ডাক্তারি দরগাহ

মুনিম রাব্বী

ইউরোপ , আমেরিকা , আফ্রিকার বহু দেশ ঘুরে ডাক্তার রোজাব তাঁর আস্তানা গড়েছেন প্রত্যন্ত গ্রাম অলংকারপুরে । এ নিয়ে গ্রামের মানুষের মধ্যে খুব একটা আপত্তি নেই । ডাক্তার রোজাব তাদের কাছে মহামানব । অলংকারপুর বাজার থেকে রোজাবের বাড়ি বিশ মিনিটের পথ । চার-চালা ছোট্ট টিনের ঘরে দীর্ঘ চার বছর ধরে আছেন তিনি । বয়স পঞ্চাশের কিছু বেশী । ছিম ছাম শরীর , শুকনো মুখে ভারি চশমার ফ্রেম । খুব গম্ভীর আর নরম স্বভাবের মানুষ ডাক্তার রোজাব ।
প্রতি শুক্রবার তাঁর বাড়ির আশপাশে দশ গ্রামের মানুষ এসে ভীর জমায় । ডাক্তার হিসেবে তাঁর নাম ডাক শহর অব্ধি পৌঁছে গেছে । গ্রামের সবার কাছে তাঁর ডাক্তারি আস্তানা আধ্যাত্মিক মর্যাদা পেয়েছে। লোকে বলে দরগার পীর সাহেবের মত ডাক্তার রোজাবের হাতেও নাকি কারামতি আছে। ডাক্তার রোজাবের এই ডাক্তার খানাকে গ্রামের মানুষ তাই দরগাহ বলে ডাকে । রোগী দেখার জন্য নামমাত্র দশটাকা নেন । সাধ্য মত ঔষধও দেন সস্তা মূল্যে ।
ডাক্তার রোজাব সম্পর্কে অনিকের কৌতূহল অন্যদের থেকে আলাদা । অনিকের কলেজের গণিতের শিক্ষক মুবাশ্বের স্যার তাঁর এই কৌতূহলকে আরও উস্কে দিয়েছেন । মুবাশ্বের স্যার তাঁর বাড়ির বারান্দায় বসে পত্রিকা পড়ছিলেন । এমন সময় অনিক এসে হাজির । উচ্চতর গণিতের কিছু গাণিতিক সমস্যা বুঝতে অসুবিধে হচ্ছে ওর । এরই এক পর্যায়ে কথায় কথায় উঠে এল ডাক্তার রোজাব প্রসঙ্গ ।
বুঝেছ অনিক, ডাক্তার রোজাব কে কিন্তু আমার এতটা সাধারণ মনে হয় না । আমরা বোধয় তাঁর সম্পর্কে খুব কমই জানি ।
অনিক মাথা ঝাঁকায় । ডাক্তার রোজাব সম্পর্কে তাঁর তেমন কোন ধারণাই নেই ।
স্যার , উনিকি অনেক বড় ডাক্তার ?
বড় ডাক্তার এনিয়ে সন্দেহের কিছুই নেই । কিন্তু তাঁর উদ্দেশ্য কি , তা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না । অন্যথায় এত বড় বিজ্ঞ একজন ডাক্তার এই অজ পাড়া গাঁয়ে পরে থাকবে কেন ?
