ব্যাঙ্গমা আর ব্যাঙ্গমির গল্প

মিশকাত রাসেল

উপন্যাসের প্রধান চরিত্র দুজন। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র সৃষ্টির পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান সেই দুজনের। একজন রাষ্ট্রের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অন্যজন, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদ। দুটি মানুষের শৈশব থেকে রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ঘটনা পরম্পরা উঠে এসেছে এই উপন্যাসে। একজন কলকাতায় থেকে শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সংস্পর্শে নিজেকে তৈরি করছেন। অন্যজন ঢাকায় কামরুদ্দীন আহমদের সংস্পর্শে থেকে নিজের প্রগতিশীল চিন্তার বিকাশ ঘটাচ্ছেন। সমান্তরালে উঠে আসছে রাজনীতির আরো চরিত্র, মাওলানা ভাসানী, আবুল হাশিম, শামসুল হক, আতাউর রহমান খান, অলি আহাদসহ সেই সময়ের রাজনীতির প্রধান কর্তাব্যক্তি।
পাশাপাশি সাহিত্যের অনেককেই খোঁজে পাওয়া যায় এই উপন্যাসে। বিশেষ করে শিল্পাচার্যের বিয়ের বিষয়টি। ঘটনাটা বেশি মস্তিষ্কে গেঁথে যাওয়ার কারণ গাজীপুরের সন্তান আবুজাফর শামসুদ্দিনের উপস্থিতি। লেখক লিখেছেন, ‘জয়নুল আবেদিন বিয়ে করতে যাবেন। বরযাত্রা করবে সাংবাদিক লেখক আবু জাফর শামসুদ্দীনের কলতাবাজারের বাসা থেকে।
জয়নুল ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্রপারের ছেলে। বাবা পুলিশ বিভাগের নিম্নপদস্থ কর্মচারী। নরমাল স্কুলের কাছে তাঁর নিজের বাড়ি, ওপরে ঢেউটিন, পাশে তরজার বেড়া। কায়ক্লেশে সংসার চলে, কারণ বৃদ্ধ পিতা অবসর নিয়েছেন।
তিনি আসতে পারবেন না বিয়েতে। বরকর্তা আবু জাফর শামসুদ্দীনই।’
উপন্যাসের অন্য জায়গায়, ১২৪ পৃষ্ঠায় পাওয়া যায় আরেকটি ঘটনা। ঘটনাটি দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদক মওলানা আকরাম খাঁকে নিয়ে। যা হাস্যরসের পরিবেশ সৃষ্টি করে, ‘আবু জাফর শামসুদ্দীন মওলানার কোনো কোনো গোপন খবর জানেন। যেমন মওলানা পেশাব করার পর পানি ব্যবহার করেন না। মওলানার পাশের ঘরে থাকতেন আবু জাফর। এই নিয়ে জাফর সাহেবের স্ত্রী প্রশ্ন তুলেছিলেন। বলেছিলেন, নামাজ-রোজা এই সব বিষয়েও তো মওলানা উদাসীন। জাফর সাহেব তাঁর সম্পাদককে বাঁচানোর জন্য বলেছিলেন, ‘মওলানা সাহেব কোনো একটা তরিকাপন্থী মানুষ। তাঁর তরিকায় এই সব লাগে না। একজন দরবেশ আছেন, তিনি কাপড় পরেন না। তাঁকে বলা হয়েছিল, “দরবেশ সাহেব, এত মানুষের সামনে আপনি কাপড় ছাড়া।” তিনি বলেছিলেন, “আমি তো আমার চারপাশে কোনো মানুষ দেখি না”। শুনে জাফর সাহেবের স্ত্রী খানিকটা প্রবোধ মেনেছিলেন।”
কথাসাহিত্যিক আনিসুল হকের লেখা ‘যারা ভোর এনেছিল’ ৩০৪ পৃষ্ঠার উপন্যাসটি ২০১২ সালে প্রথমা প্রকাশন থেকে প্রকাশিত হয়। এটি সমাপ্ত ঘটে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে। পরবর্তীতে এর ধারাবাহিকতায় প্রকাশিত হয় ‘উষার দুয়ারে’, ‘এই পথে আলো জ্বেলে’, ‘আলো-আঁধারের যাত্রী’, ‘এখানে থেমো না’।

 

আপনার মতামত দিন