তিশা আন্টির মতো অভিনেত্রী হতে চাই: দৃতি

ছোট্ট বন্ধুরা, আশা করি সবাই অনেক ভালো আছো। তোমাদের আজ পরিচয় করিয়ে দেব তোমাদের ছোট্ট শিশুশিল্পী বন্ধু দৃতি হুমায়রা মৌ এর সাথে। সে একজন শিশু অভিনয়শিল্পী এবং মডেল। এ পর্যন্ত কাজ করেছে বেশকিছু নাটক, বিজ্ঞাপন ও ওয়েব সিরিজে। হয়েছে বিভিন্ন পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের মডেল। তার কাজগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু কাজ হলো- সাদাকালো, রঙ বাংলাদেশ, নবরূপা, আমব্রেলা, চ্যানেল আই এর ম্যাগাজিন আনন্দ আলো এবং ডেইলি স্টারের ম্যাগাজিন আনন্দ লোক এর মডেলিং। টিভিসি এবং ওভিসি করেছে ব্র্যাক ব্যাংক, সুপার স্টার গ্রুপ এবং তথ্য মন্ত্রণালয় এর। ওভিসি করেছে হোটেল ডিস্কভারি থানচি এবং সাকিব আল হাসানের সাথে লা মেরিডিয়েন হোটেল এর। বাংলাদেশের প্রথম অনলাইন প্ল্যাটফর্ম CINESOPT ORIGINALS এ প্রকাশিত ১২ পর্বের প্রথম ইসলামিক ওয়েব সিরিজ দ্য পিস (The Peace directed by Anonno Mamun) এ অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্রে কাজ করেছে সে। ঈদ উপলক্ষ্যে আলফা আই নির্মিত এনটিভিতে প্রচারিত ঈদের নাটক ‘আমরা যাব কবে’ এবং বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষ্যে চ্যানেল আইতে প্রচারিত নাটক ‘প্রথম ভালোবাসা’তে কাজ করেছে সে। শুধু পরিচয়ই নয়, তার অনেক অভিজ্ঞতা, জানা, অজানা, পছন্দ, অপছন্দসহ নানা বিষয়ে কথা শুনব একটি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে।
বরাবরের মতোই আজও সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন পরিচয় এর সহকারী সম্পাদক শিশুসাহিত্যিক তুফান মাজহার খান

পরিচয়: কেমন আছো? তোমার পুরো নাম কী?
দৃতি: আমি ভালো আছি। আমার পুরো নাম হলো দৃতি হুমায়রা মৌ।

পরিচয়: আচ্ছা, তোমার বয়স কত এবং কোন ক্লাসে পড়ছো?
দৃতি: আমার বয়স ১০ বছর। আমি ওয়াই ডব্লিউ সি এ উচ্চমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ি।

পরিচয়: এ পর্যন্ত কতগুলো নাটক/বিজ্ঞাপন/ফটোশুট করেছো এবং সেগুলো কী কী?
দৃতি: আমি ফটোশুট করেছি সাদাকালো, রঙ বাংলাদেশ, নবরূপা, আমব্রেলা, চ্যানেল আই এর ম্যাগাজিন আনন্দ আলো এবং ডেইলি স্টারের ম্যাগাজিন আনন্দ লোক এর। টিভিসি এবং ওভিসি করেছি ব্র্যাক ব্যাংক, সুপার স্টার গ্রুপ এবং তথ্য মন্ত্রণালয় এর। ওভিসি করেছি হোটেল ডিস্কভারি থানচি এবং সাকিব আল হাসানের সাথে লা মেরিডিয়েন হোটেল এর। বাংলাদেশের প্রথম অনলাইন প্ল্যাটফর্ম CINESOPT ORIGINALS এ প্রকাশিত ১২ পর্বের প্রথম ইসলামিক ওয়েব সিরিজ দ্য পিস (The Peace directed by Anonno Mamun) এ অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্রে কাজ করেছি। ঈদ উপলক্ষ্যে আলফা আই নির্মিত এনটিভিতে প্রচারিত ঈদের নাটকে ‘আমরা যাব কবে’তে চঞ্চল চৌধুরী ও নুসরাত ইমরোজ তিশার মেয়ে হিসেবে কেন্দ্রীয় চরিত্রে কাজ করেছি।
এছাড়াও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষ্যে চ্যানেল আইতে প্রচারিত নাটক ‘প্রথম ভালোবাসা’তে সাফা কবির আপুর ছোট বোনের চরিত্রে কাজ করেছি। ফ্লাইবোট স্টুডিওর স্বাধীনতামূলক শর্টফিল্ম ‘প্রিয় রাশু’তে কেন্দ্রীয় চরিত্রে কাজ করেছি। দুরন্ত টিভির সাথে কাজ করেছি বিবিসি মাস্টার মাইন্ড এ।

