যারা মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে, তাদের উদ্দেশ্যে…

নাইমুর রহমান দুর্জয়

(১) সায়েন্স থেকে যারা জিপিএ ৫.০০ পেয়েছো এবং উচ্চ মাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগ নিতে ইচ্ছুক-

যারা ঢাকার কোনো কলেজে পড়তে চাও, অথচ অনলাইন এপ্লিকেশন লিস্টে কোন কোন কলেজের নাম দিবা ঠিক করতে পারছো না, তাদেরকে বলবো কয়েকটা কলেজ ঘুরে দেখো। বিশেষ করে রাজউক উত্তরা, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট, ঢাকা কলেজ, ভিকারুন্নিসা নূন, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস, বিএফ শাহীন, বীরশ্রেষ্ঠ নুর মোহাম্মদ, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ, রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট, সরকারী বিজ্ঞান, মতিঝিল আইডিয়াল এই কয়েকটা কলেজ অবশ্যই ঘুরে দেখবা। (নটরডেম, সেন্ট জোসেফ, হলি ক্রস বললাম না কারণ এগুলোতে পরীক্ষা দিয়ে ভর্তি হতে হবে)

ঘুরে দেখা মানে এই না যে ক্যাম্পাস দেখে চলে আসলা। অবশ্যই সেখানকার কলেজ পড়ুয়া কোনো সিনিয়র ভাইবোন কিংবা কোনো টিচারের সাথে কথা বলবা। ভর্তি হতে কত পয়েন্ট লাগবে, সর্বনিম্ন কত নাম্বার পেতে হবে, বাসা থেকে যাতায়াত করতে পারবা নাকি? আবাসিক সুবিধা আছে নাকি? আশেপাশে ভালো কোনো মেস বা প্রাইভেট হোস্টেল আছে নাকি? একাডেমিক সিস্টেম কিংবা এক্সট্রা কারিকুলারের সুযোগ সহ কি কি সুবিধা অসুবিধা আছে সেই সব জানার চেষ্টা করবা। এবং সর্বোপরি কলেজের পরিবেশটা তোমার জন্য কতটুকু উপযুক্ত সেটাও বিবেচনায় রাখবা।

ধরো তুমি আদমজীতে ভর্তি হতে চাও কিন্তু সেখানে ভর্তি হতে সর্বনিম্ন ১১৮০ মার্কস লাগবে কিন্তু তুমি পেয়েছো ১১৪০ অর্থাৎ রিকোয়ার্মেন্ট এর চেয়ে কম কিন্তু তবুও চয়েজ লিস্টের শুরুতে আদমজী দিতে চাচ্ছো কারণ তোমার মনে হচ্ছে “যদি ভাগ্যে লেগে যায়?” তারা প্লিজ এই ভুলটা করবা না। আমার নিজের অনেক ফ্রেন্ড এই ভুল করেছে, শেষমেশ কিছুই হয় নি। কারণ দেখা যায় যারা রিকোয়ার্মেন্ট এর চেয়ে বেশি পেয়েছে ওরা প্রত্যেকেই এ ধরনের ভালো কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য বসে আছে। আর ওরাই যে প্রিভিলেজ পাবে এটাই স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে তোমার উচিৎ হবে তুমি যে মার্কস পেয়েছো ওটা কোন কোন কলেজের রিকোয়ার্মেন্টের ভেতর আছে সেগুলোর মধ্যে বেস্ট কলেজটার নাম চয়েজ লিস্টের প্রথমে দেওয়া।

অবশ্যই গুগল থেকে বিভিন্ন কলেজের রিকোয়ার্মেন্ট ডিটেইলস দেখে নিবা। এবং ভুল করেও “আমার অমুক ফ্রেন্ড তার লিস্টে অমুক কলেজ দিয়েছে তাই আমিও দিবো” এই কাজ করতে যাবা না। তোমার ১০ টা কলেজের নাম দিতে লাগবে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট, কিন্তু ওই ১০ মিনিটের সিদ্ধান্ত আগামী দুই বছরের জন্য তোমার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিবে। কাজেই কোনো ভুল যাতে না হয়। এবং সিরিয়ালের শুরুর দিকে ভালো কলেজের নাম দিবা।

(২) সায়েন্স থেকে যারা জিপিএ ৫.০০ পাও নাই।

হতাশার কিছু নাই। কিছু কথা বলি ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখো।

