ছবি এঁকে ইউনিসেফের সুপারস্টার এচিভমেন্ট করেছি : অতিথি ইশরাত

বন্ধুরা, আশা করি সকলেই ভালো আছো। আজ তোমাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিব বর্তমান সময়ে শিশু তারকা, মডেল এবং বহুমুখী প্রতিভার অধিকারি মিষ্টি মেয়ে অতিথি ইশরাতের সাথে। ১০ বছরের ছোট্ট অতিথি এ পর্যন্ত গ্রি বাংলাদেশ এসি, স্পিড এনার্জি ড্রিঙ্ক, কোকোলা মজার ক্রিম বিস্কুট, ইস্পাহানি বিস্কুট, নেরোলাক পেইন্ট, মার্কস মিল্ক, ফান এবং জয়, ম্যাগি, বাবুল্যান্ড, এসএসজি সুপারস্টার লাইট, চপস্টিক্স, হোটেল ট্রপিকাল ডেইজি, টুয়েলভ ক্লথিং , হরলিক্সসহ বেশকিছু বিজ্ঞাপনে কাজ করেছে। মডেল হয়েছে অনেক পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের। সম্প্রতি সে ছবি এঁকে ইউনিসেফ বাংলাদেশ এ সুপারস্টার মনোনীত হয়েছে। ওহ হ্যাঁ ‍আরেকটি কথা সোমবার ১৩ জুলাই অতিথির জন্মদিন। অতিথিকে জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
আজ তারই সাথে গল্পে গল্পে সাক্ষাতকার গ্রহণ করেছেন পরিচয়র ইয়ুথ কো-অর্ডিনেটর শিশুসাহিত্যিক তুফান মাজহার খান

পরিচয়: কেমন আছো অতিথি?
অতিথি: আলহামদুলিল্লাহ্, ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন ভাইয়া?

পরিচয়: আমিও ভালো আছি ভাইয়া। তোমার বয়স যেন কত?
অতিথি: আমার বয়স ১০ বছর। এই তো একদিন পরই আমার বার্থডে আসছে, ১৩ জুলাই।

পরিচয়: বাহ্ বেশ! নিশ্চয়ই ফোর-ফাইভে পড়ছো এখন?
অতিথি: হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন। আমি বর্তমানে ক্লাস ফাইভে পড়ছি।

পরিচয়: এ পর্যন্ত কতগুলো নাটক/টিভিসি/ওভিসি/মডেলিং করেছো?
অতিথি: টিভিসি/ওভিসি-১৪/১৫ টি।
ওয়েবসিরিজ-১ (১৪ আগস্ট), টিভিসি যেমন: গ্রি বাংলাদেশ এসি, স্পিড এনার্জি ড্রিঙ্ক, কোকোলা মজার ক্রিম বিস্কুট (কাজী ইলিয়াস কল্লোল স্যারের পরিচালিত), ইস্পাহানি বিস্কুট, নেরোলাক পেইন্ট, মার্কস মিল্ক, ফান এবং জয়, ম্যাগি, বাবুল্যান্ড, এসএসজি সুপারস্টার লাইট, চপস্টিক্স, হোটেল ট্রপিকাল ডেইজি, টুয়েলভ ক্লথিং , হরলিক্স ওভিসি এবং একটি খুব সুপরিচিত টিভিসি ইউনিসেফের করোনভাইরাস প্রতিরোধ।
বিভিন্ন ব্র্যান্ড এবং সংস্থাগুলির ফটোশুটের সাথেও কাজ করেছি। যেমন: নবারুপা ফটোশুট, কিডস ফ্যাশন হাউস ফটোশুট ২০১৯, প্রাণ-আরএফএল ফটো শ্যুট, প্রাণ পটেটো ক্র্যাকার।
নাটকগুলো নিম্নরূপ: ফ্রেন্ডশিপ ডে (বাই জাস্ট স্টোরিস), হানিফ পালোওয়ান স্যারের “অমি একজন ভদ্র লোক”, আবু হায়াত মাহমুদ স্যারের “শেকল ভাঙ্গার দিনে”, “প্রিয় প্রতিবেশী” রচনায় আবু হায়াত মাহমুদ স্যার।
১৪ ই আগস্ট” নামের একটি ওয়েবসারিতেও কাজ করেছিলাম। ১৪ ই আগস্ট শিহাব শাহীন স্যারের বানানো বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ওয়েবসিরিজ। সম্প্রতি আমি দুটি নতুন নাটকে কাজ করেছি, যেগুলো পরের ঈদ-উল আযহায় প্রচারিত হবে।
১. ডার্লিং পয়েন্ট (পরিচালক: মুজিবুল হক খোকন)
২. সোনালি রোদ্দুর (পরিচালক: জুয়েল শরীফ) এটি বিটিভিতে প্রচারিত হবে এই ঈদ উল আযহায়।