শুটিং সেটে দৃতি

পরিচয়: বাহ্! অনেক কাজ করেছো। তা মিডিয়ার কাজে তোমাকে বেশি অনুপ্রেরণা দেয় কে?
দৃতি: মিডিয়ার কাজে অনুপ্রেরণা দেয় মা, বাবা ও দিদা।

পরিচয়: আচ্ছা, প্রথমে কার মাধ্যমে কাজে প্রবেশ করেছিলে?
দৃতি: প্রথমে নবরূপার কিডস মডেল হান্টিং এ সিলেকশনের মাধ্যমে মিডিয়ার কাজে প্রবেশ করি।

পরিচয়: প্রথম কাজের অভিজ্ঞতা বলো-
দৃতি: প্রথম কাজ শুনলেই মনে পড়ে ব্র্যাক ব্যাংক টিভিসির কথা। এই কাজ করার জন্য আমরা পুরো টিম সিলেটের জৈন্তাপুরে তিনদিন অবস্থান করেছিলাম।সেখানে একটা লেক ছিলো পুরো পদ্মফুলে ভরা। না দেখলে বিশ্বাস করা সম্ভব না কি যে অপূর্ব! সময়টা ছিল নভেম্বর অথবা ডিসেম্বর মাস। আমরা যে রিসোর্টে ছিলাম তার বাইরে একটা পার্ক ছিল। সেখানে বসে একদিন শুটিং স্টার দেখতে পেয়েছিলাম। কাজটাও চমৎকার হয়েছিল।

পরিচয়: বর্তমান করোনাকালে কীভাবে সময় কাটাচ্ছো?
দৃতি: করোনার জন্য এখন বাসায় অনলাইন ক্লাস করছি। বাকি সময়টা টিভি দেখি, আমাদের বিল্ডিং এর খেলার গ্রুপের সাথে খেলা করি। সম্প্রতি আমার ইউটিউব চ্যানেল Few Minutes With Driti এর জন্য বিজ্ঞান বিষয়ক ভিডিও তৈরি করেছি আমার সমবয়সীদের উদ্দেশ্য করে। বাবা ও মায়ের সহযোগিতায় চ্যানেলটা এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টায় আছি।

পরিচয়: বেশ তো! তা তোমার বেস্ট ফ্রেন্ডের নাম কী এবং কেন সে বেস্ট ফ্রেন্ড?
দৃতি: আসলে বাসায় আমার বেশিরভাগ সময় কাটে আমার কাজিনদের সাথে। স্কুলে সেইভাবে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড নেই। ক্লাসের সবাইকেই আমার খুব ভালো বন্ধু বলে মনে হয়। তাই সবাই-ই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড।

বন্ধুদের সাথে দৃতি

পরিচয়: তোমার প্রিয় জায়গা কোনটি এবং প্রিয় খাবার কী?
দৃতি: প্রিয় জায়গা বাংলাদেশের মধ্যে কক্সবাজার। এখানে বালু দিয়ে খেলতে ও পানিতে আনলিমিটেড টাইম কাটানো যায়। তাই আমার কক্সবাজার খুবই পছন্দের। আর প্রিয় খাবার কেএফসি’র মাশরুম রাইস। তাছাড়া ভাত, পরোটা, ঝাল মাংসের আইটেমগুলো আমার খুব পছন্দ।বিভিন্ন পিঠাও আমার খুবই পছন্দের।

পরিচয়: অবসরে কী করতে ভালো লাগে?
দৃতি: অবসরে টিভি দেখতে ভালো লাগে।

পরিচয়: তোমার প্রিয় টেলিভিশন প্রোগ্রাম কোনটি?
দৃতি: দুরন্ত টিভির খাট্টামিঠা আমার প্রিয় টেলিভিশন প্রোগ্রাম।

পরিচয়: পাঠ্যবইয়ের বাইরে কী বই পড়েছো? কোন ধরণের বই পড়তে ভালো লাগে?
দৃতি: পাঠ্যবই এর বাইরে আমি কমিক বই পড়তে পছন্দ করি। রিসেন্টলি নারায়ণ দেবনাথ এর নন্টে-ফন্টে সমগ্র বইটা পড়ার জন্য অনলাইনে অর্ডার করেছি।

পরিচয়: বাহ্! খুবই চমৎকার! সাগর, নদী, পাহাড় কোনটি ভালো লাগে?
দৃতি: সাগর, নদী,পাহাড় সবগুলোই খুবই পছন্দের।

পরিচয়: এই প্রথম কাউকে পেলাম যার তিনটাই পছন্দ। এর আগে সর্বোচ্চ দুইটার কথা শুনেছি। আচ্ছা, বড় হয়ে তোমার যদি মানুষের জন্য কোনো ভালো কিছু করার সুযোগ হয়, তাহলে তুমি কী করতে চাও?
দৃতি: বড় হয়ে আমার যদি সুযোগ হয় তবে আমি পথশিশুদের জন্য খাবার ও স্কুল ফ্রি করে দিব।