প্রথমত যেটা হয়ে গেছে সেটা স্বীকার করে নাও। এবার এখান থেকে কিভাবে ওভারকাম করা যায় সেইটা চিন্তা করো। “ভাইয়া আমি কি ভালো কলেজে ভর্তি হতে পারবো না?” অবশ্যই পারবা। তোমার প্ল্যান A ছিলো খুব সিম্পল, জিপিএ ৫.০০ পেয়ে চয়েজ লিস্টের প্রথমে স্বপ্নের কলেজের নাম দিয়ে সেখানে ভর্তি হয়ে যাওয়া। কিন্তু যেহেতু তুমি জিপিএ ৫.০০ পাও নাই সেক্ষেত্রে এখন তোমাকে প্ল্যান B দিয়ে হাটতে হবে। “ভাইয়া প্ল্যান B কি?” শুনে একটু ধাক্কা লাগলেও আমার হিসেবে প্ল্যান B হচ্ছে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হবার চিন্তা ছেড়ে দেওয়া।

প্রথমত তুমি জিপিএ ৫.০০ পাও নাই, দ্বিতীয়ত তুমি ভালো কলেজেই ভর্তি হতে চাও, সমস্যাটা হচ্ছে যারা অলরেডি জিপিএ ৫.০০ পেয়েছে ভালো কলেজ গুলো তাদেরকেই সবার আগে প্রিভিলেজ দিবে। তোমাকেও দিবে তবে সেটা বিজ্ঞান বিভাগে নয়। ব্যবসায় শিক্ষা কিংবা মানবিক বিভাগে।

খুব সহজ একটা সমীকরণ তোমাকে মানতেই হবে। হয় বিজ্ঞান বিভাগ না হয় ভালো কলেজ। যে কোনো একটা বেছে নিতে হবে। আর একটাকে স্যাক্রিফাইস করতে হবে। কারণ এর আগে যে কলেজ গুলোর কথা বলেছি সেগুলোতে জিপিএ ৫.০০ ছাড়া বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে ভর্তি হবার পসিবিলিটি ৫% এর ও কম।

এবার যারা তবুও মোটামুটি কোনো কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছো তাদেরকে স্বাগতম। কিন্তু তুমি সময় নাও। চিন্তা করো বেশি বেশি। নিজেকে প্রশ্ন করো “আমার কি করা উচিৎ?” যদি তোমার মনে হয় বিজ্ঞান তোমার জন্য না তাহলে ছেড়ে দাও। যারা স্বপ্নের কলেজে পড়ার জন্য বিজ্ঞান বিভাগ ছাড়তে চাও তাদের জন্য কিছু কথা বলি।

(৩) তোমার কি বিজ্ঞান বিভাগ ছেড়ে ভালো কলেজকেই প্রায়োরিটি দেওয়া উচিত হবে?

আমি বলবো “অবশ্যই”। কারণ উচ্চ মাধ্যমিকের বিজ্ঞান বিভাগের পড়াশোনা কতটুকু সহজ বা কঠিন সেটা তুমি কয়েকজন কলেজ পড়ুয়া সিনিয়রের থেকে জেনে নিও। সেক্ষেত্রে উচ্চ মাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে ভালো রেজাল্ট এর জন্য যতটুকু ইফোর্ট দিতে হবে সেটা তুমি দিতে পারবা কিনা এটা একটা বড় প্রশ্ন। আমি মনে করি ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার না হয়েও ব্যবসায় শিক্ষা কিংবা মানবিকে থেকে অনেক ভালো কিছু করা যায়। উদাহরণ তুমি তোমার চারপাশে তাকালেই দেখবা।

পরিসংখ্যান বলে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক দেওয়া শতকরা ৭০ ভাগের মতো শিক্ষার্থী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মানবিক এবং ব্যবসায় শিক্ষার কোনো সাবজেক্টে পড়ছে। সেক্ষেত্রে উচ্চ মাধ্যমিকে তাদের বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার ইউলিটি কতটুকু? এবং পরিসংখ্যান এটাও বলে শতকরা ৯০ ভাগের মতো শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে মানসিক ডিপ্রেশনে ভোগে। সেক্ষেত্রে তোমার ক্ষেত্রেই বা ডিপ্রেশনে না ভোগার পসিবিলিটি কতটুকু? আর এই তথাকথিত সোশ্যাল ট্রেন্ড ফলো করতে গিয়ে কেনোইবা তুমি ভুক্তভোগী হবা?

(৪) গ্রুপ চেঞ্জ করে ভালো কলেজে ভর্তি হয়ে লাভ কি?

