বিরামচিহ্নহীন বেদনার রশি আমি ক্রমাগত টানছি

রফিকুল ইসলামের একগুচ্ছ কবিতা

বিরামচিহ্ন

আমার দুঃখের কোনো দাঁড়ি নেই, কমা নেই
এমন কি কোনো প্রশ্নবোধক চিহ্নও নেই
আমার বুকের আড়ালে দগদগে ব্যথার পাশে
বিস্ময় সূচক চিহ্নটিও বসেনি কখনো!

বিরামচিহ্নহীন বেদনার রশি আমি ক্রমাগত টানছি
রাবারের মত কষ্টগুলো শুধু দু’দিকে প্রসারিত হচ্ছে
অথচ তোমার হাতেই কলম। চাইলেই দিতে পারো
আমার যন্ত্রণার শেষে একটা জুতসই বিরামচিহ্ন।

দ্যা লাস্ট ট্রেন

বিহানবেলার ট্রেনে চইড়া
চইল্ল্যা গেলি ঢাহা,
বেলাশেষে কত্তো মাইনসে
ঘরে ফিরে-আহা!

হুইসেল দিয়া আহে গাড়ি
ডরে পরাণ কাঁপে
এই বুঝি আইলো সে পাখি
আগুনে জল মাপে!

চইল্ল্যা যদি যাবি রে পাখি
কথা দিছিলি কেনে?
বিরহ ছ্যালে পরাণ পোড়ে
নিছি ভাইগ্য মেনে।

বেকতে কয় আর আবি না
মনডা কয় আবি,
শেষ ট্রেনের আশায় থাকি
আমার সাথে যাবি?

আয় রে ফিরে নিদয়া পাখি
শূন্য উঠান কান্দে,
তোরে নিয়া জোছনা রাইত
মায়ার গান বান্দে।

কাঁটাতার

আমার সামনের ও পেছনের কাঁটাতার- আমি মানিনা
মাটিকে ভাগ করা মানে মা’কে ভাগ করা,
মা’কে ভাগ করা আমি মানিনা।
প্রজাপতিও কাঁটাতার মানেনি কখনো,
আকাশ তো কবেই ছাড়িয়ে গেছে ভূগোল ও তার মানচিত্র
পাহাড়ী ছড়ার স্বচ্ছ পানি, বাতাস ও কবুতরের ডানার ছায়া
কেউ মানেনি কখনো, মানেনা কাঁটাতারের ব্যারিকেট
নো ম্যান্সল্যান্ড, সীমান্তরক্ষীর রক্তচক্ষু ও বন্দুকের নল
ক্ষুধিতের তীব্রতর চিৎকার সীমানা প্রাচীরকে বিধ্বস্ত করে
এবং দুটো মনের ব্যাকুলতাও ছাড়িয়ে যায় সীমানা পিলার
শুধু কেউ কখনো বিচ্ছেদ মানেনি, কেউ মানেও না।
আমিও মানিনা, মানবো না। পৃথিবী সবার।
ঐ কাঁটাতারগুলো গুল্মলতা ও ফুল হয়ে যাক।

 

গণিতবিদ

সেই ছাত্রজীবন থেকেই আমি অংকে বেশ ভালো
পাটিগণিত ও বীজগণিতে আমার দখল ছিল ঈর্ষণীয়
জ্যামিতির জন্য ক্লাসের বন্ধুরা আমাকে সেইরকম তোয়াজ করত
ত্রিকোণমিতির সাইন থিটা কস থিটায় ছিলাম অপ্রতিরোধ্য।

শুধু তোমার চলে যাওয়ার অংকটা আমি মিলাতে পারিনা
সেই অংকটার ভুল রেজাল্টে আমার খাতা ভরে রোজ,
অথচ আমি বরাবরই অংকে দুর্দান্ত ও অপ্রতিরোধ্য ছিলাম
শুধু তোমাকে ফিরে পাওয়ার সূত্রটা আমি আজো খুঁজে পাইনি।

রজত স্যার, শুনছেন? আপনার ভবিষ্যৎ বাণী সত্যি হয়নি,
মাত্র একটা অংকের ভুলে আমি আর আইনস্টাইন হতে পারিনি!

প্যারাসিটামল

রাত বাড়ে
জ্বরও বাড়ে
তাপে কাঁপে উৎপাত বাড়ে রোজ
ভেতরটা ক্ষয়ে ক্ষয়ে যায় নীরবে
রোজ রাতে সাপের মত ফুঁসতে থাকে শরীরের উত্তাপ
চোরা জ্বরে বেসামাল হয় শূন্য বিছানা ও টিকটিকির আর্তনাদ
তোমার শূন্যতায় বুকের ভেতরটা আগুন আগুন খেলে
জানি- দূর থেকে তুমিও টের পাও। তাই হুটহাট কড়া নাড়ো মনে
দূর থেকেই তুমি জল ঢালো আমার মাথায়, জলপট্টি দাও কপালে,
তবুও কি জ্বর নামে? বুকের দহন কি শেষ হয়? বরং বাড়ে!
রাতের সাথে পাল্লা দিয়ে জ্বর আরো ঘনীভূত হয়
সুতরাং তুমি ফিরে এসো; আমার জ্বরে প্যারাসিটামল হও।

 

আপনার মতামত দিন