পড়ার সময় পড়ি, কাজের সময় কাজ করি : সুসময়

ছোট্ট বন্ধুরা, আশাকরি সকলেই অনেক ভালো আছো। যদিও ঘরবন্দী জীবন ততটা ভালো লাগে না। কিন্তু এ খারাপ পরিস্থিতির মধ্যেই নিজেকে ভালো রাখার চেষ্টা করতে হবে। আজ তোমাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেব তোমাদের বন্ধু সুসময়কে। সে একজন শিশু অভিনয়শিল্পী। সে বেশকিছু টেলিভিশন বিজ্ঞাপন, নাটক ও ফটোশুট করেছে। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু কাজ হলো- হিমালয়ান ফেসওয়াস, কোকোলা ক্রিম বিস্কুট, প্রাণ চকোলেট, হামটি ডামটি ইত্যাদি (টিভিসি)। নাটকের মধ্যে রয়েছে ব্ল্যাক আউট গার্লফ্রেন্ড, শুধু গিফট চায়, আন্ধার কাঠির উজ্জ্বল ইত্যাদি। আশা করছি তার সম্পর্কে জেনে তোমাদের অনেক ভালো লাগবে।
তোমাদের হয়ে সুসময়ের সঙ্গে কথা বলেছেন পরিচয় এর ইয়ুথ কো-অর্ডিনেটর, শিশুসাহিত্যিক তুফান মাজহার খান

পরিচয়: কেমন আছো সুসময়?
সুসময়: আমি ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন?

পরিচয়: হ্যাঁ, আমিও ভালো আছি। তোমার পুরো নাম কী?
সুসময়: সুসময় সাহা আরিয়ান।

পরিচয়: তোমার বয়স কত এবং কোন ক্লাসে পড়?
সুসময়: আমার বয়স ৮ বছর। আমি দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ি।

পরিচয়: চমৎকার! তা এ পর্যন্ত কতগুলো নাটক/বিজ্ঞাপন আর ফটোশুট করেছো এবং সেগুলো কী কী?
সুসময়: আমি বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনে কাজ করেছি। তারমধ্যে হিমালয়ান ফেসওয়াস, কোকোলা ক্রিম বিস্কুট, প্রাণ চকোলেট, হামটি ডামটি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। বেশকিছু ওভিসি ও ফটোশুটও করেছি। কয়েকটি নাটকেও অভিনয় করেছি। তারমধ্যে ব্ল্যাক আউট গার্লফ্রেন্ড, শুধু গিফট চায়, আন্ধার কাঠির উজ্জ্বল ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

পরিচয়: বাহ্! অনেক কাজই করেছো দেখছি। মিডিয়ার কাজে তোমাকে বেশি অনুপ্রেরণা দেয় কে?
সুসময়: মিডিয়ার কাজে মা আমাকে বেশি অনুপ্রেরণা দেয়।

পরিচয়: প্রথম কার মাধ্যমে কাজে প্রবেশ করেছিলে?
সুসময়: পরিচালক স্বপন বিশ্বাস আঙ্কেলের মাধ্যমে।

পরিচয়: আচ্ছা, তা পড়ালেখা এবং কাজ- এ দুটো একসাথে সামলাতে হিমশিম খেতে হয়?
সুসময়: না, আমি পড়ার সময় পড়ি আর কাজের সময় কাজ করি। তাই আমাকে হিমশিম খেতে হয় না।

পরিচয়: তাহলে তো বেশ ভালো। বর্তমান করোনাকালে কীভাবে সময় কাটাচ্ছো?
সুসময়: আমি অনলাইন ক্লাস করছি, পাশাপাশি পড়ালেখা করছি আর অবসর সময়ে ছবি আঁকা ও খেলাধুলা করে সময় পার করছি।

পরিচয়: স্কুলে কতজন বন্ধু আছে? বেস্ট ফ্রেন্ডের নাম কী?
সুসময়: স্কুলে আমার অনেক বন্ধু আছে। আমার বেস্ট ফ্রেন্ডের নাম ফারিক।

পরিচয়: তোমার প্রিয় জায়গা কোনটি?
সুসময়: আমার প্রিয় জায়গা বসুন্ধরা সিটি। ওখানে গেলে অনেক মজা করে খেলতে পারি।

পরিচয়: বাহ! আর তোমার প্রিয় খাবার কোনটি?
সুসময়: আমার প্রিয় খাবার বার্গার।

পরিচয়: ওয়াও! তা অবসরে কী করতে ভালো লাগে?
সুসময়: অবসর সময়ে খেলতে অনেক ভালো লাগে।

পরিচয়: আচ্ছা, পাঠ্যবইয়ের বাইরে কোনো বই পড়ো? পড়লে কী ধরণের বই পড়তে ভালো লাগে?
সুসময়: পাঠ্যবইয়ের বাইরে আমার গল্পের বই পড়তে ভালো লাগে। আমি রূপকথার গল্প পড়তে ভালোবাসি।

পরিচয়: দারুণ! সাগর, নদী, পাহাড় এগুলোর মধ্যে কোনটি বেশি ভালো লাগে?
সুসময়: সাগর ভালো লাগে সাগরের ঢেউয়ের শব্দ শুনতে ভালো লাগে।

