ভ্রমণ : হঠাৎ চন্দ্রনাথ পাহাড়ে

আসমাউল নিব:
হুট করেই ক্যাম্পাস থেকে রওয়ানা দিলাম চন্দ্রনাথ এর উদ্দেশ্যে। ৩ ফেব্রুয়ারি, সময় সকাল নয়টা। সেদিন যথারীতি ক্যাম্পাসে গিয়েছিলাম আটটায়। কিন্তু ক্লাস সাসপেন্ড। কি আর করা! আমার মতো ভ্রমণপাগল বোহেমিয়ান এর পক্ষে বসে থাকা অসম্ভবই বটে!
বলে রাখা ভালো আমি IIUC(International Islamic University Of Chittagong)এর স্টুডেন্ট। যেটি অবস্থিত পাহাড়ের কোলঘেঁষে শহর থেকে ২৩ কিলোমিটার দূরে সীতাকুণ্ড কুমিরায়।
ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে রাস্তা পাড় হলাম। এরপর বাসে উঠলাম, গিয়ে নামলাম সীতাকুণ্ড বাজারে। এরপর রাস্তা পাড় হয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচের দিকে নেমে গেলাম। ওখান থেকে একটু সামনে গিয়ে বামে মোড় নিলাম। সীতাকুণ্ড কলেজ রোড। ওখান থেকে অটোরিকশায় করে চন্দ্রনাথ এর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু! মজার ব্যাপার হলো আমার সাথে একজন বুড়ো দাদু ছিলেন, যিনি আমাকে চন্দ্রনাথ নিয়ে গল্প শোনাতে লাগলেন। আমি যাওয়ার পথে অনেক মন্দির দেখলাম, তীর্থযাত্রীদের বিশ্রামাগার দেখলাম। প্রায় ৩০ মিনিট পর গিয়ে পৌঁছালাম আমার গন্তব্যে। বাহ্ ভাবতেই আমি পুরো… এরপর লাঠি নিলাম, সাথে কিছু চকোলেট আর পানি।


এরপর মুখে চকোলেট পুরে আরামসে দৌড়ুতে লাগলাম লাঠি নিয়ে। নিজেকে একমুহূর্তে মনে হলো বেয়ার গ্রিলস্ এর পিছু পিছু ছুটছি। মনেই পড়লো না যে এত উঁচুতে উঠব…
এই সময় হঠাৎ খেয়াল করলাম আমার পিছু পিছু খুলনা থেকে আগত একজন দিদিপু আর দাদা উঠছে। আমাকে বলছে- “ও বুন্ডি আমাদের সাথে আরো কয়েকজন এয়েচিলো ওরা আর উঠতি পারবি না বলিছে। আপনি উঠছেন দেইখে ভাবলাম আপনার সাথে উঠি পড়ি।” ভালোই লাগলো। আমিও তাদের সাথে গল্প জুড়ে দিলাম। খুলনার চিংড়ি, হাদিস পার্ক…ইত্যাদির গল্প।
সবশেষে পৌঁছুলাম চূড়ায়! আহা চোখ জুড়ানো দৃশ্য!! সত্যিই অনেক সময় হুট করে কিছু সিদ্ধান্তই বদলে দেয় অনেক কিছু। ভিন্ন একটি ধর্মের রীতি সংস্কার, সাথে পাহাড়, কুয়াশা।মিলমিশ সত্যিই অসাধারণ! মন্দিরের ঘন্টাধ্বনি, বটগাছের শীতল বাতাস, গাছের পাতার শব্দ আলোড়িত করছিলো চারপাশ। হঠাৎ আনমনা হয়ে গেলাম। সবকিছু ভুলে গিয়ে চোখ জুড়িয়ে যাওয়ার মত দৃশ্য!!!
বোহেমিয়ান! হাইকিং, অপরিচিত মানুষের সাথে কমিউনিকেট। ভাবতে লাগলাম কী আছে জীবনে!!

আপনারা যদি আসতে চান-
সীতাকুণ্ড বাজার থেকে ৪ কি.মি. দূরে চন্দ্রনাথ পাহাড়। পায়ে হেঁটে অথবা রিক্সায় চড়ে যাওয়া যাবে।
এছাড়া সীতাকুণ্ডে থামে ঢাকা থেকে আসা দ্রুতগামী ট্রেন “ঢাকা মেইল”। এটি ঢাকা থেকে ছাড়ে রাত ১১টায় এবং সীতাকুণ্ডে পৌঁছে পরদিন সকাল ৬.৩০ থেকে ৭টায়। অন্যান্য আন্তঃ নগর ট্রেনগুলো সরাসরি চট্টগ্রামে চলে যায়।

চট্টগ্রাম শহর থেকে সিএনজি অটোরিক্সাতেও ঘুরে আসা যাবে। বাসে যেতে চাইলে নগরীর অলংকার কিংবা এ কে খান মোড় থেকে বাসে উঠতে হবে। ভাড়া ২০ টাকা প্রতি জন।

মনে রাখতে হবে-
চন্দ্রনাথে উঠতে হলে সবসময় বামদিক দিয়ে উঠবেন। কারণ ওটা পাহাড়ি পথ। আর পাহাড়ি পথ দিয়ে পাহাড়ে উঠা সহজ। নামার সময় ডানদিকের সিঁড়ি দিয়ে নামবেন।

আসমাউল নিব
আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম
অর্থনীতি ও ব্যাংকিং (প্রথম সেমিস্টার)

আপনার মতামত দিন