মারুফ আহমেদ নয়নের একগুচ্ছ কবিতা

১.

আমি জল পান করে আরও বেশী পিপাসার্ত হয়ে পড়ি। জলের বদলে লিখি জুঁই ফুল যার সু-ঘ্রাণ ভাসছে ভোরের বাতাসে অথচ টবে ফুটে থাকে ক্যামেলিয়া। আমি তাকে ঘৃণার নামে ভালবেসে ফেলি। সমস্ত ভ্রান্তি নিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ি। কি করে বেঁচে আছি এই বিস্ময়ে তুমি উপহার পাঠাও হেমলোক পানীয়, আমি পান করি। তুমি কি আমার মৃত্যুর জন্যে দায়ী থাকবে।
আমাকে পৃথিবীর যে আদালতেই দাঁড় করাও, কোন সাক্ষ্য প্রমাণ পাবে না। শুধু মাথার উপর দিয়ে উড়ে যাবে পাখির ঝাঁক। তুমি কি গাধার পিঠে চাপাবে তুলোর ওজন, আমি পৃথিবীর সমান বয়সী, তোমার প্রেমিকের মতো। তোমার সমস্ত কূট কৌশল জেনে গেছি। আমি এখন ব্যাপনের মতো ছড়িয়ে পড়বো তোমার ভেতরে-বাহিরে।

২.

আমি তোমাকে এতো বেশী ভালবাসি যে পাপী হয়ে যাই। পাকস্থলীতে খাদ্যের বদলে জমে থাকে আগুন। তোমাকে আরও বেশী ভালবাসার অভিপ্রায় নিয়ে আমি দুঃখ দেহী পতঙ্গ হয়ে যাই। তোমার ঠোঁটে, মুখে, ত্বকে গভীর লাবণ্য কেনো। যেনো সুপ্ত আগ্নেয়গিরি, টোকা দিলে খসে পড়বে জ্বলন্ত লাভা। কাছাকাছি যাই না, ভস্মীভূত হয়ে যাবার ভয়।
জানো তো, আগুনের কাছাকাছি গেলে পুড়ে যায় যে মোম, তার জন্যে শোক করতে নেই। তুমি এতো সুন্দর কেনো, যেনো উপহার দিই উপড়ে ফেলে চোখ। এ চোখে তোমাকে এতো দেখতে চাওয়ার অসুখ কেনো। তোমার প্রেম সহসা পাড়ি দেয় শত আলোক বর্ষ, গ্রহ -নক্ষত্রের পথ, আমি তাকিয়ে দেখি পাহাড়ের সুড়ঙ্গে ঢুকে পড়ছে খরগোশ দম্পতি, অথচ আমি শুধু নিজের কফিনে ঠুকছি দীর্ঘ পেরেক।

৩.

তোমার প্রেমের ছায়া গুটিয়ে নাও, আমি সহ্য করতে পারি না। যেনো পাথর হতে গিয়ে ফুল হয়ে পড়ি। পোকা-মাকড়ের দলে ঘুরতে গিয়ে তাদের খাদ্য হয়ে যাই। তোমার কাছে আমার সমস্ত অনুনয় ব্যর্থ হয়ে যায়, আমি পুরনো পচা তাসের মতো পড়ে থাকি।
শব্দ করো না। আমি চিৎকার করে কাঁদতে গিয়ে উচ্চ স্বরে হেসে উঠি। শিশুরা খিলখিল শব্দে হেসে ওঠে। আমি স্বপ্নের ভেতর সাপের বাঁকা চলনের ভেতর আটকা পড়ে থাকি। বাঁশ-বাগানের মাথার উপর এতো উজ্জল চাঁদ, মধ্যরাতে পাখিদের চেচাঁমেচির কি অর্থ জানি না। বুকের ভেতর থেকে বিড়াল লাফিয়ে পড়ে, আলোর বল যেনো ইঁদুরের চলাফেরা। তুমি এখন আমার জন্যে কি প্রার্থনা করো, মৃত্যু ভয় মাথায় নিয়ে তোমাকে কেন্দ্র করে ঘুরছি।

আপনার মতামত দিন