গেম রিভিউ করে আয় করুন

প ল্ল ব শা হ রি য়া র

ই-স্পোর্টসটি আসলে কি ?
সোজা কথায় ই-স্পোর্টস হচ্ছে অনলাইন গেমিং, ইন্টারনেটের বদৌলতে বর্তমানে পৃথিবীতে ভার্চুয়ালি বড় বড় গেইম অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় যেখানে বাস্তবের খেলাদুলার মতো খেলোয়াড়রা খেলে থাকেন তবে সেটা বাস্তবে নয় কম্পিউটারের মাধ্যমে। আপনি জানলে অবাক হবেন অনেক ই-স্পোর্টস আর্টিস্ট আসল খেলোয়াড়দের সমান টাকা উপার্জন করে থাকেন। তাহলে বুঝুন এই ক্ষেত্রটা কতটা বিস্তৃত।

ই-গেইমস নিয়ে ইউটিউব চ্যানেল বানাবো কেনো ? আসলেই কি এই কাজ করে সফল হওয়া সম্ভব?
প্রথমেই আপনাদের একটি ছোট্ট পরিসংখ্যান দেখাই, দ্যা ইন্টারন্যাশনাল ২০১৫ একটি গেইম ফেস্টিভ্যাল যেটা অনুষ্ঠিত হয়েছিলো আমেরিকার সিয়াটল শহরের কি-এরিনা থেকে যেখানে ১৭,০০০ লোকের সামনে এই কম্পিউটার গেইমস সরাসরি স¤প্রচারন করা হয়েছে এবং এই ফেস্টিভ্যালে আয়োজন হওয়া গেইমিং এর ভিডিও ইন্টারনেটে লাইভ দেখেছে লাখ লাখ মানুষ।
এবার চিন্তা করতে পারেন এ ধরনের ভিডিওতে কি রকম বিশাল পরিমানের ট্রাফিক আসতে পারে। যারা ভিডিও গেইমিং নিয়ে আগ্রহ রাখে, নিয়মিত ভিডিও গেইম খেলে তারাই এই ভিডিওগুলোর মুল ট্রাফিক এবং আমার সাথে দেখানো নিয়ম অনুযায়ী কাজ করলে আশা করি কেউ অসফল হবেন না।

ভিডিও গেইমস যে আসলেই অনেক জনপ্রিয় ভিডিও বানানোর মেথড যার কারণ হচ্ছে অনলাইন গেমিং ফ্যানদের বেশীরভাগই তরুন/তরুনীরা যারা সব সময় ইন্টারনেটের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত রাখে, সব সময় আপডেটেড রাখে নিজেকে এবং এটা নিয়ে ইউটিউব এ কাজ করলে আসলেই সফল হওয়া যাবে তার একটি উদাহারণঃ Twictch এই ওয়েবসাইটটি মুলত খেলাধুলা সম্পর্কিত একটি ভিডিও ওয়েবসাইট যেটা বর্তমানে ২ নাম্বার র‌্যাঙ্কিং এ আছে ভিডিও স্ট্রিমিং সাইটগুলোর মধ্যে।

ভিডিওগুলি আমরা কোথা থেকে সংগ্রহ করবো ?
শুরুতেই আমি বলেছি আমরা ই-স্পোর্টস নিয়ে কাজ করবো এবং আমাদের ভিডিওগুলি আমরা সংগ্রহ করবো অনলাইনে মাল্টিপ্লেয়ার গেইমিং প্রতিযোগিতার ম্যাচগুলো থেকে। এখন আমি জনপ্রিয়তা অনুসারে অনলাইনে মাল্টিপ্লেয়ার গেইমিং প্রতিযোগিতা হয় এমন কয়েকটি গেইমের নাম বলবো এবং কত সংখ্যক মানুষ সেখানে গেইম খেলেন সে ব্যাপারে আপনাদের জানাবো।

Leage of legends in short LOL (67 Million Plazers)
Dota 2 (8 Million Plazers)
Heroes of newerth (Hon) (1 million plazers)
Counter strike: Global offensive (CS:GO) (2.2 Million Plazers)
Starcraft 2 (2 Million Plazers)

