বাজেট ভাবনা : তরুণদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিন

আদনান তাহসিন আলমদার

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মহামারী করোনার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে/হচ্ছে তরুণরা। অনেক বেশি হারে কাজ হারিয়ে বেকারত্বের বোঝা নিয়ে মানসিক হতাশায় ভুগছে এই মানবশ্রেণী। তৃণমূল পর্যায়ের ছোট পুঁজির অনেক ব্যবসাও বন্ধ হয়ে যাওয়াতে এই বেকারত্ব মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে সম্প্রতি। সারাদেশ লকডাউনের কবলে পড়াতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোও সব বন্ধ। এদেশের বহু শিক্ষার্থী তাদের মৌলিক খরচ নির্বাহ করে টিউশন সংক্রান্ত আয় হতে। কিন্তু লকডাউনের কারণে এই টিউশনগুলোও সব বন্ধ। সব মিলিয়ে আর্থিক ক্ষতির বোঝা টানতে গিয়ে মানসিক অশান্তিতে ভুগতে হচ্ছে তরুণদের একটি বড় অংশ কে।

সম্প্রতি BBC NEWS এর – Psychiatrists warn of ‘Tsunami’ of mental illness শিরোনামে মানসিক সমস্যার সম্ভাবনা নিয়ে একটি কলাম চোখে পড়েছে। যেখানে করোনা ইফেক্টে মানসিক সমস্যার বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তাই এই বৃহদাকার ক্ষত পোষাতে আসন্ন বাজেটে তরুণদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি তরুণদের উপর এ সংকটের প্রভাব মোকাবেলায় জাতীয় পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এ নীতি প্রণয়ন করা গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থনৈতিক দিকগুলো বিবেচনায় এবারের বাজেট ঘাটতির ব্যাপারটি ইতোমধ্যে আয়নার মত পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ এই বাজেট ঘাটতি মোকাবেলায় সঞ্চয়পত্রের ক্রয়ের পাশাপাশি টাকা ছাপিয়ে হলেও সংকট সমাধানের পথ ধরতে হবে। অন্যান্য বারের তুলনায় ঋণের পরিমান ও এবার বেশি হতে পারে। তবে ঋণের ক্ষেত্রে কড়া সুদের একটি ব্যাপার অবশ্যই জড়িত থাকে। যা অবশ্যই সুখকর নয়। তাই অন্যান্যবার অবকাঠামোগত উন্নয়নে বেশি ব্যয় দেখানো হলেও আপাতত এই বছরের বাজেটে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ব্যয় কমিয়ে এনে সেই অর্থ মানব উন্নয়ন সংক্রান্ত ব্যয়ে স্থানান্তর জরুরি। পাশাপাশি বরাবরের মত অবহেলিত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও যতটুকু সম্ভব বরাদ্দ বাড়িয়ে দেওয়া উচিত। অন্যান্যবারের মত ২৫ শতাংশের দাবী নির্ধারণ করে দেওয়াটা এবারের জন্য অবশ্যই অবান্তর মনে হতে পারে। তাই এই বিষয়টি নীতিনির্ধারকদের উপর ছেড়ে দিতেই এবার আমি বেশি পছন্দ করব। একটি মডারেট লেভেলে এই ২খাতে বাজেট বাড়ালে ব্যাপারটা মন্দ হবেনা অবশ্যই।

নিশ্চিত মন্দা আমাদের গ্রাস করতে চলেছে। প্রশ্ন হল কত দ্রুত আমরা এই মন্দা কাটিয়ে উঠতে পারবো। এর জন্য অবশ্যই প্রাক-সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি। এই সাবধানতার অংশ হিসেবে মন্দা দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ার প্রেক্ষিতে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ তরুণদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা উচিত। প্রয়োজনে ব্যয় বাড়িয়ে হলেও এই কাজটি যেন সম্পাদিত হয়।

লেখক: তরুণ অর্থনীতিবিদ ও সমাজকর্মী।

আপনার মতামত দিন