মানবতার অপর নাম নরুল করিম স্যার

গোপাল রায়, নীলফামারী থেকে

“মরিয়ম খালা (ছদ্মনাম)। শারীরিক সমস্যার কারনে দাড়াতে পারেন না, বসেই কোনোরকম চলাফেরা করেন। সপ্তাহের সাতটি দিনের মধ্য ঘুরে ফিরে শুক্রবার আসলেই বাসার সামনে এসেই আমাকে ডাক দেন। আমি গিয়ে দেখা করি। মরিয়ম খালা বলেন, ‘বাবা তোমাকে না দেখলে ভালো লাগে না, তোমার জন্য দোয়া করি বাবা!’
খালা আমাকে কেন দোয়া করে তা জানিনা; তবে খালাকে দেখলেই আমার ভালো লাগে, মনে প্রশান্তি আসে।” এমনটিই জানালেন নীলফামারী সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক জনাব মোঃ নুরুল করিম।

রমযানের পূর্ব থেকেই চলছে করোনার জন্য লকডাউন। দুস্থ, অসহায়, গরীব, কাজ করতে অক্ষম এমন জনসাধারণ মানুষ পড়ে গেছে বিপাকে। হ্যা বিপাকে পড়েছে দুবেলা দুমুঠো খাবারের জন্য। যেখানে দুবেলা দুমুঠো খাবারেই মুখে জোটাতে পারছেন না সেখানে রমযানের পর ঈদ কেমন ধুষর মানোবেতর হবে সেটাই ভাবার বিষয়!
কিন্তু না এমনটির কিছুই হয়নি। দুস্থ-অসহায়-দারিদ্র মানুষের মুখে এক চিলতে হাসি ফুঁটাতে মানবতার প্রাণ পুরুষ হয়ে এগিয়ে এসেছেন জনাব মোঃ নুরুল করিম স্যার।
করোনার মাঝে চলমান রমযান মাসের শুরু থেকে তিনশত এর বেশি দুস্থ-অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী হিসেবে চাল, ডাল, তেল, লবণ, আলু, পিঁয়াজ সহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী উপহার দিয়ে আসছেন তিনি। প্রত্যেকটি পরিবারের জন্য ন্যুনতম ১০ থেকে ২৫ কেজি চাল, ০.৫ থেকে ৩.৫ কেজি ডাল, ১ কেজি তেল সহ অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে আসছেন।
ঈদের জন্য ৬০০ টি পরিবারের মাঝে পৌছে দেন ঈদ উপহার।
১৩৫ টি শিশুর মাঝে নতুন কাপড় সহ ৪০ জন বৃদ্ধর জন্য লুংগি, ৫০ বৃদ্ধার জন্য শাড়ি কিনে দিয়েছিলেন তিনি।
শুধু তাই নয়, ঝড়ে উড়ে যাওয়া এক মধ্যবিত্ত পরিবারের ঘরও তৈরী করে দিয়েছিলেন। ৬ টি এতিমখানায় করিয়েছিলেন ইফতারও।

শুধু যে বস্ত্র ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন তা কিন্তু নয়, এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় নিশ্চিতকরন, বৃত্তি প্রদান সহ শত শত বিপন্ন রোগীর মাঝে রক্ত প্রদানে সামগ্রিক যুক্ত ছিলেন তিনি।

কেন এ কাজ করছেন বা কোনো উদ্দেশ্য আছে কিনা? শ্রদ্ধেয় জনাব মোঃ নুরুল করিম স্যারকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ‘কিছুটা সামাজিক দায়বদ্ধতা আর অনেকটাই মানসিক প্রশান্তির জন্য রমজানের শুরুতেই লক ডাউন শুরু হলে উপহার বিতরণ কার্যক্রমে নেমেছিলাম। এসব মানবতার ভালো কাজ আমি আজীবন করে যেতে চাই।
তিনি এসব ভালো কাজের অর্থদাতা বিভিন্ন ক্যাডার কর্মকর্তা, বড় ভাই, ছোট ভাই, বন্ধু, শিক্ষার্থী, সেচ্ছাসেবক সহ সকল শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান।

আপনার মতামত দিন