মুক্তচিন্তায় বেড়ে গড়ে ওঠার বয়সে প্রযুক্তির সংস্পর্শে উল্টোটা হচ্ছে

আপন অপু:
বতর্মানে খুবই সহজলভ্য হচ্ছে সোস্যাল মিডিয়া। সব বয়সীদের মাঝেই রয়েছে সোস্যাল মিডিয়ায় আসক্তি। তবে তরুণরা এতে একটু বেশিই আসক্ত। সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহার আমাদের মানসিকতার উপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। এ নিয়ে আমরা কথা বলেছি বেশ কয়েকজন তারকা ও তরুণদের সাথে। আমাদের প্রশ্ন ছিলো- ‘বর্তমানে সোস্যাল মিডিয়ায় দেখা যায় অধিকাংশ মানুষই খুবই সিরিয়াস বিষয় নিয়েও হাসি-ঠাট্টায় মেতে ওঠে। এদের একটা বড় অংশ তরুণরা। কিন্তু কেন এমন হচ্ছে?’ এই নিয়ে আমাদের ধারাবাহিক আয়োজনের তৃতীয় পর্ব আজ । এ পর্বে প্রকাশ করছি এ বিষয়ে দুইজনের বক্তব্য।
 
মুক্তচিন্তায় বেড়ে গড়ে ওঠার বয়সে প্রযুক্তির সংস্পর্শে উল্টোটা হচ্ছে
খন্দকার বাপ্পী, কণ্ঠশিল্পী
‘‘সামাজিক যোগাযোগ মাধম্যে অসৌজন্যমূলক ও গুরুত্বপূর্ণ ও গাম্ভীর্যপূর্ণ বিষয় নিয়েও ট্রল হচ্ছে, হাসি-তামাশা হচ্ছে। অামার কাছে মনে হয় এটার প্রথম ও প্রধান কারণ হলো পারিবারিক মূল্যবোধের অভাব। মানুষ পরিবার থেকে তার অাচার ব্যবহার শিখে অাসে। যারা শিখে অাসতে পারেনি তারাই গুরুত্বপূর্ণ ও গাম্ভীর্যপূর্ণ বিষয় নিয়েও হাসি, ঠাট্টা ও অন্যর পরনিন্দা নিয়ে পরে থাকে। এক্ষেত্রে প্রযুক্তির সহজলভ্যতাও দায়ী। যে বয়স মুক্ত-চিন্তাধারায় বেড়ে ওঠার কথা। প্রযুক্তির সংস্পর্শে ঠিক উল্টোটা হচ্ছে।’’
 
 
শুধু তরুণ প্রজন্মের দোষ না দিয়ে নিজেদেরকেও শোধরানোর চেষ্টা করতে হবে
মনি চৌধুরী, কণ্ঠশিল্পী
 
‘‘তরুণ প্রজন্ম সময়ের সাথে অনেক বেশী এগিয়ে গেছে। সেই সাথে সোস্যাল মিডিয়ার সুবাধে তারা গোটা দুনিয়াকে খুব সহজে চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা সিরিয়াস বিষয় নিয়ে হাসি-ঠাট্টায় মেতে ওঠে এটা ঠিক। তবে সেটার অনেক কারণ থাকতে পারে। দেখা গেল কোন মিডিয়া কেন্দ্রিক ব্যক্তির বিয়ে হলো সেটা নিউজ আকারে প্রকাশ পেলো। তরুণ প্রজন্মের অনেকেই দোয়া করার পরিবর্তে কবে তাদের বিচ্ছেদ হবে কিংবা আবার কবে নতুন বিয়ে করবে সেই বিষয় নিয়ে তামাশা করে। কারণ তারা এগুলো দেখে অভস্থ্য। আর এমনটা এখন প্রায়ই হচ্ছে। আবার অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিরা কিছু কথা বলেন যেটা আদৌ সত্যি না কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণীত। সে সব বিষয় তরুণ প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয় না। কারণ সত্যি-মিথ্যা বোঝার ক্ষমতা তাদের আছে। আর এই বিষয় গুলো যখন বারবারই ঘটে তখন তরুণ প্রজন্মসহ সাধারণ মানুষ তাদের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলে এবং ব্যাক্তি গুলো ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয় । তখন তাদের সিরিয়াস কিছু হলেও মন থেকে তাদের জন্য দোয়া আসেনা। বরং সেখানেও দেখা যায় হাসি-ঠাট্টা করতে । যেটা আদৌ উচিৎ না। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় খেলোয়াড়দেরকে নিয়ে কিংবা তাদের পরিবারের ছবি পোষ্ট বা ব্যক্তি গত বিষয় নিয়ে তরুণ প্রজন্মের কেউ কেউ হাসি-ঠাট্টা করেন । সেক্ষেত্রে বলব তাদের মানসিকতা হীন বলেই এসব করেন।
সবশেষে বলবো শুধু তরুণ প্রজন্মের দোষ না দিয়ে নিজেদেরকেও শোধরানোর চেষ্টা করতে হবে। কারণ খেলোয়াড়, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিরা তরুণ প্রজন্মের অনেকেরই আইডল। তাই তাদের এমন কোন কাজ করা যাবে না কিংবা এমন কোন কথা বলা যাবে না যেটার জন্য ব্যক্তি নিজেই হাসির পাত্রে পরিণত হন। তাদের কর্ম হতে হবে এমন যেন কর্মের গুণেই মানুষের ভালোবাসা অর্জন করে নেয়া যায় । কর্মের গুণেই মানুষ তাদের শ্রদ্ধা করেন । তাহলেই এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রান পাওয়া সম্ভব।’’

আপনার মতামত দিন