চেনা পথ~ সিরিজ: ০৫

জয়া আচার্য্য
তুহিন বড় হয়ে চাকুরী করে প্রতিদিন ২ ঘন্টা করে সময় কাটাতে চায় এসব বৃদ্ধদের সাথে বৃদ্ধাশ্রম এ,তাদের মনের আকুলতা বুঝতে চায় , তাদের অকথ্য ইচ্ছা গুলো যে গুলো তারা সন্তানদের জন্য বির্সজন দিয়েছে সে গুলো পূরণ করতে চায়, তাদের কথা ও সিদ্ধান্তের মর্যাদা দিতে চায় যা তারা আপন সন্তানদের থেকে আশা করেও পায় নি
আমরা বর্তমানে আমাদের কে নিয়ে এতটাই ব্যস্ত যে বাবা মা কেমন আছে জানতে ভুলেছি , পড়াশুনা , ক্যারিয়ার , চাকরি, প্রেম নিয়ে এত মাতামাতি যে প্রেমিকার জন্য আংটি কিনছি আর বাবা মা না খেয়ে আছে কি অসুস্থ আছে তাদেরকে বুঝতে ভুলেছি , ভুলেছি তাদের নিঃস্বার্থ  ভালোবাসা ছুটেছি  মোহের পিছনে
দিয়েছি বয়সের দোষ
ভুলেছি ভালবাসার ঋণ, করছি হিসাব সে ঋণের অর্থ দিয়ে , আজকাল যে কষ্ট প্রেমিকার জন্য দেখাই হায় তা যদি বাবা মা কে দেখাতাম তাহলে পৃথিবীর চিত্রটাই হতো অন্য
হয়তো কেঁদে কেঁদে আর অন্ধ হতে হতো না মাকে একটি বার ছেলেকে দেখার জন্য
হয়ত বাবার  হতো না স্ট্রোকের উপসর্গ দেখা পেলে আর যত্ন পেলে ছেলের
ঘরে ঘরে এমন পুত্রের ই আশা করে তুহিন
বাবা মা পাওয়া ভাগ্যের বিষয়
সবাই তো তা পায় না , তাই অবহেলায় এমন অমূল্য রত্ন কে করো না অগ্রাহ্য
বিপদে বন্ধু চেনা যায় , বিপদ যখন অসীম দেখবে সবাই তোমায় রেখে ফুস , কেবল বাবা মা ছাড়া
যেন তোমায় বিপদ ছুতে না পারে এজন্য বিপদকে তারা বুকে পেতে নিবে
হায় রে দিন শেষে তুমিই তাদেরকে বিপদের মুখে ঠেলে ফেলে দিলে
বলতে বলতে তুহিনের চোখ যেন অসীম অশ্রুর সাগরে গোসল দিলো
সে শপথ করলো প্রতি পহেলা বৈশাখে সে নতুন জামাকাপড় দিয়ে সাজাবে বৃদ্ধদেরকে, তাদেরকে আর কষ্ট পেতে দেবে না , অনুষ্ঠান করবে  , গেমস করবে , কারণ জীবন সহজ যদি আমরা সহজ, হাসিখুশি আর সুস্থ  থাকি
 একটু হাসি আর আনন্দ হয়তো বাড়িয়ে দিতে পারে জীবনে বেঁচে  থাকার আরও কয়টি দিন
(বাকিটা পরের পর্বে )

আপনার মতামত দিন