মতামত : একটা লাইব্রেরির স্বপ্ন নিয়ে

মাওনা পাবলিক লাইব্রেরি’ এই নামে একটা লাইব্রেরি করা যায় কিনা?

মেহেদী হাসান রনী

নাম এটাই হতে হবে তা না। লাইব্রেরিটা হলেই হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যানে ও তথ্য প্রযুক্তির চরম উৎকৃষ্টতার ফলে আমরা এখন জানি আমাদের মাওনা ও আশপাশের এলাকাতে বর্তমানে অনেকেই লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত। শুধু যুক্তই নন, কেউ কেউ দেশের প্রথম সারির লেখকদের তালিকাতেও আছেন। লেখালেখির সঙ্গে হয়তো সরাসরি যুক্ত নন কিন্তু প্রচুর পড়াশোনা করেন এমন লোকের সংখ্যাও কম নয়। এ এলাকার অনেকেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। আমরা যারা পড়াশোনা করি ও টুকটাক লেখালেখি করি আমরা সবাই মিলে কি পারিনা একটা পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করে জ্ঞানচর্চার জানলা দরজাগুলো উন্মুক্ত করতে?

একটা জাতির কোনও ধরনের মুক্তিই সম্ভব নয়, যদি সে জাতি বইয়ের সান্নিধ্যে না থাকে, জ্ঞানচর্চা না করে। আমাদের বর্তমান সময়ে সমাজের এই যে নৈতিক অবক্ষয় তার পেছনে বই না পড়া একটা বড় কারণ। আমাদের সেই অবারিত খেলার মাঠ এখন সংকুচিত, আমাদের সবার বাড়ির ‘এক উঠোন’ এখন আর নেই। প্রত্যেক বাড়িতেই গেট করা। আমরা পরষ্পর পরষ্পর থেকে ক্রমশই বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছি। আমাদের বাপ-চাচাদের সময়ে শুনেছি একটা বই পুরোপুরি নষ্ট না হওয়া পর্যন্ত শুধু হাত বদল হতেই থাকতো। রবীন্দ্রনাথ-নজরুল-শরৎ বাবুকে নিয়ে ঘরে ঘরে চর্চা হতো। এখন পরিস্থিতি আলাদা। আমাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এমন রূপ নিয়েছে যে সবাই টাকার পেছনে ছুটছে ঝড়ের গতিতে। নিজের ছেলেমেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব চিন্তিত হন না বোধহয়। শুধু ভাবেন, ‘ভালো নামের একটা স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলাম, প্রতি মাসে মোটা অংকের বেতন দিলাম। ব্যস আমার দায়িত্ব শেষ।’

এসব কারণেই আজ আমাদের উঠতি বয়সী ছেলেমেয়েরা সারাদিন বুঁদ হয়ে থাকে মোবাইল ফোনে। একটা ‘পাবজি’ গেম শেষ করে দিচ্ছে একটা পুরো জেনারেশনের মেধা। নেশায় আচ্ছন্ন আজ আমাদের যুবকের দল। নিজস্ব কোনও মতামত বা দায়বদ্ধতা নেই দেশের প্রতি, দশের প্রতি, সমাজের প্রতি। হ্যাঁ, বই পড়লে নিজের মধ্যে একটা মূল্যবোধ তৈরি হতে বাধ্য। পড়ুয়ারা আর যাই করুক নিজের বা দেশের ক্ষতি করবেনা।

একটা পাবলিক লাইব্রেরি করতে পারলে, কিছু সংখ্যক পাঠক তৈরি করতে পারলে তাঁদের আড্ডা হবে বইয়ের সঙ্গে। আর যদি সপ্তাহে দুই তিনটা গ্রুপ করে ‘পাঠচক্র’ করা যায়, যেমন বাচ্চাদের জন্য, উঠতি বয়সীদের জন্য, আবার বয়স্কদের জন্য আলাদা আলাদা তবে জ্ঞানচর্চার আগ্রহ/ পরিসর/ পাঠক ক্রমান্বয়ে বাড়বে।

আসুন এই বিষয়টি নিয়ে ভাবি, যদি সত্যিই করা যায় তবে আখেরে কিন্তু আমাদের প্রত্যেকেরই লাভ।

দেখুন, আমি শুধু প্রস্তাব করলাম। আমার একার পক্ষে কিছু করা সম্ভব নয়। কারণ বিষয়টাই ‘পাবলিক’। সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এটা নিয়ে কথা বলতে হবে। একটা লাইব্রেরি কতটা গুরুত্বপূর্ণ বা বুঝতে হবে, বুঝাতে হবে। কীভাবে কী করা যায় তা ভাবতে হবে। তাহলেই সম্ভব।

 

 

আপনার মতামত দিন