দ্যাশে কী চিতার আকাল পড়িয়াছে

ভূপাল ও ভারতীবালা
জাহীদ ইকবাল

চিতা জ্বলিয়া ওঠে; নিভিয়াও যায়; খতম হইয়া যায় দাদা ব্রজলাল; আদিপর্ব। বাবা মোহনলাল, মা আরতিবালা গত হইয়াছে গেল সিডরে; চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী জনক-জননীর চিতার আগে দাদার চিতা জ্বলিয়া ওঠার কথা; দুর্ভাগ্য জ্বলে নাই। দাদাও চিতায় ওঠে নাই; ভূপাল ভেবে রেখেছিলো দাদার আগে সে চিতায় উঠিবে; ওঠে নাই। ওপারে কবুল হয় নাই। বিশ্বভ্রম্মাণ্ডে সে থাকিয়াই যাইবে। ভূবণ ছাড়িয়া সে কোনোকালে কোথাও যাইবে না। অবশেষে তাহার চিন্তাভাবনা ধুলিস্মাৎ হইলো; সে না উঠিয়া চিতায় দাদা-ই উঠিল। সে ঠিকই উঠিল তয় মহামারী করোনার কালে…
তা হইলে কী দাঁড়াইলো এইবার তাহার নিজের ওঠার পালা আসিলো; এইবার সে নিজেই উঠিবে। চারকুলে তার সে ছাড়া আর কেউ থাকিলো কই! তা হইলে এখনো সে ক্যান চিতায় ওঠে নাই? দ্যাশে কী চিতার আকাল পড়িয়াছে!

চারকুলে যার কেউ নাই সে ক্যান বাঁচিয়া পৃথিবীর জল ঘোলা করিবে! দীর্ঘশ্বাসের পর দীর্ঘশ্বাস ফেলিয়া পৃথিবীর বাতাস ভারি করিবে! এককালে ভারতী তাহার হাতে তাজা বকুলের মালা দিয়া কহিলো ‘ভূপাল, শুধু এই বকুলের মালাখানি তোমারে দিই নাই, মালার সাথে মালার পুরো রাজ্যটাই তোমার হাতে তুলিয়া দিলাম।’
ভূপাল বকুলের মালা হাতে পাইয়া খুশির চোটে ভারতীকে কী কহিবে? কী কহিবে__ ভুলিয়া গেলো। ভারতী চারদিক দেখিয়া শুনিয়া ভূপালকে সেইদিন জড়াইয়া ধরিলো। ভূপাল লজ্জাশরমের মাথা খাইয়া ভারতীকেও জড়াইয়া ধরিলো বুকে।
ভূপাল তখন ভুলিয়া গেলো সব মাতৃপিতৃশোক।

সত্যিই কী সে সব শোকতাপ ভুলিয়া গেলো? ভুলিতে পারিলো? আমার তাহা মনে হয় নাই। ভূপাল প্রেমকাতরে মরিয়া হইয়া উঠিলো; অবশেষে নিজেও মরিলো… যখন ভারতীবালা সাতপাক ঘুরিয়া বিলাতফেরত নরেনের গলায় ফের বকুলের মালা পড়াইলো…

 

আপনার মতামত দিন