কবিতা: নয়নাশ্রু

মো. আ. কুদদূস

 

মাঝে মাঝে চোখ গড়িয়ে জল পড়ে,
শীতের দুপুরে মরা কাটালের জোয়ারের মতো।
কেন আসে তা বলতে পারি না,
শুধু জানি মাঝে মাঝে চোখে জল আসে,
কারণে অকারণে,
স্বেচ্ছায় অনিচ্ছায়।
অনাবৃষ্টিতে শুকিয়ে যাওয়া পরীকুণ্ডের জলপ্রপাত হতে যেমন,
নিষ্ঠুর চৈতালি দুপুরে— প্রচণ্ড খরতাপে,

গড়িয়ে পড়ে মৃদু জলের ধারা,
পাহাড়ের বুক চিঁড়ে;
আমার বুকের মাঝখান হতে তেমনি গড়িয়ে পড়ে
বেদনার জল,
তাকে রোধ করার ক্ষমতা কার?
মাঝে মাঝে এ জল কেন বহে,
আমি না জানলেও আমার মন জানে।
জানে, তৃষ্ণার্ত হৃদয়।

এ জল মৃদু বহে অবিরাম,
তবে সতত তা দৃশ্যমান নয়।
কখন যে মনের অজান্তে অন্তর ছাপিয়ে গড়িয়ে পড়ে,
তা ঠিক আমিও জানি না।
তবে পড়ে— তা সত্য,
ধ্রুব তারার মতো সত্য,
কিন্তু কেউ কি তা জানে?
আমি জানি না,
আমি শুধু জানি সবার অলক্ষ্যে আমার চোখ ভিজে উঠে,
অনন্ত এক মৃদু প্রবাহে,
বেলা অবেলায়।

মাঝে মাঝে মনে হয়, এমনি এমনিই এমন হয়,
হয়তো আমার মতো সবারই কম বেশ হয়,
এবং সবার মতো আমারও হয়,
কিন্তু আজও জানা হলো না, সত্যই সবার নয়নাশ্রু গড়িয়ে পড়ে কি না?
সবার অলক্ষ্যে সবার অন্তর এমন জল বর্ষণ করে কি না?
কিন্তু আমি নিশ্চিত— আমার ঝরে,
আমার অন্তর হতে জল গড়িয়ে পড়ে—
সুখেও পড়ে,
দুঃখেও পড়ে,
সতত পড়ে।
কেন পড়ে তা আমি নিশ্চিত জানি না,
হয়তো চোখ আছে বলেই পড়ে,
এবং হৃদয় আছে বলেই পড়ে,
এবং আমি বেঁচে আছি বলেই পড়ে;
এবং হয়তো এভাবে আমৃত্যু পড়তে থাকবে।

মাঝে মাঝে চোখ দুটো ভিজে উঠে বর্ষার আঙ্গিনার মতন।
তখন চোখদুটো ঝাপসা হয়ে উঠে গোধূলির মতো,
আবছা আলোআঁধারির সম্মিলনে।
কারণ খুঁজতে যাই না,
প্রকৃতির নিয়মেই হয়তো নোনা জলের এই বরিষণ;
আমি প্রকৃতির অমোঘ সদস্য,
সুতরাং আমার চোখ বেয়ে জল পড়বেই।
তাই তো আমার হাসিতেও জল ঝরে,
কান্নায়ও জল ঝরে,
সতত ঝরেই পড়ে।
আমার জীবনে একটিই ঋতু— বর্ষা তার নাম।
এই জীবনে অন্যসব ঋতু উঁকি দেয়ার সাহস পায় না।
দৃশ্যে অদৃশ্যে আমি জলে ভেসে যাই,
চোখের জলে,
জোয়ারভাটায়,
এবং জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।

২১ মে ২০২০
ঢাকা

আপনার মতামত দিন