বাবা আমার বেস্ট ফ্রেন্ড : ইয়াশরিব হাবিব

বন্ধুরা, ধারাবাহিক সাক্ষাতকারের আজকের পর্বে যাকে তোমরা পাচ্ছো সে তোমাদেরই অতি পরিচিত মুখ, প্রিয় শিশুতারকা ইয়াশরিব হাবিব। তাকে তোমরা প্রায়ই টিভিতে দেখে থাকো। নানা সাজে, নানা চরিত্রে, নানা বিজ্ঞাপনে সে এসে তোমাদের সামনে হাজির হয়। ইতোমধ্যে সে বেশকিছু বিজ্ঞাপনে কাজ করেছে। তার বেশিরভাগই স্বনামধন্য কোম্পানির। এর মধ্যে রয়েছে ওয়ালটন, রেড কাউ, নেসক্যাফে, সার্ফ এক্সেল, রবি ইত্যাদি।
প্রতিবারের মতো আজকের সাক্ষাতকারটিও গ্রহণ করেছেন টিন এবং ইয়ুথ প্লাটফর্ম ‘পরিচয়’র ইয়ুথ কো-অর্ডিনেটর, শিশুসাহিত্যিক তুফান মাজহার খান।

পরিচয়: কেমন আছো ইয়াশরিব?
ইয়াশরিব: আলহামদুলিল্লাহ্। তুমি কেমন আছো?

পরিচয়: আলহামদুলিল্লাহ্, আমিও ভালো। আজ যে তোমার সাক্ষাতকার নিচ্ছি তাতে তোমার কেমন লাগছে?
ইয়াশরিব: অনেক ভালো চাচ্চু। এই প্রথম আমি কোনো ইন্টারভিউ দিচ্ছি।

পরিচয়: বলো কী? তুমি এতগুলো টিভিসি/ওভিসি করেছো। এর মধ্যে কেউ তোমার সাক্ষাতকার নেয়নি?
ইয়াশরিব: নেয়নি বললে ভুল হবে। আসলে অনেক মিডিয়াই আমার ইন্টারভিউ নিতে চেয়েছিল। কিন্তু পড়ালেখা, শ্যুটিং আর নানা ব্যস্ততার কারণে আমিই সময় দিতে পারিনি। এখন যেহেতু করোনার সময় চলছে তাই কাজ এবং পড়ালেখা দুটোরই চাপ কম। তাই ইন্টারভিউ দিতে বসলাম।

পরিচয়: বাহ্! পুরাই পাক্কা প্লেয়ার। ছোট্ট একটা বাবু হয়েও একেবারে বড়দের মতো করে কথা বলছো। আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি।
ইয়াশরিব: হ্যাঁ চাচ্চু। আমার বয়স মাত্র ৬ বছর চলছে। আগামী ২ সেপ্টেম্বর আমার ৭ শুরু হবে।

পরিচয়: হুম, আমারও এমনই মনে হচ্ছিল। তা এখন কোন ক্লাসে পড়ছো?
ইয়াশরিব: আমি কেজি টুতে পড়ি।

পরিচয়: বেশ! এ পর্যন্ত কতগুলো নাটক/টিভিসি/ওভিসি/মডেলিং করেছো?
ইয়াশরিব: এখনো নাটক করা হয়নি। ধারাবাহিক নাটকের অফার এসেছিল কিন্তু করা হয়ে ওঠেনি। বিশেষ বিশেষ দিনের কোনো ভালো প্যাকেজ নাটকের অফার পেলে অবশ্যই করব। টিভিসি করেছি ৭টি। ওভিসি করেছি ১২টি। আর বেশ কিছু ফটোশ্যুট করেছি।

পরিচয়: চমৎকার! এত কম বয়সে এতগুলো কাজ করা কীভাবে সম্ভব হলো?
ইয়াশরিব: আমি কাজ বেশি করছি না। আমি চেষ্টা করি কাজ বাছাই করে করতে। অফার পেলেই কাজ শুরু করি না। আগে কাজের বিশেষত্ব, কোয়ালিটি এগুলো বিচার করি। তা না হলে এতদিনে আরও অনেক কাজ করতে পারতাম।

পরিচয়: তুমি তো দেখছি দারুণ কথা বলো। এত গুছিয়ে কথা বলা কোথায় শিখেছো?
ইয়াশরিব: আসলে এটা তো ওইভাবে শেখার বিষয় না। বলতে বলতেই শিখে গেছি বলা যায়।

পরিচয়: না, তোমার সাথে পেরে ওঠছি না। তুমি সত্যিই পাক্কা প্লেয়ার। আচ্ছা, তোমার কাজে অনুপ্রেরণা দানকারী কে?
ইয়াশরিব: এককথায় আমার পরিবার।

পরিচয়: প্রথম কার মাধ্যমে কাজে প্রবেশ করেছিলে মনে আছে?
ইয়াশরিব: হ্যাঁ, মনে আছে। আমি প্রথম কাজে প্রবেশ করেছিলাম জিয়াউল করিম জিয়া আংকেলের মাধ্যমে।

পরিচয়: লেখাপড়া এবং কাজ, দুটো সামলাতে হিমশিম খেতে হয় কি?
ইয়াশরিব: না, কারণ লেখাপড়া এবং কাজ দুটো করতেই আমি অনেক আনন্দ পাই। যার ফলে আমি সময় মিলিয়ে নিয়েই দুটো করে থাকি। তাই এখনও হিমশিম খেতে হয়নি।

