ভাবনা: আপনে কি সৎ?

বিন ইয়াসিন আরাফাত

আমি যেহেতু একজন উদ্যোক্তা- সেই ক্ষেত্রে আমার এক পরিচিত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা কয়েক দিন আগে আমার সাথে একটা অ্যাপ আইডিয়া শেয়ার করিলেন।

অ্যাপটা এমন হবে যে আশে-পাশে পুলিশ কোথায় আছে তা ব্যবহারকারীরা জানতে পারবেন। জিপিএস এর মাধ্যমে ওইটা ট্র্যাক করা হবে। লোকে বিপদে পড়লে যাতে আশে-পাশে পুলিশ কোথায় আছে তা জানতে পারে এবং তাড়াতাড়ি হেল্প নিতে পারে, এই কাজে অ্যাপ তারে সাহায্য করবে। সরকার এইটা সর্বস্তরে ব্যবহার করা শুরু করতে পারে।

আইডিয়া আমার পছন্দ হইল না। না হওয়ার পক্ষে আমি যুক্তি দিলাম যে এই অ্যাপ কাজ করবে না। কারণ অপরাধীও তা ব্যবহার করে জানতে পারবে পুলিশ কোথায় আছে। পুলিশ আশে-পাশে থাকলে সে ক্রাইম করবে না। প্ল্যান প্রোগ্রাম করে যেইসব ক্রাইম হয় সেইগুলাতে এই অ্যাপ বরং সহায়তা করবে।

তারপর তার আইডিয়া নিয়ে আরেকটু বিস্তারিত বিশ্লেষণের জন্য যখন ল্যাপটপের সুইচ চাপলাম ঠিক সেই সময়ই এই আইডিয়ার আরেকটি সমস্যা মাথায় চলে আসলো-

সমস্যাটা হচ্ছে সব মানুষকে সৎ এবং অসৎ এই দুই ভাগ করে দেখা। এইটা একটা দেখার ভুল। কারণ মোটাদাগে এমন সোজা সরল ভাগ নাই। দুইয়ের চাইতে অধিক ভাগ বিদ্যমান। আংশিক সৎ, কিছুটা সৎ, অল্প অসৎ ইত্যাদি অনেক ভাগ করা যাইতে পারে। আবার সেইসব ভাগেরা পরিবর্তিত হতেও পারে। একজন লোক এক ঘটনায় সৎ হইয়া আরেক ঘটনায় অসৎ হতে পারে, ক্রাইম করতে পারে। যদি এইরকম কোন ব্যবস্থা থাকত, দুনিয়ার লোকদের সোজা সৎ আর অসৎ আলাদা করা যেতো তাহলে এইরকম অ্যাপ কাজ করত। এই অ্যাপ বানিয়ে সিলিকন ভ্যালীতে চলে যাওয়া যেতো। এবং আরো অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেতো সম্ভবত।

এক লোকের দরজার তালা নষ্ট হয়েছিলো। সে গেল তালা ঠিক করা লোকের কাছে। ইংরাজিতে যাকে বলে লকস্মিথ। লকস্মিথ আসলেন। তালা ঠিক করলেন। যাবার আগে তিনি ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করলেন, আপনে কি জানেন লোকে ঘরে তালা লাগায় কি জন্যে?

ভদ্রলোক বললেন, কেন আবার! চোরের হাত থেকে নিজের জিনিসপত্র বাঁচানোর জন্য।

লকস্মিথ বললেন, না। দুনিয়াতে এক ভাগ লোক আছে ধরেন সৎ, এরা যেকোন অবস্থাতেই সৎ থাকবে। আরো এক ভাগ লোক আছে এরা অসৎ। আপনি তালা লাগান আর যাই লাগান না কেন, তারা অপরাধ করেই যাবে। তালা মূলত লাগানো হয় বাকী আটানব্বই ভাগ লোকের জন্য। তাদের এই মেসেজ দিবার জন্য যে এইখানে তালা লাগানো আছে, চুরি করা মহাপাপ।”

সুতরাং বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি লক্ষ্য করলে দেখা যায় এমন ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যেই মানবতার বিরুদ্ধে কাজ করছে কিছু মানুষ- আসলে তাদের এটা দৈনন্দিন জীবনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে, তারা জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত দুর্নীতি করে যাবে এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মকেও দুর্নীতি করার সাইকোলজিক্যাল থিওরি শিখিয়ে দিয়ে যাবে।