অনিক কিন্তু স্যারের কথায় তেমন ভরসা পেল না । দীর্ঘ চার বছর ধরে ডাক্তার রোজাব নিয়ম করে শুধুমাত্র রোগীই দেখছেন । অসুস্থ মানুষ গুলোকে সুস্থ করে তুলছেন । এর বাইরে আর কোন উদ্দেশ্য আছে বলে কখনোই মনে হয় নি । তবুও স্যারের কথাকে সোজা চোখে উড়িয়ে দিতে পারল না অনিক । আর কিছু না হোক , ডাক্তার রোজাবের মত মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায় সে ।
শনিবারের বিকেল । অনিক ডাক্তার রোজাবের বাড়ির দরজায় এসে দাঁড়িয়েছে । ডাক্তারকে ডাকবে ডাকবে এমন সময় একটি ধূসর র‍্যাগডল জাতের বিড়াল জানালা থেকে লাফ দিয়ে অনিকের সামনে এসে পড়ল । তাঁর দিকে তাকিয়ে বার বার ডাকতে লাগল । এমন স্বাস্থ্যবান সুন্দর বিড়াল অনিক এর আগে দেখেনি । বিড়ালের বিরামহীন ডাকা ডাকিতে ডাক্তার রোজাব বের হয়ে আসলেন । বিড়ালটি তিনটি ভিন্ন ভিন্ন দৈর্ঘ্যের ছোট ছোট লাফ দিয়ে রোজাবের পায়ের কাছে চিৎপটাং হয়ে গড়াগড়ি করতে লাগল । মাথা উঁচু করে দিয়ে ডাক্তার রোজাবের হাতের আদর নিতে চাইল । বাহ , দারুণ ! বিড়ালটার একটা নামও আছে । হাম্মি বলে ডাক দিতেই বিড়ালটা ডাক্তার রোজাবের কোলে উঠে বসল । অনিকের মুখে মুচকি হাসির রেখা ফুটে উঠল । ডাক্তার রোজাব অনিকের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল ,
মাথা ব্যথা ? চোখে সমস্যা হচ্ছে ?
না না , আঙ্কেল ! আমি ঠিক আছি ।
মাথা অবশ্য ব্যাথাচ্ছিল অনিকের , চোখেও সমস্যা হচ্ছে ইদানীং । ডাক্তার রোজাবের ডাক্তারি বিদ্যা যে অঢেল তা বোঝার জন্য এমন অনেক কথা সে অনেকের মুখেই শুনেছে ।
স্যার , আমিকি আপনার সাথে কথা বলতে পারি ?
হ্যাঁ ! অবশ্যই ! এসো , ভিতরে এসো ।
অনিক ভিতরে গেল । ঘরে ঢুকতে প্রথমেই তাঁর চেম্বার । থাকে থাকে অগণিত ঔষধ সাজানো । টেবিলের উপর ছড়ানো ছিটানো কয়েকটি বই । ডাক্তার রোজাবের হাতে দ্যা হিউম্যান কর্পোরিস ফ্যাব্রিকা । ডাক্তার রোজাব বইটি টেবিলের উপরে রেখে ছোট ছোট কথায় আলাপ জমিয়ে দিলেন ।
আলাপের ফাঁকে ফাঁকে অনিক ডাক্তার রোজাবের পুরো ঘর ভালভাবে দেখে নিলো । একটি রুম মূলত বই আর ঔষধ পত্র দিয়ে ঠাঁসা । আর অন্য রুমে শোবার চৌকি , একটি টেবিল , চেয়ার , সিগারেটের স্ট্রে , দুই একটা থালাবাসন ছাড়া আর কিছুই নেই । আর দক্ষিণের কোনায় একটি ভারি কাঠের আলনায় এলোমেলো প্যান্ট , শার্ট । রোজাব কে খুব মনে ধরেছে অনিকের । ইদানীং প্রায় প্রতিদিন বিকেলেই আসছে । ডাক্তার রোজাব অনেক মজার মজার গল্প করেন । অত্যন্ত গম্ভীর এই মানুষটা যে এত সদালাপী তা অনিক ছাড়া আর কেউ জানে না ।
একদিন বিকেলে । ডাক্তার রোজাবের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পেলনা অনিক । পেলনা বলতে , ডাক্তার রোজাবের কোন সারা শব্দ পাওয়া গেলনা । অনিক ফিরে যাবে ঠিক তখনই ডাক্তার রোজাবকে হন্যে হয়ে ছুটে আসতে দেখা গেল । রোজাব এদিকেই আসছে । তার কোলে ধূসর রঙের সেই বিড়ালটা । নিস্তেজ হয়ে রোজাবের কোলে দুলছে বিড়ালের শক্তিহীন লেজ আর মাথা । সরাসরি ঘরে ঢুকে গেল ডাক্তার রোজাব ।
অনিক এদিকে এসো !
