প্রতিশ্রুতি বাতাসে আমার বানান ভেঙ্গে যাচ্ছে

জান্নাতুল ফেরদৌস ইতি’র একগুচ্ছ কবিতাঃ

সন্ধ্যা পুকুর 

আমি ভাবছি আত্মাও হেঁটে যায়
গভীর শিকার হয়ে আকাশে দূর তারার মত।

একাকীত্ব প্রকাশ করে।
জানালার বাতাসে
আমি অন্ধ হয়ে যাই
আত্মার নিবন্ধন দেখে।
অন্ধ কপালে শুকনো টিপ বসে থাকে আমার।

চিঠি

তরল কাব্যময়তায় পাশাপাশি থেকো তোমরা-
নেশাগ্রস্ত বাতাসে।

উঠানে পড়ে থাকে আস্থার ফল
দাঁড়ি, কমা, টানে দূর্বা ঘাস;
কে যেন প্রার্থনার বিছানা বানায় পৃথিবীর হাতের ভাসে-।

মেঘের বেলা

আমি উপস্থিত হয়ে জীবনের গভীর সন্ধ্যায় পৌঁছে গেছি।
নাকফুল ও দীর্ঘশ্বাস ফেলে অতিথি হয়ে

মরে গেছি আমি লাজুক মৃত্যুর লুকানো সাদা ব্যক্তিগত পবিত্রতার ঘরে।

কালকের ছায়ায় আমি অনুভব করেছিলাম-
তোমার মেমোরিতেও আমার জন্য ব্যথা নাই।
আমি ধোঁয়ার মত বসে আছি প্রতিশ্রুতি বাতাসে
আমার বানান ভেঙ্গে যাচ্ছে –

মৃত দুপুর

মৃত আবেদনে।
পেন্সিল ও সাদা হয়ে যায়
তোমার চোখ মূলত লিচেন দিয়ে তৈরি –

আমি সব ভালোবাসার ভান দেখি না।
দেখি শেষ অক্ষরের কন্ঠস্বর
ঘুম এখন মৃত শরীরে আছে;

বাদামী নুড়ি পাথর হয়ে।
একটি সবুজ গাছ আহত হয়েছে
কন্ঠস্বরের সঙ্গে ;
আমি ধ্যানে আসক্ত
শরতের ফুলে!

প্রার্থনার ভোর

আমি রাতের নীরবতায় চাঁদ বইয়ের রহস্য খুলে দিয়েছি।

আমি তোমার স্বর্গের আকাঙ্ক্ষাকে ফিসফিস করতে শুনেছি-
অবিস্মরণীয় প্রার্থনার ঠোঁটে
স্বর্গের রহস্য ভরে।

অজানা শব্দে আমি চমকে উঠি
ডাকনামের বুকে;
ছায়া ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে ঈশ্বরের দানে
স্বর্গের প্রভু-
তুমি পূর্ণ আত্মা দাও-।

 

কবি পরিচিতি:
জান্নাতুল ফেরদৌস ইতি
জন্ম: ০৩-০৩-১৯৯৭ 
ঠিকানা: নেত্রকোনা। 

আপনার মতামত দিন