পরিচয়: যদি আলাদিনের চেরাগ পেয়ে যেতে তাহলে চেরাগের দৈত্যের কাছে কী চাইতে?
দৃতি: আলাদিনের দৈত্যের কাছে জাদুর গালিচা চাইতাম। ঘুরে বেড়াতাম কোনো এয়ার টিকেট এর প্রয়োজন হতো না।

পরিচয়: কি আইডিয়া! বড় হয়ে পেশা হিসেবে কোনটিকে বেছে নিতে চাও?
দৃতি: এস্ট্রোনট হবার ইচ্ছা আছে। শিক্ষক হতেও ইচ্ছে করে। আবার পুলিশ হতেও ইচ্ছে করে।

পরিচয়: অনেক ইচ্ছা। সব তো আর হওয়া যাবে না। যেকোনো একটা লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে। মনে করো তুমি প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেলে, তখন সবার আগে কোন কাজটা করবে?
দৃতি: বর্তমানে ১ বছরে যত গাছ কাটা হয় তার পরিমাণ অর্ধেক বা তারও কম করার চেষ্টা করবো প্রথমেই।

পরিচয়: ওয়াও! খুবই ভালো চিন্তা। টিভিতে কাজ করায় তোমার বন্ধুদের প্রতিক্রিয়া কী? তারা তোমার সাথে কেমন আচরণ করে?
দৃতি: টিভিতে কাজ করার জন্য বন্ধুরা আমাকে ভালোবাসার চোখে দেখে।

পরিচয়: টিভিতে যখন নিজেকে দেখো তখন কেমন লাগে?
দৃতি: টিভিতে নিজেকে যখন দেখি তখন ভালোই লাগে।

পরিচয়: বিরক্ত লাগে কখন? ভালো লাগে কখন?
দৃতি: বিরক্ত লাগে তখন, যখন আমার বেডরুম আগোছালো থাকে। আর ভালো লাগে, যখন স্কুলের বা অন্যান্য জরুরি সব কাজ ঠিক সময়ের মধ্যে শেষ করে ফ্রি হয়ে যেতে পারি।

পরিচয়: কার অভিনয় দেখে অনুপ্রাণিত হও? বা বড় হয়ে কার মতো অভিনেত্রী হতে চাও?
দৃতি: নুসরাত ইমরোজ তিশা আন্টির অভিনয় ভালো লাগে। তার মতো অভিনেত্রী হতে চাই।

নুসরাত ইমরোজ তিশা ও চঞ্চল চৌধুরীর সাথে দৃতি

পরিচয়: শুটিং এর মজার ঘটনা বলো। যা মনে পড়লে হাসি পায়-
দৃতি: ফ্লাইবোট স্টুডিওর শর্টফিল্মের কাজে ময়মনসিংহের ভালুকার একটা গ্রামে গিয়েছিলাম। ওখানে লোকজন শুটিং দেখার জন্য এত ভিড় করছিল যে, শুটিং করাই যাচ্ছিল না। এটা মনে পড়লে আজও হাসি পায়।

পরিচয়: যদি কোনো গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে থাকো তাহলে সেটি কোনটি? ওই চরিত্রে অভিনয় করতে কেমন লেগেছে?
সেই শুটিং এর কিছু অভিজ্ঞতা বা গল্প বলো-
দৃতি: অনেকগুলো কাজেই কেন্দ্রীয় ও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে কাজ করেছি। তারমধ্যে সবচেয়ে ভালো লাগে এবং সারা জীবন মনে থাকবে চঞ্চল চৌধুরী আঙ্কেল এর সাথে ‘আমরা যাব কবে’ নাটকের কাজের কথা। তিনি প্রতি মুহূর্তে শিখিয়ে দিতেন কিভাবে শট দিলে বা ডায়ালগ বললে দর্শক আমায় ভালোবাসবে।

পরিচয়: যদি তোমাকে ছোট্ট একটি গল্প লিখতে বলা হয় কী লিখবে?
দৃতি: ছোট্ট গল্প লিখতে হলে আমি ড্রাগন এর বিষয়কে কেন্দ্র করে গল্প লিখব।

পরিচয়: পরিচয় (porichoy.net) সাইটটি কি কখনো ভিজিট করেছো? যদি করে থাকো তাহলে এ সাইটটি ভিজিট করে তোমার কেমন লেগেছে?
দৃতি: পরিচয় এর ওয়েবসাইটে আগে কখনও ঢুকিনি। তবে এইমাত্র ভিজিট করে আসলাম। ‘তারকা বন্ধু’ ঘুরে ভালো লাগলো। সেখানে আমার পরিচিত অনেক সহশিল্পীরদের সম্বন্ধে ফিচার আছে, তা দেখে বেশি ভালো লাগলো।

পরিচয়: পরিচয়’কে সময় দেওয়ার জন্য তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। তোমার জন্য অনেক শুভকামনা।
দৃতি: পরিচয়কেও অনেক ধন্যবাদ।

আপনার মতামত দিন