করোনা ভাইরাস ও আমার যাপিত জীবন

গোপাল রায়

করোনা ভাইরাস এখন সারা বিশ্বের মত আমাদের দেশেও এক মহা আতঙ্কের নাম। কিছু প্রত্যাহিক জীবনের স্বাভাবিক বিষয় বাদে সবকিছু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশেও। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ সবকিছু বন্ধ থাকায় অনেকেই এটাকে অবসর সময় বলে অতিবাহিত করছে। কর্মব্যস্তময় জীবনে এ আতঙ্ক অবসর কার কেমন কাটছে যানিনা তবে করোনা ভাইরাসের মাঝেও আমার যাপিত জীবনের কথা বলছি;

@করোনা ভাইরাস সচেতনতায় সেচ্ছাসেবকের কাজ করছি:
বন্ধু ও স্যারেরা মিলে আমাদের পুরো উপজেলায় আমরা বিশাল সেচ্ছাসেবকের টিম করে সচেতনতা মূলক কাজ করছি। অবাক হওয়ার বিষয় যে, দু একশ টাকা থেকে এখন আমাদের হাজার হাজার টাকার ফান্ড হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা ২৬ টি দুস্থ হত-দরিদ্র পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী(চাল, ডাল, তেল, আলু) বিতরণ করেছি। সচেতনতার জন্য ১৫ হাজার লিফলেট, ১০০০ স্বাস্থ্য সম্মত মাস্ক ও ৬০০ সাবান বিতরণ করেছি। করোনা সচেতনতায় সাত দিন ধরে আমাদের পুরো উপজেলায় দুটি ভ্যান মাইকের দ্বারা মাইকিং করেছি আমরা।
সামনের পরিস্থিতি মোতাবেক আমরা আরো বিভিন্ন কর্মসূচি নেব যা করোনা ভাইরাস সচেতনতায় এবং হত-দারিদ্র দূরিকরনে যুগান্তকারী অবদান রাখবে।
আপনিও কি এমন কার্যক্রমে যুক্ত?

@সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থণা:
পুরো বিশ্ব যেন তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক হয়; কোনো প্রকার যেন মহামারি না হয়; নিজের ভূল-ত্রুটির ক্ষমা চেয়ে সৃষ্টিকর্তা ভগবানের কাছে প্রার্থণা করছি। আমি নিয়মিত গোসল দেওয়ার পর আমাদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ গীতা পড়ি আগে থেকেই। তা পড়ছি।

@এমন বিপদের দিনে আমি নিজে কতটুকু সচেতন?
আমি সহ আমাদের পাঁচ সদস্যের পুরো পরিবারে আমরা কেউ আতঙ্কিত নই। তবে সচেতন। আমরা সবাই সবসময় সাবান দিয়ে হাত ধুচ্ছি। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার চেস্টা করছি। আমি সহ বাবা-মা-বোনদের বাড়ির বাইরে যাওয়া নিষেধ করে দিয়েছি। লোক সমাগমে যাওয়া একদম নিষিদ্ধ করে অনুরোধ করেছি যেন কোথাও কেউ না যায়। আমার বাবা বাজার মূখি মানুষ। তাকে বাড়ি মূখি করাও এক প্রকার চ্যালেঞ্জ! তিনি এখন বাড়িতে পুরো ২৪ ঘন্টাই অবস্থান করছে। তবে পরিবারের স্বাভাবিক কাজ কর্ম যেমন মাঠে ধান চাষের কাজ চলছে আমাদের।

@বোনদের পড়াচ্ছি:
বড় বোনটা একাদশে পড়ে। ওকে ইংরেজি, ইতিহাস আর অর্থনীতি পড়াচ্ছি। ছোটটা পড়ে নবমে। ওকে উচ্চতর গনিত, ইংরেজি ও পদার্থ বিজ্ঞান পড়াচ্ছি।
পড়ালেখার পাশাপাশি ওদের সাহিত্য ও বিজ্ঞান মূলক বই এনে দিয়েছি। পড়ছে। বই পড়ে ‘বুক রিভিউ’ কি করে লিখে তা শিখিয়েছি। পত্রিকায় কি করে প্রতিবেদন লিখতে হয়? বিজ্ঞান প্রোজেক্ট কি করে বানাতে হয়? তাও শেখাচ্ছি।

@পড়ছি আর লিখছি:
আমি নিজেও পড়ছি। একটা বই শেষ করে আরেকটা বই শুরু করেছি। পড়ার পাশাপাশি তিনটা গল্প লিখেছি। যার একটা প্রথম আলো বন্ধুসভার অনলাইনে বেরও হয়েছে। যেখানে আমার গল্পে ছবি এঁকেছে প্রখ্যাত শিল্পী নিয়াজ চৌধুরী তুলি। এখন আরো দুটি লেখায় হাত দিয়েছি। লিখছি; পড়ছি; লিখছি…..

@সিনেমাও বাদ যাচ্ছে না:
প্রিয় কাকা রাতুলের লেপটপে তিনটি সিনেমা দেখা শেষ করেছি। আমার মোবাইলেও একটা দেখেছি এখন পর্যন্ত। রাতুলের লেপটপে আমাদের ধর্মের ‘মহাভারত’ সিরিজটিও নিয়মিত দেখছি।

ঘরবন্দি ও সেচ্ছাসেবক কাজের মাঝে এভাবে দিন গেলেও বড়ই দুঃখের বিষয় যে, পুরো পৃথিবীর ন্যায় আমাদের দেশেও দিন দিন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়েই যাচ্ছে। যা মোটেও ভালো বিষয় নয়। পৃথিবীর ইতিহাসে কি যানি কোন বড় ধরনের অঘটন না ঘটলেই হয়; এই প্রার্থণা সৃষ্টিকর্তার কাছে।
এই বিপদের সময় সবাইকে সচেতনতায় সচেষ্ট থাকতে হবে। নিজে নিরাপদে থেকে অন্যকে নিরাপদ রাখার প্রচেষ্টা করতে হবে। কোন বড় ধরনের মহামারি হলে সবাই সবার বিপদে পাশে থাকতে হবে। কেননা বিপদের লড়াইটা একসাথে করলে তাড়াতাড়ি সবকিছু কাটিয়ে আমাদের স্বাভাবিক জীবনে পৌছাতে পারব খুব শিঘ্রই।

গোপাল রায়
শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়