দৈত্যের কাছে বড় একটা প্লেগ্রাউন্ড চাইতাম : তাকবীর

ছোট্ট বন্ধুরা, আশা করি সবাই অনেক ভালো আছো। তোমরা সবসময় ভালো থাকো সেই কামনাই করি। আজ তোমাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেব ছোট্ট তারকাবন্ধু তাকবীর চৌধুরীকে। তার বয়স মাত্র ৬ বছর। কিন্তু এ বয়সেই রীতিমতো তারকা বনে গেছে সে। কাজ করেছে ৩০ থেকে ৪০টির মতো টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে। করেছে নামিদামি ব্র্যান্ডের ফটোশুট। অভিনয় করছে নাটক এবং ওয়েব সিরিজেও। উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে স্যাভলন টুইঙ্কেল ডায়াপার,স্পীড, প্রাণ মামা ওয়েফার, আরএফএল কিচেন সিংক, রূপায়ণ সিটি, আরডি মিল্ক, আরআরএম স্টিল, হিরো হোন্ডা, ইয়ামাহা বাইক, রেড কাউ ইত্যাদি। আর ফটোশুটের মধ্যে রয়েছে আড়ং, সেইলর, প্লে টাইম টয়, ক্লাবহাউজ ইত্যাদি।
তাকবীরের সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন পরিচয় এর ইয়ুথ কো-অর্ডিনেটর শিশুসাহিত্যিক তুফান মাজহার খান

পরিচয়: কেমন আছো? তোমার পুরো নাম কী?
তাকবীর: আমার পুরো নাম তাকবীর চৌধুরী। আলহামদুলিল্লাহ্, ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন?

পরিচয়: আমিও ভালো আছি। তোমার বয়স কত? কোন ক্লাসে পড়?
তাকবীর: আমার বয়স ৬ বছর। আমি নার্সারিতে পড়ি।

পরিচয়: আচ্ছা। তা এ পর্যন্ত কতগুলো নাটক/বিজ্ঞাপন/ফটোশুট করেছো এবং কী কী?
তাকবীর: আমি এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ থেকে ৪০টির মতো কাজ করেছি। টিভিসি এবং ওভিসির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- স্যাভলন টুইঙ্কেল ডায়াপার,স্পীড, প্রাণ মামা ওয়েফার, আরএফএল কিচেন সিংক, রূপায়ণ সিটি, আরডি মিল্ক, আরআরএম স্টিল, হিরো হোন্ডা, ইয়ামাহা বাইক, রেড কাউ ইত্যাদি। আর ফটোশুটের মধ্যে রয়েছে আড়ং, সেইলর, প্লে টাইম টয়, ক্লাবহাউজ। তপন আংকেল এর গানের মিউজিক ভিডিও করেছি।এছাড়াও নাটক আর ওয়েবসিরিজ এর কাজ চলছে। আরেকটি বড় অর্জন হলো, আড়ং এর অডিশনে ১৮ জন শিশুশিল্পীর মধ্যে ছেলে শিশুশিল্পী হিসেবে একমাত্র আমি নির্বাচিত হই। যেখানে ৩ জন মেয়ে শিশুশিল্পীসহ আমরা মোট ৪ জন নির্বাচিত হয়েছিলাম।

অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম’র কোলে তাকবীর

পরিচয়: চমৎকার! মিডিয়ার কাজে তোমাকে বেশি অনুপ্রেরণা দেয় কে?
তাকবীর: মিডিয়ার কাজে আমাকে বেশি অনুপ্রেরণা দেন আমার মা।

পরিচয়: বাহ্! প্রথম কার মাধ্যমে কাজে প্রবেশ করেছিলে?
তাকবীর: প্রথমে আমার এক আংকেল (আসিফ হাসান লায়ন) এর মাধ্যমে কাজে প্রবেশ করেছি।

