জনপ্রিয়তার রোগ সংক্রমিত হইতেছে

আপন অপু:
বতর্মানে খুবই সহজলভ্য হচ্ছে সোস্যাল মিডিয়া। সব বয়সীদের মাঝেই রয়েছে সোস্যাল মিডিয়ায় আশক্তি। তবে তরুণরা এতে একটু বেশিই আসক্ত। এক মোবাইলেই রয়েছে ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার, হেয়াটস অ্যাপ, ভাইবার, ইমো, ইনস্ট্রাগ্রাম আরও কত কত সাইট। আমরা প্রায় সমান তালেই এগুলো ব্যবহার করছি। কিন্তু এই সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহার আমাদের মানসিকতার উপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। এ নিয়ে আমরা কথা বলেছি বেশ কয়েকজন তারকা ও তরুণদের সাথে। আমাদের প্রশ্ন ছিলো- ‘বর্তমানে সোস্যাল মিডিয়ায় দেখা যায় অধিকাংশ মানুষই খুবই সিরিয়াস বিষয় নিয়েও হাসি-ঠাট্টায় মেতে ওঠে। এদের একটা বড় অংশ তরুণরা। কিন্তু কেন এমন হচ্ছে?’ এই নিয়ে ‍আমাদের ধারাবাহিক আয়োজনের দ্বিতীয় পর্ব আজ । এ পর্বে প্রকাশ করছি এ বিষয়ে তিনজনের বক্তব্য।

‘জনপ্রিয়তার রোগ সংক্রমিত হইতেছে’
জগলুল হায়দার
খ্যাতিমান ছড়াকার ও শিশুসাহিত্যিক
‘‘এখন সোস্যাল মিডিয়ার কারণে অনেক কিছু সহজলভ্য। আর এই সহজলভ্যতারে অনেকেই সস্তা ভাইবা বসতেছে। তাই সব কিছুতেই হয় তো মজা করার ভাবটা চইলা আসতেছে। এই সময়ের তরুণরা এই পরিবেশের মধ্যে নিজের অজান্তে তথা অবচেতনেই মজা করার একটা ‘মাইন্ড সেট’ নিয়া বইসা আছে। ফলে সামনে একটা আইটেম পাইলেই হইল, তারা সেই আইটেমের মেরিট/ প্রকৃতি বিচার না কইরাই মজা করতে শুরু কইরা দেয়। ট্রল সংস্কৃতি কিম্বা টিকটক বা মিম এইগুলারে আরো উস্কায়া দিতেছে। কারণ একজন তরুণ যখন দেখতেছে এইসব কইরা কেউ ভাইরাল হইতেছে, দ্রুত জনপ্রিয় হইতেছে তখন সেই জনপ্রিয়তার রোগ তার মধ্যেও সংক্রমিত হইতেছে। ফলে সেও সেই মজা করার পথেই যাইতেছে।’’

‘মানুষের বাস্তবমুখী চিন্তা-ভাবনা লোপ পেয়েছে’
ফাজবীর তাজ তন্ময়
গীতিকার ও সুরকার
‘‘সোস্যাল মিডিয়ার প্রতি আসক্তির ফলে মানুষের বাস্তবমুখী চিন্তা-ভাবনা লোপ পেয়েছে। সোস্যাল মিডিয়ায় ম্যাসেজ বা কমেন্টের মাধ্যমে ভাবের আদান প্রদানে অভ্যস্ত হয়ে পড়ায় এখনকার তরুণ ছেলে মেয়েরা চোখে চোখ রেখে কথা বলতে অনভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর ফলে তাদের আবেগ অনুভূতি লোপ পেয়েছে। ফলে তারা একটি সিরিয়াস বিষয়ের মর্ম উপলব্ধি না করেই নিজেদের মতো ভাব প্রকাশ করছে। আরেকটি দিক হলো অন্যজনকে অনুসরণ করা। মানে নিজের চিন্তা ভাবনাকে কাজে না লাগিয়ে অন্যের মতামতকে তারা সমর্থন করছে। যার ফলে একটি কষ্টের বিষয় নিয়েও তারা ট্রল করছে। এই অবস্থা থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে। প্রযুক্তির সহজলভ্যতার প্রয়োজন আছে। প্রযুক্তির ভালো খারাপ দুটি দিক আছে। তরুণদের ভালোটা গ্রহণ করতে আগ্রহী করতে হবে।’’

‘অন্যের সাথে তুলনা, হিংসাত্মক মনোভাব বেশী তৈরি হচ্ছে’
লামিসা মানহা অদ্বিতী
একাদশ শ্রেণি, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরী স্কুল এন্ড কলেজ
‘‘নিজেদের নিম্নমানের মনমানসিকতার কারণে অিনেকে সিরিয়াস বিষয় নিয়েও ঠাট্টা করে। আবার সবারই যে মনমানসিকতা খারাপ তাও না। হুজুগে বাঙালি যাকে বলে আরকি! অধিকাংশ সোস্যাল মিডিয়ায় সিরিয়াস বিষয়ে যেমন প্রতিক্রিয়া করছে তা দেখে এ ধরনের মানুষ তাই করছে। কিছু বুঝুক না বুঝুক। অন্যের সাথে তুলনা, হিংসাত্মক মনোভাব বেশী তৈরি হচ্ছে তাই আরকি।’’

আপনার মতামত দিন