কবিতা: বাউলের জন্য ভালোবাসা

রাজু অনার্য

হিংসার আগুনে পুড়েছে তোমার চল্লিশ বছরের সঞ্চয়;
পুড়েছে বাদ্যযন্ত্র, গানের খাতা, বইপুস্তক।
পুড়েছে তোমার অচিন পাখির শূন্য খাঁচা; ঘরবাড়ি।

কড়িকাঠ পোড়া কয়লা,
একতারা পোড়া ছাই,
দোতারায় আঁকা পাখির শিল্পিত চোখ,
বেড়ায় দড়ির বাঁধনে আঁটা স্বপ্ন,
ঢোল-খোলের চামড়া পোড়া গন্ধ উড়ে মিশেছে বাতাসে
শরীয়তি কাঁচিতে ছাঁটা দাড়ি-গোঁফ-চুলের সাথে।
উন্মাদ মত্ততায় ভরা ধর্মান্ধতার শেকল বন্দি হাতে।
“বাউল ধ্বংস ফতোয়া’র চারশ” চল্লিশ বছরের প্রাচীন ছাইয়ে।

উন্মাদ ধর্মান্ধতার এ আগুন,
শুভ্র লেবাসের এ আবর্জনা,
লোভমিশ্রিত দীক্ষার এ কূপমণ্ডুকতা,
স্বর্গনটী সহবতের দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষা,
বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় ভীত অন্ধবিশ্বাস এবং
শিল্পকলা ও সুকুমার বৃত্তির ঘাতকদের প্রতিহিংসা পোড়াতে পারেনি
করোটি আচ্ছ্বাদিত তোমার মস্তিষ্ক,
বুকের পাঁজরে ঢাকা হৃদয়,
কণ্ঠে সুরেলা পাখির দুর্নিবার সুর; মরমীয়া গান।

হে সর্বংসহা সাধক,
হে দিব্যোন্মাদ বাউল,
হে প্রেমের মধুকর,
যতদূর বইছে তোমার পোড়া ঘরের ছাইমাখা বাতাস,
যতদূর বিস্তৃত বাঙলার পলল মাটি,
যতদূর বৃক্ষ, সবুজ ঘাসে, ফুলে মুখরিত বাংলাদেশ
যতদূর কোকিলের তান,
দোয়েলের লেজে কেঁপে কেঁপে বেজে উঠবেই—
তোমার অচিন পাখির রাগ-রাগিনী।

২০ মে ২০২০

আপনার মতামত দিন