করোনা ভাইরাস ও শিশুরা

baby

আরমান হোসেন, জামালপুরঃ

বর্তমান সময় সারা পৃথিবী জুড়ে এক আতঙ্কময় মহামারীর নাম করোনা ভাইরাস। এর কবল গ্রাস থেকে বাদ যায় নি শিশুরাও।
শিশুরা তুলনামূলক বড়দের থেকে কম সংক্রমিত হলেও করোনা ভাইরাসের বড় প্রভাব পড়েছে শিশুদের উপর। একটা দীর্ঘ সময় যাবৎ শিশুরা তাদের প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে।

গত বছরের ১৭ই মার্চ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এতে শিশুরা পড়ে যায় বিপাকে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে গেলে বর্ধিত করা হয় ছুটি।
সারাদেশে ঘোষণা করা হয় লক ডাউন। বন্ধ করে দেওয়া হয় জনসমাগম। বন্ধ ঘোষণা করা হয় শিশুদের পার্কগুলো। এতে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়।

শিশুরা মনমতো ঘর থেকে বের হতে পারে না। তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারে না। নিজের বন্ধুদের সাথেও মিশতে পারে না। যা শিশুর মানসিক বিকাশের চরম অন্তরায়। শিশুপার্ক বা খেলারমাঠ বন্ধ থাকায় শিশুরা নিজেদের ইচ্ছামত খেলাধুলা করতে পারে না। ফলে তাদের শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।

অপরদিকে অনলাইন ক্লাস তাদের ঘুরমুখো করে তোলে। অধিকাংশ সময় মোবাইল, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের সামনে বসে পর্দায় চোখ রাখতে হয়। অনলাইনে ক্লাস করতে গিয়ে শিশুদের সাথে পরিচয় হয় বিভিন্ন অনলাইন গেমস ও সোস্যাল মিডিয়ার। অনলাইনে ক্লাসের পাশাপাশি তারা এসব প্লাটফর্মে সময় কাটাতে থাকে। একসময় এগুলো তাদের নেশাতে পরিনত হয়।

অনলাইন গেমস তাদের অলস ও আক্রমণাত্নক করে তোলে। এসব তাদের নেশা হয়ে যায়। অনেক সময় গেমসের প্রয়োজনে তারা টাকা দিয়ে প্রয়োজনীয় উপাদান (ভার্চুয়াল) কিনে থাকে। এতে পরিবারের উপর আর্থিক চাপ পড়ে। অনলাইনে গেমস খেলতে গিয়ে তারা দীর্ঘ সময় মোবাইল বা কম্পিউটার নিয়ে বসে থাকে। এতে তাদের শারীরিক বৃদ্ধি মারাত্নকভাবে ব্যাহত হয়। এতে তারা সঠিকভাবে বেড়ে উঠে না।

লক ডাউনের কারনে চারদিকে সবকিছু বন্ধ থাকায় তাদের বাসায় অবস্থান করতে হয়। এই কারনে শিশুরা তাদের বন্ধু-বান্ধবের সাথে মিশতে পারে না। এর ফলে তাদের মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয়। মানসিক বিকাশের জন্য একে অপরের সাথে মেশা, চলাফেরা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এসব না করতে পারার কারনে শিশুদের মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে।

করোনা ভাইরাসে প্রাণ হারানো শিশুর সংখ্যা কম হলেও এর সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার শিশুরাই। যে বয়সটাতে তাদের যা যা করা দরকার, সেটা তারা করতে পারছে না। যা তাদের দেহ ও মনে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে। এই ভয়াবহ মহামারীর কারনে শিশুদের ভেতর আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। শিশুরা একটা প্রতিকূল সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে।

শিশু থেকে কৈশোরে বেড়ে উঠার মাঝ পথে অন্যতম মাধ্যম তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বন্ধু-বান্ধব, খেলার মাঠ প্রভৃতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর এসবের ধারে কাছেও যেতে পারছে না তারা। তাদের জীবন হয়েছে যান্ত্রিকময়, যা মানসিক ও শারীরিক বিকাশে বাধাদান করছে।

আপনার মতামত দিন