প্রশংসিত করোনা নিয়ে তৈরী আল আমিনের অ্যাপস

শেখ নাসির উদ্দিন, টাঙ্গাইল

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি ও সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর সঠিক বাস্তবায়নে দুটি মোবাইল অ্যাপস তৈরি করেছে টাঙ্গাইলের মো.আল আমিন।

মহামারী নভেল করোনাভাইরাসে বিশ্বের অনান্য দেশের মত বাংলাদেশেও বেড়েই চলছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। এই সময়ে বসে নেই দেশের তরুণ প্রজন্ম। আল আমিন তাদের মধ্যে অন্যতম। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ঘরে বসেই তৈরি করেছে ‘করোনা সচেতনতা অ্যাপ’।

অ্যাপসটি সম্পর্কে আলামিন বলেন, ‘করোনা প্রতিরোধমূলক অ্যাপসটির ভিতরে ৮ টি বিভাগ রয়েছে। যার মাধ্যমে জানা যাবে করোনা ভাইরাস কিভাবে ছড়ায়, করোনা হলে কেমন লক্ষণ দেখা দেয় ও ভাইরাস মোকাবেলায় কি কি করা উচিত। এটির বড় সুবিধা অ্যাপসটিতে কিছুক্ষণ পর পর সতর্ক বার্তা পাবেন। যেমন- আপনি নিয়মিত হাত পরিষ্কার করছেন কি না, নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার করছেন কি না ইত্যাদি। অ্যাপসটি পাওয়া যাবে covid19bangladesh.com ওয়েব সাইটে।

শুধু করোনা সচেতনতা সৃষ্টি করে বসে থাকেনি তরুণ এই উদ্ভাবক। এই সময়ে সরকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বিপুল পরিমাণ চাউল বরাদ্দকৃত করছে। তবে তা সুষ্ঠু বন্টনের অভাবে সরকারকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে বার বার। যখন অসৎ ব্যবসায়ীরা সরকারের এইসব প্রকল্পের চাউল চুরি করে কালো বাজারে বিক্রি করছে তখন কালিহাতি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উদ্যোগে চাউল চুরি ঠেকাতে অ্যাপস তৈরি করছে আল আমিন।

এই অ্যাপসটি সম্পর্কে আলামিন বলে, ‘তালিকায় যাদের নাম আছে তাদের হাতে কিউআর কোড সম্বলিত একটি ডিজিটাল কার্ড তুলে দিয়েছি৷ উপকারভোগিরা ওই কার্ড নিয়ে ডিলারের নিকট এলে তা মোবাইলের নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে স্ক্যান করে চাল দেয়া হচ্ছে। এতে একই ব্যক্তি একাধিকবার বা নির্ধারিত পরিমাণের বেশি চাল নেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। অন্যদিকে খুব সহজে স্বল্প সময়ে তালিকাভূক্তদের হাতে চাল পৌঁছে যাচ্ছে। আবার মাস্টাররোলে টিপসই দিতে না হওয়ায় সামাজিক দূরত্বও নিশ্চিত হচ্ছে। এতে কারও চালবাজি বা একাধিকবার নেয়ার সুযোগ নেই। কারণ, যদি কারও কার্ড স্ক্যান না হয় তবে তার জন্য বরাদ্দকৃত চাল ডিলারের কাছেই সংরক্ষিত থাকবে। আর এই হিসেব প্রতি মূহুর্তে অনলাইনে যথাযথ কর্তৃপক্ষ নজরদারি করতে পারবেন।

শুধু ওএমএস-এর চালই নয়, সরকারের ত্রাণ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মসূচিতেই ডিজিটাল পদ্ধতি প্রয়োগ করা সম্ভব। সেটা করা গেলে যেমন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে, তেমনি সরকারের নানা ব্যয়ও কমে আসবে।

ডিজিটাল কার্ডধারী জগদীশ চন্দ্র দেব নাথ বলেন,’ আগে চাউল নিতে অনেক দেরি হইত এখন খুব তাড়াতাড়ি পেয়ে যাই। কার্ড স্ক্যান করার পরেই চাউল দেয়।

উপজেলার সদরের কুলিন এন্টারপ্রাইজ স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম রনি বলেন,’ ডিজিটাল কার্ড থাকায় চাউল বিতরণ করা সহজ হয়েছে। তাছাড়া সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে আমরা এখন চাউল দেই যা আগে সম্ভব ছিল না।

কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা নিপা জানান, ‘আমি ডিজিটাল মাধ্যমে চাউল বিতরণের ব্যবস্থা করার চিন্তা করছিলাম। তখন আমাদের হাতে সময় খুব কম। প্রশাসনিকভাবে বড় সফটওয়্যার কোম্পানির কাছে যেতে পারছিলাম না। স্থানীয়ভাবে আল আমিনকে বলি। সে খুব কম সময়ে অ্যাপস তৈরি করে দেয়। প্রথমে আমরা কালিহাতি উপজেলার শুরু করি। পরে জেলা প্রশাসক এটাকে আপগ্রেড করে সারা জেলায় কাজে লাগানোর জন্য কাজ করছেন।

উল্লেখ্য,আল-আমিনের তৈরি প্রথম মোবাইল অ্যাপস ছিল ‘মাই স্কুল’। কালিহাতী উপজেলার পৌর এলাকার মো. নায়েব আলীর ছেলে আল আমিন কালিহাতী কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তার অর্জনের ঝুলিতে জাতীয় শিশু পুরষ্কার প্রতিযোগিতা ২০১৭ ও ১৮ সালে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের কাছ স্বর্ণপদক গ্রহণ করেন।

আপনার মতামত দিন