অনিক ও বিপদ বুঝতে পেড়ে ডাক্তার রোজাবের পিছু নিলো । ঘরের খিড়কী আটকাল রোজাব । মৃত ধূসর বিড়ালটি পড়ে আছে রোজাবের টেবিলে । রোজাবের চোখে জল । মুখ শুকিয়ে গেছে । মাথার এলোমেলো চুল গুলো প্যাঁচানো পাটের আশের মত জটলা পাকিয়ে আছে । কপালে ছোপ ছোপ ঘাম । এত মায়া জমা ছিল বিড়ালটার জন্য ডাক্তার রোজাবের ? হ্যাঁ , সত্যিই । একজন ডাক্তারের চোখে সব প্রাণই তো এক । তবে কিনা কোত্থেকে বিষ খেয়ে মরে যেতে হল হাম্মিকে ! ডাক্তার রোজাব খুব একা হয়ে যাবে । এই ভেবে অনিকেরও চোখ ভিজে আসল । মনুষ্যত্বহীন এই সংসারে হাম্মি বিড়াল ডাক্তার রোজাবের জন্য মানুষের চেয়ে কম কিছু নয় ।
ডাক্তার রোজাব পাগলের মত পায়চারি করছেন । তার হাতে সময় নেই যেন । ঘুরে ঘুরে এসে হাম্মির চোখ দেখছেন । দুই হাত পা টিপে টিপে কি যেন বুঝতে চাইছেন । আজ বোঝা গেল হাম্মি , ডাক্তার রোজাবের কাছে একটি নেহাত বিড়ালই ছিল না । বিড়ালটি ছিল তার বন্ধু , সবচেয়ে আপনজন । এমন মুহূর্তে ডাক্তার রোজাবকে সান্ত্বনা দেয়ার মত কোন উপায় নেই অনিকের হাতে । বিড়ালটির দিকে তাকিয়ে অনিকেরও মনে হল , হাম্মি কতইনা ভাল ছিল ! লেজ নাড়িয়ে নাড়িয়ে ঘুরে বেড়াত সমস্ত বাড়ি । ওর অকারণ লাফ গুলো ছিল দেখার মত ।
সন্ধ্যার আঁধার জমে গেছে ডাক্তার রোজাবের উঠোনে । হঠাৎই অন্য রুমে গিয়ে মোটা আলনাটা বাম দিকে জোড়ে ধাক্কা দিল ডাক্তার রোজাব । আলনাটি সরে গিয়ে একটি নিচু সিরির সুরঙ্গ পথ উন্মুক্ত হলো । অনিক এসবের জন্য প্রস্তুত ছিল না । রোজাব অনিককে বলল , হাম্মিকে নিয়ে এসো অনিক । অনিক কথামত বিড়ালটিকে কোলে তুলে ডাক্তার রোজাবকে অনুসরণ করতে লাগল ।
সিঁড়ি ভেঙে কয়েক হাত নিচে নামল । অনিকের চোখে বিস্ময়ের উদ্গিরণ । একি দেখছে অনিক ! দোচালা টিনের ঘর আর সাদামাটা দুটি রুমের নিচে , মাটির অন্দরে কিসব লুকিয়ে রেখেছে ডাক্তার রোজাব । এক পাশে ল্যাবরেটরি , অন্য পাশে কি সব অদ্ভুত অদ্ভুত কঙ্কাল , অন্যপাশে এসব কি ? অনিক আগে কখনও দেখেনি । এসব অবশ্য দেখবার সময় নেই এখন । ডাক্তার রেজাব একটা স্ট্রেচার আনলেন । তার উপর ঝুলান হ্যালোজেন লাইট গুলো জ্বালালেন । নানা ধরনের কাচি-ছোরা আরও কি কি সব এনে জড়ো করলেন ।