এখন কিছু বিষয় সম্পর্কে আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে সে সম্পর্কে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করি।
এই মেথডটি নিয়ে কাজ করার জন্যে আপনার গেইম খেলার প্রয়োজন হবে না। যদি আপনি গেইম খেলাতে আগ্রহী না হোন সে ক্ষেত্রে চিন্তার কিছুই নেই। আপনাদের যা করতে হবে সেটা হচ্ছে গেইম ডাউনলোড করতে হবে এবং রেকর্ড / এডিটিং করতে হবে ইউটিউবে আপলোড করার জন্যে।

ইউটিউব চ্যানেলঃ-
প্রথমেই আমাদের একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে হবে যেখানে শুধুমাত্র আমরা অনলাইন গেইমিং ভিডিও আপলোড করবো।

গেইম রেকর্ডঃ-
বিভিন্ন অনলাইন গেইমের হাইলাইটস রেকর্ড করতে হবে।

ভিডিও আপলোডিংঃ-
রেকর্ড করা ভিডিওগুলি এডিট করে আমাদের ইউটিউবে আপলোড করতে হবে। প্রত্যেকদিন একই কাজ করে যেতে হবেঃ- আমাদের একদম প্রত্যেকদিন ২ থেকে ৩টি করে ভিডিও নিয়মিত আপলোড করে যেতে হবে।
প্রমোট (না করলেও চলবে)

ফেইসবুক/টুইটারঃ-
যদি চান ফেইসবুক বা টুইটারে এডভার্টাইস করার মাধ্যমে আপনার চ্যানেলের প্রমোট করতে পারেন না করলেও চলবে।

এ মেথডটি অনুসরন করে আপনারা কিভাবে লাভবান হবেন?
নিয়মিত এই পদ্ধতিটি অনুসরন করে গেলে প্রথম কয়েকমাসে আপনাদের ১০০ ভিডিও আপলোড হয়ে যাবে এবং চ্যানেলে কমপক্ষে ৫,০০০ সাবস্ক্রাইবার চলে আসবে। এক বছরের মধ্যে আপনার চ্যানেলের ভিডিও সংখ্যা হবে কমপক্ষে ১,০০০ টি এবং কমপক্ষে ৫০ লাখ এবং ভালোভাবে কাজ করলে ১ বছরের মধ্যে ১ লক্ষ সাবস্ক্রাইবারও পেয়ে যেতে পারেন! আমাদের লক্ষ্য এই না যে আমাদের চ্যানেলটি ইউটিউবের সেরা ভিডিও চ্যানেল হবে! আমাদের মুল লক্ষ্য হবে যত বেশি পারা যায় ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করা (৩টির বেশি নয় একদিনে!!) আমাদের উদ্দেশ্য হবেঃ-Quantitz over qualitz

কেনো আমাদের লক্ষ্য এমন হবে?
কারণ এডসেন্স আমাদের সাথে যে রেভিনিউটি শেয়ার করে সেটার পরিমান আপনি ১ টি ভিডিওতে ১ কোটি ভিউয়ার্স নিয়ে আসলে যত হবে, আপনি ১০০০টি ভিডিওতে ১০,০০০ করে ভিউয়ার্স নিয়ে আসলেও সেই একই পরিমান রেভিনিউ পাবেন আপনি এডসেন্স থেকে! আমরা ফেমাস কোনো স্টার বা সঙ্গিত শিল্পী না যে আমাদের একটি ভিডিওতেই কোটি কোটি ভিউয়ার্স আসবে, তাই আমাদের মুল লক্ষ্য থাকবে যত বেশি পারা যায় ভিডিও আপলোড দেওয়া এবং প্রত্যেক ভিডিওতেই মোটামোটি মানের ভিউয়ার্স নিয়ে যাওয়া।
আমরা কোন গেইম ব্যবহার করবো এই মেথড কাজ করার জন্যেঃ-
DOTA2 গেইমটি আমি ব্যবহার করবো আপনাদের এই মেথডটি সম্পুর্ন শেখানোর জন্যে, এই মেথডটি শেখার পরে আপনারা এই গেইমটি ছাড়াও আরো অনেক অনলাইন গেইম আছে যার লিস্ট আপনারা আগেই পেয়েছেন এছাড়াও নিয়মিত এ ধরনের অনলাইন গেইম রিলিজ হয় যার আপডেট সহজেই ইউটিউব থেকে পাবেন।

