নিজের কাছে হারতে চায় না সোহেল রানা

মুজিবুল হক, চট্টগ্রাম:
দৃষ্টিশক্তি হারিয়েও নিজের কাছে হারতে চায় না সোহেল রানা। নোয়াখালী জেলার হাতিয়ার সোনাদিয়া ইউনিয়নে একটি বড় পরিবারে জন্ম তার। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয় সোহেল। বড় ভাইয়ের সহায়তায় সমাজ সেবা অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগের মুরাদপুরে সরকারি দৃষ্টি ও বাক-প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে পড়ছেন। ২০১৮ সালে রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে অংশগ্রহণ করে জিপিএ ৪.১৭ পায় সোহেল রানা। সেই সুবাধে এই বিদ্যালয় সোহেলকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পড়ানোর দ্বায়িত্ব নেয়।
ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে সোহেল এই পর্যন্ত এসে থামতে চান না। পড়তে চান বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, হতে চান বিসিএস ক্যাডার।
সোহেল রানা জানান স্কুলে ব্রেইল পদ্ধতিতে পড়ার সিস্টেম থাকলেও মোটা মলাঠের বই বহনে অসুবিধে হয়। আবার অডিও বুকের সিস্টেম থাকলেও স্মার্টফোনের স্বল্পতার কারণে পাওয়া যায় না যথাযথ সুবিধা।

পড়াশুনার গন্ডি পেরিয়ে একটু সোস্যাল এক্টিভিটির দিকে যাওয়া যাক। নিজে শারীরিকভাবে অক্ষম হলেও মনোবলে দৃঢ় তিনি। যুক্ত আছেন আলোর মশাল ও টিম-৭১ নামের সামাজিক সংগঠনে। এছাড়াও প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে কাজ করছেন বিভিন্ন সংগঠনে। পাশাপাশি শারীরিকভাবে অক্ষমদের স্পোটিং ক্লাব ‘চিটাগং ডিসেবল স্পােটিং ক্লাব’ এর একজন সক্রিয় সদস্য সোহেল রানা।
সোস্যাল এক্টিভিটিতেও পিছিয়ে নেই এই হার না মানা তরুণ। ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এর পাশাপাশি আছে ব্যাক্তিগত ইউটিউব চ্যানেল। তার নিজের নামে ফেসবুক পেইজও কম জনপ্রিয় নয়।

তার স্কুলের বারান্দায় বসে কথা হচ্ছিলো তাঁর সাথে। ছায়াসুনিবীড় মুরাদপুরের এই স্কুলে বসেই স্বপ্ন দেখেন আকাশ ছোঁয়ার। ডিঙিয়ে যেতে চান সমস্ত প্রতিকূলতা। কাজ করতে চান তাদেরকে নিয়ে, যারা তার মত করে বেড়ে উঠছে। অতিক্রম করছে অসম্ভব কষ্টের দিন।

সোহেল রানা বিশ্বাস করেন জীবনে প্রতিবন্ধকতা আসবে, এই প্রতিবন্ধকতাকেই পুঁজি করে এগিয়ে যেতে চান তিনি। তার এই বন্ধুর পথচলায় যারা ছিলেন, আছেন, থাকবেন সবার প্রতি কৃতজ্ঞ সোহেল রানা। সামনে যেতে চান তীব্র বেগে। একদিন অনেক বড় হবেন এই আশায় বুক বাঁধেন বারংবার।

– মুজিবুল হক, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।

আপনার মতামত দিন