তারপর নিখুঁত চোখের দৃষ্টি আর হাতের ধীর স্থির পারদর্শিতায় বিড়ালের মাথার অংশ , ঘড়ের পিছনটা , পিঠের দিকটায় ছুড়ি চালাতে লাগলেন । প্রিয় হাম্মিকে কাটতে একটুও হাত কাঁপছেনা ডাক্তারের ? এত দিন পরে এসে ডাক্তার রোজাব কে আবারও অচেনা লাগছিল অনিকের কাছে । সদ্য নিস্তেজ হয়ে আসা রক্তে ভিজে গেছে রোজাবের হাত । সেই হাতে খুলি থেকে বিড়ালের ছোট্ট মস্তিষ্কটা বের করলেন । আর একটু পরে হয়ত হাম্মির ছোট্ট হৃদপিণ্ডটাও বের করবে ডাক্তার রোজাব ।
এই গোপন বাঙ্কারের এক কোনায় ছোট্ট খুপরি ঘরের মত একটি যায়গা । সেখানে মস্ত বড় রেফ্রিজারেটরের মত কিছু একটা । সেই দরজার পাল্লা খুলে একটি কাঁচের বাক্স বের করলেন ডাক্তার রোজাব । সেখানেই বিড়ালের ছোট্ট মস্তিষ্ক ডুবিয়ে রাখলেন । অনিক পত্রিকায় পড়েছে এমন কিছু । ইউরোপ , আমেরিকাতে নাকি এমনটা করা হয় । হ্যাঁ , হাভার্ড ব্রেইন স্টোরের কথা অনিক জানে । ক্রায়োনিক্স পদ্ধতিতে সেখানে মস্তিষ্ক এমনকি দেহও চির সজীব করে রাখা যায় । যাকে বলে ক্রায়োপ্রিজারভেশন । হাম্মি বিড়ালের ছোট্ট থল থলে মস্তিষ্কটা কি তাহলে তরল নাইট্রোজেনেই ডুবিয়ে রেখেদিল ডাক্তার রোজাব ? নাকি অন্য কিছু !
এবার তাঁকে একটু স্থির দেখা গেল । অনিকের দিকে এক দৃষ্টে তাকিয়ে আছেন । এই মুহূর্তে অনিককের সহায়তা না পেলে বড্ড ক্ষতি হয়ে যেত । ডাক্তার রোজাব অনিকের দিকে তাকিয়ে বলল ,ধন্যবাদ , অনিক ! তুমি না থাকলে বড় বিপদে পড়ে যেতাম ।
এমন ধন্যবাদ অনিক আগে কখনও পায়নি । এর মধ্যে কি এমন উপকার করতে পারল সে ঠিকঠাক বুঝে উঠতে পাড়ল না । ডাক্তার রোজাবের চোখে মুখে তেমন কোন চিন্তার ছাপও পাওয়া গেল না । হাম্মির জন্য মুখটা শুকিয়ে গিয়েছে খানিক । কিন্তু অনিক যে তার এই মহা গোপনীয়তা জেনে গেল তা নিয়ে রোজাব মোটেই চিন্তিত নয় । উপরন্তু সে খুশিই হয়েছে মনে হলো ।
ডাক্তার রোজাব অনিককে বলল , বুঝেছ অনিক , আমি জানি তোমার এসব ব্যাপারে অনেক আগ্রহ । আমারও তোমাকে আমার কাজের জন্য বেশ মনে হয়েছে । আমি একা একা সত্যি হাপিয়ে উঠছিলাম । আর এখন তো হাম্মিটাও নেই ! ডাক্তার রোজাবের চোখে নোনা জল চকচক করছে । তাঁর মুখের অসংখ্য রেখায় আশু একাকীত্বের ছাপ ফুটে উঠেছে ।

অনিক প্রকাশ্যে তেমন উচ্ছ্বাস প্রকাশ না করলেও ভিতরে ভিতরে দারুণ খুশি হচ্ছিল । এক অদ্ভুত রোমাঞ্চ অনুভব করছে সে । এত বড় এক বিজ্ঞানের আখড়ায় ডাক্তার রোজাবের বৈজ্ঞানিক কেরামতি দেখবে সে । আর তাছাড়া রোজাব এখন একা । তাঁকে সঙ্গ দিতেই হবে ওর ।
