মাছেরা ঘুমিয়ে পড়ে জল বিছানায়

জুবায়ের দুখুর একগুচ্ছ কবিতা

অন্ধের অন্তবাস

ধুলোমাখা জীবন…
কষ্টের পাণ্ডুলিপি পড়তে পড়তে
নিস্তেজ হয়ে পড়ল।

অল-কোলাহল ঘর
বাতি নেই অন্ধকার
শিয়রে পড়ে থাকা অসমাপ্ত পাণ্ডুলিপি
পড়বার দৃষ্টি নেই লোকটার।

নারী কেলিত রাত

সন্ধ্যার আগে দিন ফুরিয়ে যায়…
মাছেরা ঘুমিয়ে পড়ে জল বিছানায়।

সুগন্ধ বনোফুল জেগে ওঠে— রাত

মনের অন্তবাস খুলে দেয়
প্রিয়তমার শরীর—
কাম আর বুনোফুলের গন্ধে কাটে রাত্রি যাপন
প্রিয়তমার ঠোঁট গিলে খায় রাত্রির কহন—
সকালের প্রতিক্ষায়।

তোমাকে উৎসর্গে

যে কবিতাটি আজ লেখা হবে— তোমাকে উৎসর্গে
তার আগেই মৃত হলো লেখক!

তোমাকে উৎসর্গনামা লেখার কাগজটি পড়ে নেই
গায়ে মুড়িয়ে শুয়ে আছে লেখক— কবরে।

আত্মীয়

কাগজে আঁকানো একটি বিড়ালের ছবি
তুমি দেখলে হাসবে— খিলখিল

অথচ— বিড়ালটি মায়ের আত্মা নিংড়ানো আত্মীয়
সে দৃশ্য দেখলে, তুমিও থ-মেরে যেতে।

পর্যবেক্ষণ

এক লোক পথ হাটছে
— হাটছে পথের পর পথ।

কোথায় শেষ পথ? জানা নেই…
তবু হাটছে পথ ধরেই হাটছে!

অবশেষে— লোকটা থেমে যায়
তার…
জীবন ফুরিয়ে যায়— পথ ফুরায় না।

বর্ষালি পদ্ম

বর্ষার পুকুরে ভাসে পদ্ম
সকালে— সতেজ পাঁপড়ি ছড়িয়ে দেয়।

বর্ষার পুকুরে ভাসে পদ্ম
দুপুরে খাঁ-খাঁ রোদে আসে মৃত্যুর মন্দা।

বর্ষার পুকুরে ভাসে পদ্ম
বিকেলে ক্লান্ত রোদে— পদ্ম মুখরিত সন্ধ্যা।

তোমার ছবির সামনে

খাঁ খাঁ শূন্য বাড়ি— লোকালয়হীন!
কেবল আমাকে কুঁকড়ে মারে সঙ্গীহীন!

কখনো কখনো ধূসর আকাশ নেমে আসে— চোখে
তখন তোমার ছবির সামনে গিয়ে দাঁড়াই
প্রশ্ন করি হাউ আর ইউ?

মা-ই প্রথম প্রেমিকা

আমার মা আমার প্রথম প্রেমিকা— শুনার পর
লোক গুলো হাসলো
আমি ভাবলাম লোক গুলোর মাথা ঠিক নেই..।

অথচ— লোক গুলো বলল
আমরা জন্মের পর মাকে কখনো দেখি— নেই..।

তার দৃশ্য

জলে রাজহাঁস
অথচ— ডাঙ্গাতে তার বসবাস

কি অপরূপ দৃশ্য তার..
দেখলে— শরীর উষ্ণতায় ভরে ওঠে।

কামতৃষ্ণায় বাড়ি ফিরি রাজহাঁস ন্যায়
তার দৃশ্য দেখতে, দিন শেষে..

প্রেমিকার কবর বাড়ি

এ বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছো… যাও

দুপুর গড়ালে পাকা রোদ উঠবে
সন্ধ্যা আগালে হিংস্র পশুর ডাক
তারপর— তুমিই জানো অন্ধকারে আচ্ছন্ন অই ঘর

আমাকে ছাড়া অই বাড়িতে থাকতে পারবে একা?

আপনার মতামত দিন