পৃথিবীর প্রেমিকেরা সুখে থাক !

সঞ্জয় সাহা

ক.বিষণ্ণ কবিতা

এই শহরের বুকে যে দুপুর নেমেছে আজ
বিষণ্ণ দুপুর। সদ্য বিধবার শাড়ীর আঁচলে
লুকিয়ে থাকা নিরব আর্তনাদ।

জানালার পাশে সেই উদাসীন যুবতীর মনে
বিষণ্ণ দুপুর। পোড়ামুখী নিজেকে পুড়িয়েছে
হারানো প্রেমিকের জলজ্যান্ত আগুন৷

রেললাইন ধরে চলে যাওয়া যুবকের বুকে
বিষণ্ণ দুপুর৷ বিধ্বস্ত পাঁজর চিৎকার করে
বলে –”পৃথিবীর প্রেমিকেরা সুখে থাক!”

খেলার মাঠ সবুজ শষ্যক্ষেত ঝরা পাতায়
বিষণ্ণ দুপুর। ঈশানের কোণে সজিনার ডালে
“হয় হয়” সুরে কাকের আর্তডাক!

শব্দ। ছন্দ।কলম। সাদা খাতা।কবির মন-আজ
বিষণ্ণ দুপুর। কবি লিখছে এক বিষণ্ণ কবিতা!

করোনাকালে অবরুদ্ধ জীবন-যাপনের কথা
বিদ্যুতের তারে বসা নিঃসঙ্গ শালিকের কথা
লাশ ঘরে নিথর যুবতীর শরীরে নষ্ট কীটের কথা
সিগারেটের আগুনে পুড়া বেকার যুবকের কথা

আকাশ।মাটি।গাছ।ফুল।পাখি।নদী।পাথর–
এখানে-ওখানে সবখানেই আজ নিরব বিষণ্ণতা।

খ.ভালোবাসি

তুমি বললে
কি!ভালোবাস আমায়?
আমি বললাম
ভালোবাসা! বুঝিনা কোনো ছাইমাথা;
তোমায় ঘিরে গান কবিতা–
ছন্দ পাশাপাশি।

ইচ্ছে হলে হাতটা ধরে
ছুটে যাই তেপান্তরে;
ইচ্ছে হলে সারাক্ষণ
তোমার পাশেই বসি;
খুনটুসি আর স্বপ্নগুলো
তোমার কাছেই পুষি!

গ.ভাল্লাগে

নীল শাড়ি পড়লে তোমায় ভাল্লাগে।
কাজল আঁকা চোখে তোমায় ভাল্লাগে।
খোঁপায় গাঁথা কাঠগোলাপ ভাল্লাগে।
একরঙা টিপ-চুড়ি পড়লে তোমায় ভাল্লাগে।
আলতা রাঙা পা দেখতে খুব ভাল্লাগে।
বৃষ্টিস্নাত দেখতে তোমায় ভাল্লাগে।
কারণে অকারণে তোমায় শুধু ভাল্লাগে।
ভাল্লাগে…
ভাল্লাগে…
ভাল্লাগে…
তোমার সাথে পথ চলার খুব সাধ জাগে।

কেন এত ভাল্লাগে? কারণ জানিনা তার!
তুমি কি জান?কেন এই ভালো লাগার সমাচার?

 

 

আপনার মতামত দিন