পরিচয়: অতি চমৎকার! বর্তমান করোনাকালে কীভাবে সময় পার করছো?
ইয়াশরিব: অনলাইন ক্লাস করি, বাবার সাথে খেলা করি, আম্মুর কাজে সাহায্য করি, গাছের পরিচর্যা করি ইত্যাদি। আমার ৪ টি মুরগির বাচ্চা আছে, ওদের দেখাশুনা করি।

পরিচয়: ওয়াও! ইয়াশরিব তো দেখি দারুণ কর্মঠ। এতগুলো কাজ তুমি করতে পারো সেটা ভাবতেই অবাক হচ্ছি। তা মানুষ শখ করে পাখির বাচ্চা পোষে, বিড়ালছানা পোষে, কুকুর পোষে কিন্তু তুমি মুরগির বাচ্চা কেন পোষ?
ইয়াশরিব: মুরগির বাচ্চা বেশি ভালো লাগে তাই।

পরিচয়: বেশ ভালো। তা স্কুলে তোমার কতজন বন্ধু আছে বলবে কি?
ইয়াশরিব: হ্যাঁ, আমার ক্লাসের সবাই আমার বন্ধু। অবশ্য আমার বেস্ট ফ্রেন্ডের নাম হামজা।

পরিচয়: তাদের মিস করো?
ইয়াশরিব: (মন খারাপ করে) হ্যাঁ অনেক, তবে আমি বেশি মিস করি আমার বন্ধু হামজাকে।

পরিচয়: আশা করছি করোনা পরিস্থিতির শীঘ্রই অবসান ঘটবে। আর তুমি আবার তোমার সব বন্ধুদের ফিরে পাবে। আচ্ছা, বলো তো তোমার প্রিয় ব্যক্তি কে?
ইয়াশরিব: আমার ছোট মামা ও রিকি ভাইয়া।

পরিচয়: বাহ!, ইউনিক অ্যানসার। সবাই একটা কমন অ্যানসার দেয়, মা-বাবা। যাক অনেকদিন পর হলেও একটা একসেপশনাল অ্যানসার পেলাম। তুমি যাদের কথা বললে তারা নিশ্চয়ই তোমাকে অনেক আদর করে?
ইয়াশরিব: হ্যাঁ, সেজন্যই তো তাদের কথা বললাম।

পরিচয়: ওহ্ আচ্ছা। তা তোমার মা-বাবা কি বেশি আদর করে না?
ইয়াশরিব: হ্যাঁ, করবে না কেন? আমি ভেবেছিলাম তুমি মা-বাবা ছাড়া অন্য কোনো প্রিয় ব্যক্তির কথা জানতে চেয়েছো।

পরিচয়: হুম ট্যালেন্ট। ঠিক বলেছো। সবাই বলে মা-বাবা। আমিও তো জানি সবার প্রিয় ব্যক্তি তার মা-বাবা। কিন্তু আমি যেটা জানতে চাই সেটা হলো মা-বাবা বাদ দিয়ে অন্য কে প্রিয়? তোমাকে ধন্যবাদ বুঝতে পারার জন্য। এবার বলো তোমার পছন্দের জায়গা কোনটি?
ইয়াশরিব: কক্সবাজার ও ভারতের মানালি।

পরিচয়: গ্রেট চয়েস, আর প্রিয় খাবার?
ইয়াশরিব: চিকেন বল, পিৎজা ও গরুর মাংস।

পরিচয়: ফাস্টফুড/রিচফুড কিন্তু বেশি খাওয়া যাবে না। তাহলে শরীর খারাপ হয়ে যাবে। বেশি বেশি শাক-সবজি, ফলমূল এগুলো খেতে হবে। পছন্দের খাবারের তালিকায়ও এগুলো রাখা উচিত।
ইয়াশরিব: আচ্ছা, মনে থাকবে।

পরিচয়: অবসর সময়ে তুমি কী করতে পছন্দ কর?
ইয়াশরিব: বাবার সাথে খেলতে ভালো লাগে। বাবা আমার বেস্ট ফ্রেন্ড।

পরিচয়: বেশ! কিন্তু একটু আগে তো বললে হামজা তোমার বেশ ফ্রেন্ড।
ইয়াশরিব: হামজা আমার স্কুলের বেস্ট ফ্রেন্ড। আর বাবা তো সবসময়ের জন্যই বেশ ফ্রেন্ড। হামজাকে তো আমি সবসময় পাই না। আর বাবাকে তো সবসময় পাই।

পরিচয়: ওহ্। আচ্ছা সাগর, নদী এবং পাহাড় এর মধ্যে কোনটি বেশি ভালো লাগে?
ইয়শরিব: সাগর।

পরিচয়: বাহ! আমার পছন্দের সাথে মিল আছে। যদি বড় হয়ে মানুষের জন্য কোনো ভালো কিছু করার সুযোগ পাও, তাহলে কী করবে?
ইয়াশরিব: অসহায় শিশুদের পাশে দাঁড়াব, তাদের খাওয়া ও পড়াশোনার ব্যবস্থা করব।

পরিচয়: উত্তম চিন্তা। তোমার ইচ্ছা পূর্ণ হোক। বড় হয়ে পেশা হিসেবে কোনটিকে বেছে নেবে?
ইয়াশরিব: অভিনয়, আমি একজন সফল অভিনেতা হতে চাই।

পরিচয়: তোমার মনোবাসনা পূর্ণ হোক সেই কামনাই করি। জীবনে অনেক বড় হও। অভিনয় দিয়ে জয় করে নাও সকল মানুষের মন। বাংলাদেশের অভিনয়শিল্পকে সমৃদ্ধ কর। পরিচয়কে সময় দেওয়ার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।
ইয়াশরিব: তোমাকেও ধন্যবাদ, কষ্ট করে আমার ইন্টারভিউটি নেওয়ার জন্য।

আপনার মতামত দিন