রেকর্ড করার জন্যে একটি সফটওয়্যার
রেকর্ড করার জন্যে আপনারা দুইটা সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন এছাড়াও অনেক স্ক্রিনরেকর্ডিং সফটওয়্যার আছে আপনার যদি কোনো একটি আগে থেকে ব্যবহারের অভ্যাস থাকে তাহলে সেগুলো ব্যবহার করেই আপনি স্ক্রিনরেকর্ড করতে পারেন। আমি OBS Studio এবং Camtasia এই দুইটি সফটওয়্যার ব্যবহার করে ভিডিও রেকর্ডিং এর কাজ করি। OBS সম্পুর্ন ফ্রি তে পাওয়া যায় Camtasia ট্রায়াল ভার্সন অনলাইন থেকে ডাউনলোড করতে পারবেন এবং পরিপুর্ন ভার্সন ব্যবহারের জন্যে টরেন্ট থেকে নামিয়ে নিতে পারেন। একটি মোটামোটি ভালো মানের কম্পিউটার (ডেক্সটপ হলে ভালো) ল্যাপটপ হলেও চলবে।

আপনার একটি মোটামোটি মানের ফাস্ট কম্পিউটারের দরকার হবে। যদি আপনার কম্পিউটারটি ৩,৪ বছর আগের কেনা হয় তাহলে আশা করি সহজেই আপনি আপনার কাজ করতে পারবেন। আপনার ল্যাপটপ বা ডেক্সটপে যদি ডেডিক্যাটেড গ্রাফিক্স কার্ড থাকা লাগবে। ইন্টারগেটেড গ্রাফিক্স কার্ড হলে-HD4000+ হলে ভালো হবে। আর আপনার অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ বা ম্যাক যেটাই হোক যেকোনো অপারেটিং সিস্টেমে এই গেইমটি আপনারা ফ্রি’তেই চালাতে পারবেন।

একটি ইউটিউব একাউন্ট
অবশ্যই আপনার একটি ইউটিউব একাউন্টের দরকার হবে যদি আপনি ইউটিউব চ্যানেল খুলতে চান, জি-মেইল আইডি খুলে সহজেই ইউটিউব একাউন্ট খোলা যায় আশা করি এই নিয়মটি সবাই জানেন। আমি আপনাদের পরামর্শ দিবো এই কাজটি করার জন্যে আপনারা পুরানো জি-মেইল একাউন্ট ব্যবহার করুন যেটা ৬ মাস বা তার চাইতে অধিক পুরোনো কারণ ইউটিউব এসব পুরোনো চ্যানেলের ভিডিও সমুহ কম রিভিউ করে, অর্থাৎ আপনার চ্যানেলটি যদি পুরোনো হয় তাহলে বিভিন্ন গেইমের ভিডিও আপলোড করার পরে মনিটাইজেশন অন করার জন্যে আপনার রিভিউর অপেক্ষা করতে হবে না যেখানে নতুন একাউন্ট হলে সেটার জন্যে অপেক্ষা করতে হয়।

যেহুতু আমরা গেইমিং হাইলাইটস নিয়ে কাজ করবো তাই আমাদের দরকার যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভিডিও আপলোড দেওয়া। তাই পুরোনো একাউন্ট হলেই সবচেয়ে বেশী ভালো হবে। একটি এডসেন্স একাউন্ট চ্যানেল খোলার সাথে সাথেই এডসেন্সের জন্যে আবেদন না করার পরামর্শ দিবো, ধৈর্যের সাথে কাজ করা সব সময় ভালো।

বাংলাদেশ থেকে এডসেন্স একাউন্ট খোলা সম্ভব না, তাই আপনার যা করতে হবে ইউটিউবের মাধ্যমে এডসেন্সের জন্যে আবেদন করার আগে আপনি কান্ট্রি চেইঞ্জ করে দিবেন, বাংলাদেশের জায়গা অন্য যেকোনো ওয়েস্টার্ন কান্ট্রি দিয়ে দিতে পারেন, এটা কোনো সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াবে না পরবর্তিতে, এটা শুধুমাত্র ইউটিউব চ্যানেলের জন্যেই প্রযোয্য হবে আপনার জি-মেইল একাউন্টের জন্যে না। আপনি সহজেই আপনার ইউটিউব একাউন্টের মাধ্যমে এডসেন্সের জন্যে আবেদন করতে পারেন যদি আগে না করে থাকেন তাহলে, আর যদি আগে করে থাকেন এবং আপনার এডসেন্স এর আবেদন রিজেক্টেড হয় তাহলে অন্য একাউন্ট খুলে কাজ করা আবার শুরু করলে আমার মতে ভালো হবে।

