বিশ্ব সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র মাক্সিম গোর্কি

শেখ নাসির উদ্দিন

জীবন কাউকে হতাশ করে না৷ এটা বলা হয়তো আমার ভুল হবে না। চলার পথে বাধা বিপত্তি থাকবেই সেইসব বাধা বিপত্তি কাটিয়ে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হওয়ার এক উজ্জল দৃষ্টান্ত সাহিত্যিক মাক্সিম গোর্কি ।
দশ বছর বয়স থেকে বৃদ্ধ দাদীর হাত ধরে ভিক্ষে করেছেন গোর্কি।১৮৮০ সালে তিনি স্টিমারের রান্নাঘরে বেয়ারার কাজ করার পাশাপাশি রান্নাঘরের বাবুর্চির কাছে শিখে নিলেন লেখাপড়া। এরপর উকিলের মুহুরি হিসেবে কাজ করার সময় লিখে ফেললেন প্রথম উপন্যাস।
মা কে নিয়ে পৃথিবীতে যত বই লেখা হয়েছে তার মধ্যে সবার শীর্ষে রাশিয়ান লেখক মাক্সিম গোর্কির ‘ মা ‘।
লেখক হিসাবে ম্যাক্সিম গোর্কির আবির্ভাব উনিশ শতকে। সাহিত্য জীবনের প্রথম পর্বে আছে তার গল্প এরপর উপন্যাস ও নাটক রচনা করেছেন। সাহিত্য বিষয়ক আলোচনা, সাংবাদিকতা ধর্মী অনেক লেখাও তিনি লিখেছেন। তবে তার ‘মা’ উপন্যাসের জন্যই বিশ্বব্যাপী পরিচিত তিনি। রাশিয়ান কথা সাহিত্যের অন্যতম উত্তরাধিকার ম্যাক্সিম মেহনতি মানুষের জীবনকে উপজীব্য করে লিখে গণমানুষের লেখক হিসাবেও খ্যাতি পেয়েছেন পৃথিবী জুড়ে । উনবিংশ শতকের শেষ দিকে এবং বিংশ শতকের শুরুর দিকে রাশিয়ার রাজনৈতিক বাতাবরণে ম্যাক্সিম গোর্কির রচিত গল্প-উপন্যাস মুক্তিকামী শ্রমজীবী মানুষের কাছে প্রেরণাদায়ক ভূমিকা পালন করে। বিশ্বের সকল দেশের সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, ঘৃণা-ভালোবাসা, স্বপ্ন-বাস্তবতা, যন্ত্রনা, সংগ্রাম সর্বোপরি জীবনের শাশ্বত কথা পাওয়া যায় ম্যাক্সিম গোর্কির লেখায়। বাংলা সাহিত্যের পাঠকদের কাছে গোর্কির নাম এত বেশি পরিচিত যে তাকে রুশ ভাষার লেখক বলে মনে হয় না।

মাক্সিম গোর্কির আসল নাম আলেক্সেই ম্যাক্সিমোভিচ পেশকভ।গোর্কির বাবা ছিল ঠোঁটকাটা অতি সত্যবাদী লোক এজন্যই গ্রামের লোকজন ব্যাঙ্গ করে ডাকতো- গোর্কি। রাশান ভাষায় গোর্কি শব্দের অর্থ- তিতকুটে স্বাদ। যে সারাক্ষণ তিতকুটে কথা বলে তার নাম গোর্কি! পিতার এই অশ্রদ্ধার ব্যাঙ্গ করা নামটিই তাই নিজের নামের জায়গায় বসিয়ে নিয়েছিলেন ম্যাক্সিম। একারণেই পুরো দুনিয়া অ্যালেক্সেই ম্যাক্সিমোভিচকে চেনে- ম্যাক্সিম গোর্কি নামে!

রাশিয়ার নিঞ্জি নভগরদে ১৮৬৮সালের ২৮ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র নয় বছর বয়সে বাবাকে হারান গোর্কি এরপর ১২ বছর বয়সে দাদীকে খোঁজতে বাড়ী ছেড়ে বের হন। হতাশা তাকে গ্রাস করে খাচ্ছিল তাই ১৮৮৭ সালে আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন। দীর্ঘ পাচঁ বছর পায়ে হেঁটে সমগ্র ঘুরে বেড়িয়েছেন রাশিয়ার পথে প্রান্তরে। ১৯৩৬ সালের ১৮ জুন গোর্কি মৃত্যুবরণ করেন।
তার উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে মাকার চুদরা, অরপান পল, চেলকাশ, স্কেচস অ্যান্ড স্টোরিস (তিন খণ্ড), টুয়েন্টি সিক্স মেন অ্যান্ড এ গার্ল, মাই চাইল্ডহুড, ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ও মাই ইউনিভার্সিটিজ।
আজীবন সংগ্রামী, শ্রমিক শ্রেণী, বিশ্বের নিপীড়িত জাতি ও জনগণের অকৃত্রিম বন্ধু ম্যাক্সিম গোর্কির মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা।

আপনার মতামত দিন