দেখো আমি মনে করি ব্রেইন বিল্ড আপ হওয়াটা খুব বেশি দরকার। কলেজ লাইফে অধিকাংশই রঙিন চশমার আড়ালে রঙিন জীবন উপভোগ করতে গিয়ে লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। এর ফল ভোগ করে টেস্ট পরীক্ষা দিতে গিয়ে। তখন দ্যাখে সিলেবাসের প্রায় পুরোটাই বাকি। আমার কথা বিশ্বাস না হলে চারপাশের কিছু সিনিয়রের কাছ থেকে শুনে দেইখো। সেক্ষেত্রে তুমি যদি একটা ভালো কলেজে ভর্তি হও, তাহলে সেই কলেজের রেস্ট্রিকশনে থেকে সেখানকার পরিবেশে খাপ খাওয়াতে গিয়ে অনেক নতুন অভিজ্ঞতা হবে তোমার। যখন তুমি দেখবে তোমার চারপাশের সবাই তোমার চেয়ে অনেক এগিয়ে গিয়েছে তখন তোমাকেও রেসে নামতে হবে। সবার সাথে পাল্লা দিয়ে ছুটতে হবে।

একটা ভালো কলেজের ট্যাগলাইন থাকা মানে একটা আত্মবিশ্বাস থাকা। এই আত্মবিশ্বাস তোমাকে অনেক হেল্প করবে। তোমাকে এগিয়ে যাওয়ার ইনসেন্টিভ দিবে। শুধুমাত্র এই আত্মবিশ্বাসের কারনেই আমি আমার অনেক সিনিয়রকে দেখেছি ঘুরে দাড়িয়েছে। ব্যবসায় শিক্ষা কিংবা মানবিক বিভাগ থেকেই ভালো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো সাবজেক্ট নিয়ে পড়ছে। মাধ্যমিকে সায়েন্স নিয়ে পড়ে উচ্চ মাধ্যমিকে গ্রুপ চেঞ্জ করার পর এ পর্যন্ত কাউকে হতাশ হতে দেখিনি। ইভেন আমার নিজের এক ক্লোজ সিনিয়র পুরো ফার্স্ট ইয়ারে বিজ্ঞান বিভাগে থেকে, সেকেন্ড ইয়ারে মানবিকে পড়েছে। এইবার এইচএসসি দিচ্ছে। এবং তিনি অনেক আশাবাদী। তাকে যখন জিজ্ঞেস করেছি গ্রুপ চেঞ্জ করে তার অনুভূতি কি রকম, সে বলেছে এটা তার জীবনের সেরা একটা সিদ্ধান্ত ছিলো।

একটা ভালো কলেজ তোমাকে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত করবে। তুমি নিজেই দেখবে তুমি অনেকের চেয়ে এগিয়ে গিয়েছো। পরীক্ষার আগের রাতে তোমাকে ফিজিক্স কেমিস্ট্রির চাপ মাথায় নিয়ে সারারাত পড়তে হচ্ছে না। পৌরনীতি, কিংবা ইতিহাসের মতো সাবজেক্ট নিয়ে পড়ার সুবিধায় একদিকে তোমার সিলেবাস পরীক্ষার এক সপ্তাহ আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে তোমার রেজাল্ট ও ভালো হচ্ছে। পাশাপাশি তুমি এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিজ এর জন্যও যথেষ্ট সময় পাচ্ছো। তোমাকে কোচিং এর প্যারা খাওয়া লাগতিছে না। ডিপ্রেশনে পড়তে হচ্ছে না।

(৫) ভাইয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তো সব ইউনিটে পরীক্ষা দিতে পারবো না। তখন কি হবে?

দেখো সব ইউনিটে পরীক্ষা দিতে গেলে সব ইউনিটের প্রিপারেশন নিতে হবে। যেটা তোমার জন্য বুমেরাং। কারণ তুমি ওই চার মাসে সব ইউনিটের প্রিপারেশন নিতে পারবা এটা কি তুমি শিওর? অতিরিক্ত চাপে তোমার প্রিপারেশন তো খারাপ ও হতে পারে। A ইউনিটের প্রিপারেশন নেওয়ার পাশাপাশি তুমি যদি B অথবা C ইউনিটের প্রিপারেশন একসাথে নাও এতগুলো প্রেশার কি তুমি নিতে পারবা? কিন্তু তুমি যদি ইন্টারমিডিয়েট থেকেই যাস্ট একটাতে ফোকাস রাখো তাহলে কি কি সুবিধা তো নিয়ে দুটা দৃশ্য দেখাই-

দৃশ্যকল্প-১: তুমি বিজ্ঞান বিভাগ নিলে। দুই বছর ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, বায়োলজির যথেষ্ট মানসিক প্রেশার নিয়ে এইচএসসি টপকানোর পর এখন তোমার এডমিশনের প্রিপারেশন নেওয়ার সময় এলো। তুমি দুইবছর ধরে বিজ্ঞান বিভাগে থাকার পর এখন নতুন করে মানবিক বিভাগ কিংবা ধরো ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের অর্থাৎ B ও C ইউনিটের পড়াশোনা শুরু করলে। কারণ তোমার মনে ভয় যে মেডিকেল বা বুয়েটের কম্পিটিশন এ পিছিয়ে গেলে তোমাকে প্ল্যান B অনুযায়ী B, C অথবা D ইউনিটে পরীক্ষা দিতে হবে। প্রথমত চারমাস সময়ে এত পড়াশোনা তুমি চাইলেও শেষ করতে পারবে না। দ্বিতীয়ত তোমার নিজের মধ্যেই তখন একটা গোঁজামিল তৈরি হয়ে যাবে। কারণ একদিকে তোমার সেই ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, আরেকদিকে ফিন্যান্স, একাউন্টিং, অর্থনীতি, ইতিহাস। একবার চিন্তা করে দেখো অবস্থাটা কিরকম হতে পারে?