অনিকের পরীক্ষা চলছে । বেশ কয়েক দিন ডাক্তার রোজাবের ওখানে যাওয়া হয় না । কাল পরীক্ষা শেষ । এবার আর শহরে বড় চাচার বাসায় যাওয়া হবে না । ডাক্তার রোজাবের সাথে থাকতে হবে অনিকের । পরের দিন পরীক্ষা শেষ হলে বিকেলেই অনিক রোজাবের বাড়িতে চলে আসে । দরজায় অনেকক্ষণ কড়া নেরেও কোন সারা শব্দ না পেয়ে অনিক ঘরে ঢুকে গেল । ডাক্তার রোজাব ইদানীং কেমন যেন আত্মভোলা হয়ে উঠেছেন । তাঁর এই গোপন আস্তানার ব্যাপারে বেশ উদাসীন মনে হচ্ছিল তাঁকে । মুল দরজা আটকে অনিক সিরিবেয়ে নিচের দিকে যাচ্ছে ঠিক এমন সময় একটা অতিকায় জন্তু অনিকের সামনে এসে পড়ল । কালো মিচমিচে একটা বাগডাশ ! এ এখানে কিভাবে ? অনিক ঘাবড়ে গেল । ভয়ও পেল । বাগডাশ বেশ হিংস্র আর বুনো জন্তু । ডাক্তার রোজাবের উপর খুব বিরক্ত হল অনিক । ভাগ্যিস কোন মানুষের চোখে পড়েনি । অনিক যেইনা বেশ রগচটা একটা ভাব নিয়ে বাগডাশটাকে তাড়াতে যাবে তখনই ডাক্তার রোজাবের গলার শব্দ পাওয়া গেল । আর সেই শব্দ এসে যেন ধাক্কা খেল বাগডাশটার কানে । এক দৌড়ে চলে গেল ডাক্তার রোজাবের সামনে । অনিক ও পিছু নিলো । আজব , বাগডাশও কি পোশ মানে নাকি ?
এত দিনে ডাক্তার রোজাবের চোখমুখ কেমন যেন শুকিয়ে গেছে । চোখের চারপাশের চামড়া গুলো আরও শুকিয়ে গেছে । একটানা অনেক রাত না ঘুমোলেই কেবল এমনটা হতে পারে । মুখ শুকোলেও , মাথার ছন্নছাড়া চুল গুলো আরও বাড়ন্ত হয়ে , আরও জড়িয়ে পাকিয়ে গেলেও ডাক্তার রোজাবের চোখে মুখে কেমন যেন এক উল্লাসের ছাপ ফুটে উঠেছে । তাঁর এই আনন্দ , উন্মাদনা যেন দেখবার কেউ নেই ।
একি , বাগডাশটা কিভাবে যেন লেজ নাড়াচ্ছে । তাঁর হাটার ধরন এমন কেন ? বাগডাশ কি এভাবে হাটে কোন দিন ? নীরবতা ভাঙলেন ডাক্তার রোজাব । সারা দুনিয়ার স্বাভাবিকতাকে উস্কে দিয়ে অস্বাভাবিক এক ডাক বের হয়ে আসল ডাক্তার রোজাবের মুখ দিয়ে ।
হাম্মি …! এদিকে এসো !
মানে? অনিকের হাত পা ঘেমে উঠেছে । চোখ মুখ হা হয়ে গেছে বিস্ময়ে । ডাক শুনেই বাগডাশটি ছোট ছোট ভিন্ন দৈর্ঘ্যের তিনটি লাফ দিয়ে ডাক্তার রোজাবের পায়ের কাছে এসে চিৎপটাং হয়ে শুয়ে গড়াগড়ি খেতে লাগল । অনিকের হৃৎস্পন্দন বেড়ে গেছে । এগিয়ে গেল অনিক । কম্পমান স্বরে অনিক ও বার দুয়েক ডাকবার চেষ্টা করল । হাম্মি…, হাম্মি …!

আপনার মতামত দিন