জলভরা আকাশ আমায় ডাকে দূরে!

পরিচয় ডেস্ক

কবি রিকেল বড়ুয়ার কথায়, জিএম জনের সুর ও সংগীতায়োজনে ও তার কন্ঠে ২০১৯ সালে স্টুডিও ড্রপবিট থেকে এসেছিল বর্ষার গান ‘শহর জুড়ে’। সেই গানের লিরিক্যাল ভিডিও আসছে এই বর্ষায়।
গানটির শিল্পী জিএম জন বলেন— তখন Dropbeat এর একটা প্রজেক্ট চলছিল। আমার অনুজ, মার্সেল ও আমি অধিকাংশ সময়ই কর্মরত থাকতাম dropbeat স্টুডিওতে। হঠাৎ একদিন অত্যন্ত মেধাবী একজন গায়ক, যিনি আবার জনপ্রিয় লেখক ও কবি লুৎফর হাসান ভাই একটা লিরিক দিয়ে বলল, এটা তোর গাইতে হবে, তিন দিনের মধ্যে দিবি।
আমি লিরিকটি নিয়ে বাড়ি চলে এলাম। রাতে কাজ করতে করতে ভোর রাত্রে হঠাৎ বৃষ্টি পড়ল। আমি গিটার টা নিয়ে লিরিকটার দিকে একবার দেখতেই আমাকে আর কিছু ভাবতে হয়নি। গেয়ে ফেললাম শহর জুড়ে এই বৃষ্টির দিন।
রিকেল বড়ুয়া গানটির শব্দচয়ন খুবই ভালো করেছিল এবং গানটি প্রকাশ করার পেছনে অবদান ছিল লুৎফর ভাইয়ের অনেক, মিক্স মাস্টার করেছিল অর্ণব উল ইসলাম।
গানের ভিডিও সম্পাদনা ও আংশিক দৃশ্য ধারণ করেছেন ফরিদ আলম সৌরভ। সৌরভ জানান— কদম ফুলের দৃশ্য ধারণ করার জন্যে গাজীপুরের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় তিনি ছুটে গেছেন। অপেক্ষা করেছেন তুমুল বৃষ্টির। গানের দৃশ্যে দেখা যাবে শহুরে রাস্তায় সন্ধ্যার বৃষ্টির আলো আঁধারিয়া মুহূর্ত। দেখা যাবে বিকেলের আকাশ থেকে ঝরে পড়া অঝোর বৃষ্টি। বৃষ্টিতে টুপটাপ ঝরে পড়বে মানুষের জাগতিক বেদনা।
গানটির গীতিকার রিকেল বড়ুয়া বলেন— গান লেখার সাহস পেয়েছি প্রিয় সব্যসাচী লুৎফর ভাইয়ের কাছ থেকে। যিনি না হলে আমার গান কোনোদিন মিউজিক পেত না। ভাইয়ের স্নেহ আমি আজীবন কামনা করি। খুব বেশি অনুপ্রাণিত হয়েছি প্রিয় গীতিকার সোমেশ্বর অলি ভাইয়ের কাজ দেখে। আঠারোর বৃষ্টিতে গানটা আমি লিখেছিলাম, উনিশের বর্ষায় মিউজিক পেলো, বিশের বৃষ্টিতে এসে পেলো সুন্দর একটা ভিডিও দৃশ্য। আমাদের প্রত্যকের যেকোনো সুন্দর অর্জনই যেন এমন। ধীরে ধীরে। বর্ষার অন্য দশটা গান শোনার পাশাপাশি শ্রোতা যদি এই গানটাও শুনে তখন ভালো লাগবে।

গানের কথার সঙ্গে রয়েছে দৃশ্যের দারুণ কম্বিনেশন। টিনের চাল থেকে নেমে আসা জলের ধারা মনে করিয়ে দেবে আমাদের বৃষ্টিভেজা শৈশব। মনে করিয়ে দেবে আমাদের ফেলে আসা অতীত বর্ষাকে। পুকুরে ঝরে পড়া জল টুপটাপ দেখে মনে হবে আমাদের ছোটবেলার গ্রাম্য পুকুর। যাকে ফেলে আমরা শহরে চলে এসেছি। যে এখন আমাদের মায়ের মতো একা। দৃশ্যের শুকনো ডালে বসে থাকা বৃষ্টিভেজা একলা পাখি মনে করিয়ে দেবে আমাদের দারুণ নিঃসঙ্গতার। সবকিছু শেষে মনে হবে, জীবনের সমস্ত ক্লান্তি ছুঁড়ে ফেলে জলভরা আকাশের দিকে যেন ছুটে যাই।
এই গান বর্ষার গান। এই গান অবসরের গান। এই গান আমাদের বেদনা আর বর্ষাকে এক করে উপভোগ করবার গান।

আপনার মতামত দিন