।
সে তো মোর পথপানে চাহি-
উপোসে কাটাবে আঁচলে চোখ মুছি।
কারণ, আমি যে তাতে বেলা-অবেলা-সারাবেলা রহি।

এখন আমি মস্ত কাজী— কাজ ফুরায় না রাতদিন
আজ সরস্বতী পূজো— মনে বাসনা জাগে,
দেবীর আসনে বৌদিমণিকে— অঞ্জলি দিতে।
ঐ আলতা রাঙা পায়ে— লাল শাড়ির পাড়ে—
প্রণাম করলে— প্রণাম মম পূর্ণ হয়,
মনের কুটির ভরে যায়— পবিত্র ভালোবাসায়,
বিদ্যা-বুদ্ধি-প্রজ্ঞার হয় অসীম উদয়।
নিয়তি আমার! সেটা তো আর হবার নয়—
সে তো আজ বহুদূর— অচিন ঠিকানায়,
আমি যে মহাপাপী বিশ্বময়।

৩০ জানুয়ারি ২০২০
ঢাকা।

আপনার মতামত দিন