পরিচয়: ওয়াও, মাথার উপর দিয়ে গেল। এত অল্প বয়সে এতগুলো কাজ কীভাবে সম্ভব হলো?
অতিথি: আসলে প্রথম কাজ করার পর থেকেই প্রচুর অফার আসছিল, অনেক রেসপন্স পাচ্ছিলাম। আর এভাবেই হয়ে গেছে, আলহামদুলিল্লাহ্।

পরিচয়: বেশ। তা কাজগুলোতে তোমার অনুপ্রেরণা দেয় কে?
অতিথি: আমার পরিবার।

পরিচয়: চমৎকার! প্রথম কার মাধ্যমে কাজে প্রবেশ করেছিলে মনে আছে?
অতিথি: হ্যাঁ, এটা মনে রাখার মতোই একটা কাজ ছিল। কাজটা ছিল অমিতাভ রেজা চৌধুরী স্যারের টিভিসি ‘ভিম বাংলাদেশ’ এর। ওটাই আমার প্রথম কাজ।

পরিচয়: প্রথমেই তো বিরাট বড় কাজ করে ফেলেছিলে দেখছি। আচ্ছা, এ বয়সে লেখাপড়া এবং কাজ, দুটো সামলাতে হিমশিম খেতে হয় না?
অতিথি: নাহ্, আসলে সব কাজেই আম্মু-আব্বু হেল্প করে। আর আমার তো আরও দুইটা আপু আছে, তারা সবকিছুতেই আমাকে অনেক হেল্প করে। তাই হিমশিম খেতে হয় না।

পরিচয়: বর্তমান করোনাকালে কীভাবে সময় কাটাচ্ছো?
অতিথি: বাসায়ই আছি, মাঝে মাঝে মন অনেক খারাপ হয়ে যায় স্কুলে যেতে পারছি না, বাইরে যেতে পারছি না কিন্তু পরিবারের সাথে অনেক ভালো সময় কাটাচ্ছি। অবসর সময়ে ড্রয়িং করছি, নাচের প্রাকটিস করছি। আমার তো একটা ইউটিউব চ্যানেল আছে, তাই সেটার জন্যও ভিডিও বানাচ্ছি। আর হ্যাঁ, এই করোনাকালে ছবি এঁকে ইউনিসেফ বাংলাদেশ এর সুপারস্টার এচিভমেন্ট করেছি। এটা এই দুঃসময়ে আমার বড় পাওয়া।

পরিচয়: স্কুলে তোমার কতজন বন্ধু আছে? বন্ধুদের মিস করো?
অতিথি: ক্লাসের সবাই আমার বন্ধু। ওদের অনেক মিস করছি এই সময়টাতে। সবচেয়ে বেশি মিস করি ওদের সাথের দুষ্টুমি আর খেলাধুলাগুলো।

পরিচয়: তোমার প্রিয় ব্যক্তি কে?
অতিথি: আমার বাবা-মা।

পরিচয়: গ্রেট, তোমার প্রিয় স্থান কোনটি?
অতিথি: আমাদের গ্রাম। গ্রামের পরিবেশ অনেক সুন্দর। চারিদিকে সবুজ। অনেক খেলাধুলাও করা যায়। তাই আমাদের গ্রাম আমার অনেক পছন্দ।

পরিচয়: এবার আসি খাবারের প্রসঙ্গে। তোমার প্রিয় খাবার কোনটি?
অতিথি: বার্গার।

পরিচয়: ওয়াও! আমারও প্রিয়। আচ্ছা, অবসরে তোমার কী করতে ভালো লাগে?
অতিথি: ড্রয়িং করতে, বই পড়তে। কার্টুনও দেখি মাঝে মাঝে।

পরিচয়: আচ্ছা। এবার বলো, সাগর, নদী, পাহাড় এগুলোর মধ্যে কোনটি বেশি ভালো লাগে?
অতিথি: পাহাড়।

পরিচয়: আমার অবশ্য সাগর পছন্দ। আচ্ছা, বড় হয়ে তোমার যদি মানুষের জন্য কোনো ভালো কিছু করার সুযোগ হয়, তাহলে তুমি কী করতে চাও?
অতিথি: আমি বড় হয়ে ডাক্তার হতে চাই। দেশের মানুষের হেল্প করতে চাই চিকিৎসার মাধ্যমে।

পরিচয়: বড়ই উত্তম চিন্তা। তোমার মনের আশা পূর্ণ হোক সেটাই কামনা করি। জীবনে অনেক বড় হও। দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করো। আল্লাহ্ সহায় হোন।
অতিথি: জি ভাইয়া, দোয়া করবেন।

পরিচয়: অবশ্যই। পরিচয়কে এত সময় দেওয়ার জন্য তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
অতিথি: আপনাকে এবং পরিচয়কেও ধন্যবাদ ভাইয়া আমাকে মূল্যায়ন করে ইন্টারভিউ নেয়ার জন্য সিলেক্ট করায়।

আপনার মতামত দিন