পরিচয়: আচ্ছা, লেখাপড়া এবং কাজ- এ দুটো একসাথে সামলাতে হিমশিম খেতে হয়?
তাকবীর: লেখাপড়া এবং কাজ এ দুটো করতে হিমশিম খেতে হয় না। কারণ আমার মা বলেছেন, এ দুটো যদি একসাথে করি তাহলে খুব শীঘ্রই আমি আমার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।

পরিচয়: গুড, বর্তমান করোনাকালে কীভাবে সময় কাটাচ্ছো?
তাকবীর: বর্তমান করোনাকালে গান গেয়ে, ছবি এঁকে, গাছ লাগিয়ে এবং মাকে বিভিন্ন কাজে সাহায্য করে সময় কাটাচ্ছি।

পরিচয়: ভেরি গুড। তা তোমার বেস্ট ফ্রেন্ডের নাম কী এবং কেন সে বেস্ট ফ্রেন্ড?
তাকবীর: আমার বেস্ট ফ্রেন্ডের নাম হচ্ছে আলভিনা। ও আমাকে অনেক সাহায্য করে তাই সে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড।

পরিচয়: তোমার প্রিয় জায়গা কোনটি এবং প্রিয় খাবার কী?
তাকবীর: আমার প্রিয় জায়গা বাবুল্যান্ড। আমি সেখানে গিয়ে অনেক এনজয় করি। আর আমার প্রিয় খাবার বার্গার, পিৎজা, চিকেন ফ্রাই ইত্যাদি। এগুলো খেতে আমার খুব ভালো লাগে।

পরিচয়: অবসরে কী করতে ভালো লাগে?
তাকবীর: অবসরে আমার ছবি আঁকতে ভালো লাগে।

পরিচয়: সো নাইস, তোমার প্রিয় টেলিভিশন প্রোগ্রাম কোনটি?
তাকবীর: টেলিভিশন এর প্রিয় কিছু কার্টুন আছে। যেমন- মোটু পাতলু, শিবা,গাত্তু বাত্তু ইত্যাদি। এগুলো দেখতে ভালো লাগে।

পরিচয়: পাঠ্যবইয়ের বাইরে কী বই পড়েছো? কোন ধরণের বই পড়তে ভালো লাগে?
তাকবীর: পাঠ্যবইয়ের বাইরে আমি পথের কুকুর, সিন্ডারেলা, ভানমামা, ভূতের বাড়ি ইত্যাদি বই পড়েছি। আমার ভূতের বই পড়তে বেশি ভালো লাগে।

পরিচয়: খুবই ভালো। তবে ভূতের বই যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ ভূতের বই বা রূপকথার বই মানুষকে ভয় দেখানো আর অবাস্তব গল্প শোনানো ছাড়া অন্য কিছু শেখায় না। এবার বলো- সাগর, নদী, পাহাড় কোনটি ভালো লাগে?
তাকবীর: আমার সাগর বেশি ভালো লাগে।

পরিচয়: আচ্ছা, বড় হয়ে তোমার যদি মানুষের জন্য কোনো ভালো কিছু করার সুযোগ হয়, তাহলে তুমি কী করতে চাও?
তাকবীর: বড় হয়ে আমি মানুষের জন্যে খাবার আর বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। আমাদের দেশে অনেক মানুষ না খেয়ে থাকে আর তাদের থাকার কোনো জায়গায়ও নেই। তাই আমি এসব মানুষদের জন্য কিছু করতে চাই।

পরিচয়: খুবই উত্তম চিন্তা। যদি আলাদিনের চেরাগ পেয়ে যেতে তাহলে চেরাগের দৈত্যের কাছে কী চাইতে?
তাকবীর: যদি আলাদিনের চেরাগ পেয়ে যেতাম তাহলে আমি বড় একটা প্লেগ্রাউন্ড চাইতাম আর অনেক চকোলেট চাইতাম।

পরিচয়: বড় হয়ে পেশা হিসেবে কোনটিকে বেছে নিতে চাও?
তাকবীর: বড় হয়ে পেশা হিসেবে একজন অভিনেতা হতে চাই।