ইউটিউব একাউন্ট ছাড়াও আপনার কোনো ইংরেজি ভাষায় লেখা বøগ থাকলে যাতে ৪০টির মতো টিউন আছে এবং মোটামোটি মানের ভিউয়ার্স আছে তাহলে আপনি সে বøগটির মাধ্যমে এডসেন্সের জন্যে আবেদন করতে পারেন।
এডসেন্স আবেদনের পর আপনার এডসেন্স এপ্লিকেশন গুগলের কাছে গ্রহন হলে আপনার ইউটিউব চ্যানেলটির সাথে এডসেন্স যুক্ত করতে হবে যেটার জন্যে বিস্তারিত নির্দেশনা আপনি আপনার ইউটিউব চ্যানেলেই পাবেন।

আমরা কি ধরনের টুর্নামেন্ট রেকর্ড করবো?
আমার পরামর্শ হচ্ছে আপনারা অবশ্যই প্রফেশনাল গেইম গুলোর হাইলাইটস রেকর্ড করার চেষ্টা করবেন কারণ প্রফেশনাল টিমগুলোর গেইমিং কমিউনিটি’তে বড় মানের ফ্যানবেইজ থাকে যারা সব সময় তাদের গেইম অনলাইনে দেখার জন্যে উৎসুখ হয়ে থাকে। এই ধরনের টুর্নামেন্টগুলোর হাইলাইটস রেকর্ড করার সুফল হচ্ছে অতি সহজেই এইসব ভিডিও ইউটিউবে এডসেন্সের জন্যে মনিটাইজ করতে পারবেন। আর এসব ভিডিওর অনেক ভালো মানের ভিউয়ার্স আছে অনলাইনে।

কিভাবে প্রিমিয়াম টুর্নামেন্টের গেইমগুলি আমরা রেকর্ড করবো?
বেশিরভাগ প্রিমিয়াম টুর্নামেন্টের গেইমগুলো দেখার জন্যে টিকেটের দরকার হয়, তবে কিছু ফ্রি প্রিমিয়াম টুর্নামেন্টও আপনারা দেখতে পারবেন। বেশিরভাগ টুর্নামেন্টের টিকেটের দাম ১০ ডলার বা তার কম হয় যার মাধ্যমে আপনারা প্রায় ৮০ টার মতো ম্যাচের ভিডিও দেখতে সক্ষম হবেন।

ডলারের কথা দেখে যাদের মন খারাপ হচ্ছে তাদের বলছি এই ১০ ডলারের ইনভেস্ট আপনাকে আরো ১০গুন বেশি উপার্জন এনে দিতে সক্ষম হবে কারণ অন্য গেইমিং ফ্যানরা যারা আছেন তারা অনলাইনে ফ্রি’তে এই গেইম প্লে দেখার অপেক্ষায় থাকে যাতে তারা এসব গেইম দেখে নতুন কিছু শিখতে পারে,তাই এসব ভিডিও আপলোড দেওয়ার সাথে সাথেই ভিউয়ার্স আসা শুরু হবে।
আর যাদের কাছে এই টিকেট কেনার জন্যে টাকা ইনভেস্ট করার টাকা বা ইচ্ছা নেই কোনো সমস্যা নেই। আপনারা প্রথমে ফ্রি গেইমস নিয়ে কাজ করুন, অপেক্ষা করতে থাকুন টাকা উপার্জনের যখন টাকা উপার্জন হবে তখন সে টাকা দিয়েই আপনারা প্রিমিয়াম গেইমসের টিকেট কিনে নিবেন। একদম সহজ হিসাব।

আপনি যদি প্রিমিয়াম গেইম সমুহ টাকা দিয়ে না থাকতে চান তাহলেও আপনি ডটা-২ তে ফ্রিতে অনেক ভালো ভালো গেইমের হাইলাইটস দেখতে পারবেন সেগুলো রেকর্ড করে অপটিমাইজ করে আপলোড করুন আশা করি ভালো মানের ভিউয়ার্স পাবেন এবং টাকা উপার্জন করতে পারবেন আপনারা এডসেন্সের মাধ্যমে। কিভাবে ভিডিও অপটিমাইজ করতে হবে সেই বিষয়ে এই আমি পরবর্তিতে আলাদাভাবে লিখবো।