পরিচয়: চমৎকার তো! আমারও সাগর আর সৈকত সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। আচ্ছা, বড় হয়ে তোমার যদি মানুষের জন্য কোনো ভালো কিছু করার সুযোগ হয়, তাহলে তুমি কী করতে চাও?
সুসময়: পথশিশুদের জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠা করা।

পরিচয়: যদি আলাদিনের চেরাগ পেয়ে যেতে তাহলে চেরাগের দৈত্যের কাছে কী চাইতে?
সুসময়: বৃদ্ধাশ্রমের সকল বাবা-মাকে তাদের সন্তানদের ফিরিয়ে দিতে। কারণ আমি বাবা-মাকে খুব ভালোবাসি।

পরিচয়: বেশ ভালো চিন্তা। সকল সন্তানেরই উচিত বৃদ্ধ বাবা-মায়ের যত্ন নেওয়া। বড় হয়ে পেশা হিসেবে কোনটিকে বেছে নিতে চাও?
সুসময়: আমি বড় হয়ে পাইলট হতে চাই। পাশাপাশি অভিনয়টাও করে যেতে চাই। কারণ অভিনয় করতে আমার অনেক ভালো লাগে।

পরিচয়: মনে করো তুমি প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেলে, তখন সবার আগে কোন কাজটা করবে?
সুসময়: দুর্নীতি দমন করতাম।

পরিচয়: ভেরি গুড। তা টিভিতে কাজ করায় তোমার বন্ধুদের প্রতিক্রিয়া কী? তারা তোমার সাথে কেমন আচরণ করে?
সুসময়: টিভিতে কাজ করায় আমার বন্ধুরা অনেক খুশি। তারা আমাকে হিরো বলে ডাকে ও খুবই ভালোবাসে। আমাকে স্কুলে অভিনয় করে দেখাতে বলে। বিষয়গুলো আমার কাছেও খুবই উপভোগ্য লাগে।

পরিচয়: টিভিতে যখন নিজেকে দেখো তখন কেমন লাগে?
সুসময়: টিভিতে যখন নিজেকে দেখি ভীষণ ভালো লাগে।

পরিচয়: বিরক্ত লাগে কখন আর ভালো লাগে কখন?
সুসময়: যখন মা বকা দেয় তখন বিরক্ত লাগে, আর ভালো লাগে বৃষ্টি হলে।

পরিচয়: মা তো একটু বকা দিবেই। দুষ্টুমি করলে একটু শাসন মা-বাবা করেই থাকে। সে কারণে বিরক্ত হওয়া যাবে না। তবে অভিমান করা যেতে পারে। এবার বলো, কার অভিনয় দেখে অনুপ্রাণিত হও? বা বড় হয়ে কার মতো অভিনেতা হতে চাও?
সুসময়: জিয়াউল ফারুক অপূর্ব আঙ্কেলের অভিনয় আমায় অনুপ্রাণিত করে। আমি বড় হয়ে অপূর্ব আঙ্কেলের মতো অভিনেতা হতে চাই।

পরিচয়: শুটিংয়ের কোনো একটি মজার ঘটনা বলো। যা মনে পড়লে হাসি পায়-
সুসময়: একটি নাটকের চরিত্রে অভিনয় করে অনেক মজা পেয়েছি। ওখানে আমাকে পথশিশু বানিয়েছিল। আমার গেঞ্জি ছিঁড়ে, আমাকে কালো মেকাপ দিয়ে এবং আমার গায়ে ধুলা মাখিয়ে পথশিশু বানানো হয়েছিল। তখন নিজেকে দেখে আমার অনেক মজা লেগেছিল।

পরিচয়: যদি কোন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে থাকো তাহলে সেটি কোনটি? ওই চরিত্রে অভিনয় করতে কেমন লেগেছে?
সুসময়: ব্ল্যাক আউট নাটকে আমি সজল ও প্রভার ছেলে ছিলাম। ওই চরিত্রে অভিনয় করতে অনেক ভালো লেগেছে। আমরা বিদেশ থেকে এসেছি বাংলাদেশে। আমার বাবা একজন খুনি ছিলেন। আমি বাবার মতোই হয়েছি। মারপিট আমার ভালো লাগে ইত্যাদি।

পরিচয়: আচ্ছা, যদি তোমাকে ছোট্ট একটি গল্প লিখতে বলা হয় কী লিখবে?
সুসময়: আমি আমার দেশকে নিয়ে সুন্দর একটা গল্প লিখতাম।

পরিচয়: পরিচয় (porichoy.net) সাইটটি কি কখনো ভিজিট করেছো? যদি করে থাকো তাহলে এ সাইটটি ভিজিট করে তোমার কেমন লেগেছে?
সুসময়: পরিচয় সাইটটি ভিজিট করে খুব ভালো লেগেছে। কারণ অন্যদের সম্পর্কে জানতে পেরেছি এবং নিজের সম্পর্কেও অনেককিছু বলতে পেরেছি।

পরিচয়: পরিচয়’কে সময় দেওয়ার জন্য তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
সুসময়: আপনাকে এবং পরিচয়কেও অনেক ধন্যবাদ।

আপনার মতামত দিন