পরিচয়: মনে করো তুমি প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেলে, তখন সবার আগে কোন কাজটা করবে?
তাকবীর: আমি যদি প্রধানমন্ত্রী হয়ে যাই তাহলে আমি এই পৃথিবী থেকে দারিদ্রতা দূর করতে চাই।

পরিচয়: বাহ্! টিভিতে কাজ করায় তোমার বন্ধুদের প্রতিক্রিয়া কী? তারা তোমার সাথে কেমন আচরণ করে?
তাকবীর: টিভিতে কাজ করায় আমার বন্ধুরা আমাকে অনেক পছন্দ করে।আমাকে অনেক উৎসাহিত করে।

পরিচয়: টিভিতে যখন নিজেকে দেখো তখন কেমন লাগে?
তাকবীর: টিভিতে যখন নিজেকে দেখি তখন অনেক গর্ববোধ করি।

পরিচয়: অসাধারণ! বিরক্ত লাগে কখন? ভালো লাগে কখন?
তাকবীর: বিরক্ত লাগে যখন বাইরে না যেতে পারি। আর ভালো লাগে যখন খেলতে আর শুট করতে যাই।

পরিচয়: কার অভিনয় দেখে অনুপ্রাণিত হও? বা বড় হয়ে কার মতো অভিনেতা হতে চাও?
তাকবীর: আমি সালমান শাহ এর অভিনয় দেখে অনুপ্রাণিত হই। বড় হয়ে তাঁর মতো বড় অভিনেতা হতে চাই।

পরিচয়: বেশ ভালো। শুটিং এর মজার ঘটনা বলো। যা মনে পড়লে হাসি পায়-
তাকবীর: শুটিং এ সজল আংকেল এর সাথে অনেক মজা করেছি। যা মনে পড়লে এখনো অনেক হাসি পায়।

পরিচয়: আচ্ছা, যদি কোন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে থাকো তাহলে সেটি কোনটি? ওই চরিত্রে অভিনয় করতে কেমন লেগেছে?
সেই শুটিং এর কিছু অভিজ্ঞতা বা গল্প বলো-
তাকবীর: মা দিবসের কাজে আমার একটি চরিত্র ছিল। আমি সজল আংকেলের ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেছি। সেখানে আমার একটি ডায়ালগ এমন ছিল ‘বাবা দাদু তো নেই, দাদু তো আল্লাহর কাছে চলে গিয়েছে।’ সেই ডায়ালগটি আমার বাস্তব জীবনে ঘটে গিয়েছে। আমার দাদাকে আল্লাহর কাছে নিয়ে গিয়েছে। আমি আমার দাদাকে অনেক বেশি ভালোবাসি। যা আমাকে এ এখনও অনেক কষ্ট দেয়।

পরিচয়: যদি তোমাকে ছোট্ট একটি গল্প লিখতে বলা হয় কী লিখবে?
তাকবীর: বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ছোট একটি গল্প লিখতে চাই।

পরিচয়: পরিচয় (porichoy.net) সাইটটি কি কখনো ভিজিট করেছো? যদি করে থাকো তাহলে এ সাইটটি ভিজিট করে তোমার কেমন লেগেছে?
তাকবীর: হ্যাঁ, পরিচয় সাইটটি ভিজিট করেছি। অনেক ভালো লেগেছে। সেখানে আমাদের মতো ক্ষুদে অভিনেতাদের নিয়ে অনেক ভালো কিছু লিখা থাকে। যা আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা যোগায়।

পরিচয়: পরিচয়’কে সময় দেওয়ার জন্য তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। অনেক বড় হও। তোমার মনের আশা পূরণ হোক। শুভকামনা তোমার জন্য।
তাকবীর: আপনাকে ধন্যবাদ এবং অবশ্যই অনেক অনেক ধন্যবাদ পরিচয়’কে।

আপনার মতামত দিন