বাঙালীরা পরিবর্তনকে মেনে নিতে পারে না

বাঙালী সমাজে মানুষদের মধ্যে যে একটা মূল উপাদানের ঘাটতি রয়েছে, তা হলো কোন পরিবর্তনকে গ্রহণ করা। তারা কেনো যেনো একই বুদ্বুদের ভিতর থাকতে চায় এবং অন্যদেরও রাখতে চায়। যেখানে প্রকৃতি নিজে পরিবর্তনশীল। উদাহরণ গুলো যদি ছোট্ট পরিসর থেকেই শুরু করি, কেউ নতুন বিয়ে করে ব্যস্ত হয়ে পড়লে বলি, বিয়ের পর সে চেঞ্জ হয়ে গিয়েছে, আগের মতো আর নাই।

কেউ নতুন চাকরি করা শুরু করলে বলি, চাকরির পর থেকে সে চেঞ্জ হয়ে গিয়েছে, তার স্টাইল চেঞ্জ হয়েছে, আগের মতো আর সময় দেয় না, কিংবা কারোর সংসারে নতুন সন্তানের আগমন কিংবা কারোর সাথে প্রেম। সবচেয়ে বেশী মানুষের চেঞ্জের কথা বলি যখন কেউ দেশের বাইরে চলে যায় বা বিদেশ ফেরত। আমরা বেশীরভাগ সময়ে তাদের পরিবর্তন গ্রহণ করতে রাজী নই। আমরা চাই, আমি যেই জায়গায় আছি, ছিলাম, সেই ব্যক্তিকেও সেই একই জায়গায় রাখতে। আমরা মাঝে মাঝে খোঁচা মেরে কথা বলা বা টিটকারি মেরে কথা বলাও ছাড়ি না।

কখনো ভাবিনি আমরা নিজেরা আসলে ঐ মুহূর্তে কোন স্টেটে অবস্থান করছি, কতখানি নিজে এগিয়েছি, কি নিজের থলিতে অর্জন করেছি।

আমরা আসলে ভাবি না, কেউ নতুন বিয়ে করলে বা প্রেম করলে বা সন্তানের আগমন হলে, জীবনের সেই নতুন সংযোজনের পর্বটি একটা বিশাল স্পেস নেয়, সেই ব্যক্তির নতুনের সাথে কোপ করতে হয়, নতুনের সাথে বেড়ে উঠতে হয়, নতুন কে সময় দিতে হয় , কম্প্রোমাইজ করতে হয় তার নিজের হেড স্পেসকেও। এটি সেই ব্যক্তির জীবনে পরিবর্তনের ধাপ।

কেউ দেশের বাইরে গেলে/ থাকলে/ ফেরত আসলে সে শিখে, নতুন কালচার, নতুন ভাষা, নতুন সংস্কৃতি, নতুন করে জীবনচালনা/ পদ্ধতি, নতুন করে অনেক কিছু। তখন সেই ব্যক্তি তার নিজের স্বভাব/ চরিত্রের আইডেন্টিটি অনুযায়ী নতুন উপাদান রিপ্লেস করে পুরাতনের সাথে, অনেক কিছু যা তার প্রয়োজন নেই, তা ঝেরে ফেলে দিয়ে নতুনকে জায়গা করে দেয় ঠিক শরৎ ও বসন্তের মতো। এটা পরিবর্তনের নিয়ম।

এটা জরুরী নয় যে, আপনার কাছে ব্যক্তিগতভাবে সেই পরিবর্তন ভালো লাগলো কি লাগলো না। বিশ্বাস করুন, কেউ নিজের পরিবর্তনকে স্বাগত জানালে আপনার ব্যক্তিগত অভিমতে তার কিছু আসে যায় না। কিন্তু আপনি আরেকজনের পরিবর্তনকে গ্রহণ করে বা না করে আপনার মনের এবং জীবনের কি প্রভাব পড়ছে (নেগেটিভ/পজিটিভ অনুভূতি) সেটার উপর নজর দেয়া বেশী গুরুত্বপূর্ণ, আপনার নিজের জন্য। আপনার হৃদয়ে ভালোবাসায় পূর্ণ করার পরিবর্তে বিষাদ / ঘৃণা/ হিংসা/ বিতৃষ্ণা অনুভূতিগুলোকে বেশী জায়গা দিয়ে ভরিয়ে তুলছেন কিনা সেদিকে লক্ষ্য করুন, কারণ ক্ষতিটা কিন্তু আপনারই হবে , ঐ ব্যক্তির কিছুই হবে না যার পরিবর্তন হচ্ছে।

হৃদয় কিন্তু আপনার একটাই, আর আপনার মস্তিষ্কে স্পেস কোন অনুভূতির ক্যামিক্যাল দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করবেন তা-ও আপনার হাতে।

সময়, প্রকৃতি পরিবর্তনশীল, মানুষ তার সাথে সাথে নিজেকে ভাঙ্গে, গড়ে … কেউ পজিটিভলি কেউ নেগেটিভলি… আপনি কোন ফর্মে নিজেকে পরিবর্তন করবেন বা গ্রহণ করবেন তা আপনারই নিয়ন্ত্রণে?

(লেখক: মাকসুদা আক্তার প্রিয়তী, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আইরিশ পাইলট, সাবেক মিস আয়ারল্যান্ড ও আন্তর্জাতিক মিডিয়া ব্যক্তিত্ব)

আপনার মতামত দিন