দৃশ্যকল্প-২: তুমি গ্রুপ চেঞ্জ করে মানবিক বিভাগ নিলে। তোমাকে হয়ত সমাজের মানুষ তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে দেখবে। কিন্তু তাতে তোমার কিচ্ছু যায় আসে না। কারণ তোমার জীবন একান্তই তোমার। তুমি এখন ইতিহাস, অর্থনীতি, পৌরনীতি এই বিষয় গুলো সহজেই পারতেছ। ফলস্বরুপ তোমার রেজাল্ট ভালো হচ্ছে। তোমাকে কোচিং করতে হচ্ছে না। তার উপর তুমি ভালো কলেজে পড়ার জন্য তোমার মেন্টালিটি বিল্ড আপ হচ্ছে। তোমার চারপাশে অনেক ইন্টালেকচুয়াল ফ্রেন্ড সার্কেল থাকায় তুমিও তাদের মতো এগিয়ে যাওয়ার ইনসেন্টিভ পাচ্ছো। তুমি এক্সট্রা কারিকুলাম বিভিন্ন এক্টিভিটিজ যেমন বিতর্ক, খেলাধুলা, কবিতা, গান, ইত্যাদিতেও ভালো করছো। কারণ তোমার হাতে যথেষ্ট সময় আছে এসব করার। এবং এডমিশনের টাইমে তোমার ফোকাস শুধুমাত্র একটা। সেটা B ইউনিট, অথবা D ইউনিট। প্রথমত তুমি যে ইউনিটে পরীক্ষা দিবা সেটার পড়াশোনা দুইবছর ধরে করেছো, দ্বিতীয়ত তোমাকে অন্য কোনো ইউনিটের প্রেশার নিতে হচ্ছে না, তৃতীয়ত তুমি চার মাস ধরে একটা ইউনিটের জন্যই পড়াশোনায় লেগে আছো। সেক্ষেত্রে তোমার চান্স পাওয়ার পসিবিলিটি কতটুকু? অবশ্যই বেশি।

(৬) ভাইয়া আপনি গ্রুপ চেঞ্জ করে আপনি কি কি পেলেন?

প্রথমত আমি আমার স্বপ্নের কলেজে ভর্তি হতে পেরেছি। আমার নিজের জিপিএ ৫.০০ থাকার পরেও আমি গ্রুপ চেঞ্জ করে মানবিক বিভাগে ভর্তি হয়েছি। কারণ আমি আগে থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ুয়া অনেক সিনিয়রের গল্প শুনেছি, তাদের বই গুলো ঘেটে দেখেছি, আমার মনে হয়েছে বিজ্ঞান আমার জন্য না। এবং তাই আমি মানবিক বিভাগে ভর্তি হয়েছি। এবং এখন আমি নিয়মিত রেজাল্ট ও ভালো করতে পারছি। কোনো সাবজেক্টে আমার ফেল আসে না। আমাকে কোনো কোচিং করতে হয় না। ইতিহাস, অর্থনীতি, পৌরনীতি এই বিষয় গুলো আমার ডিবেট ক্যারিয়ারে আমাকে হেল্প করে, আমি পড়াশোনার পাশাপাশি ডিবেট করার জন্য যথেষ্ট সময় পাই। আমার কলেজ আমার বিল্ড আপের জন্য আমাকে যথেষ্ট সুযোগ দেয়।

দ্বিতীয়ত আমি সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছি আমার সেকশনের অবস্থা দেখে। আমার সেকশনে ৫৭ জনের মধ্যে মাত্র ১ জন পিউর মানবিক। বাকি ৫৬ জন ই সায়েন্স থেকে এসেছে। এবং তারা খুবই খুশি কারণ তারা মানবিক পড়ে মজা পাচ্ছে। এই মজা পাওয়াটা অনেক বেশি সাপোর্টিভ। আমি মাধ্যমিকে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, বায়োলজি, হায়ার ম্যাথ পড়ে মজা পেতাম না, একাডেমিক রেজাল্ট সবসময় খারাপ হতো। কিন্তু এখন ইতিহাস কিংবা অর্থনীতি পড়তে গিয়ে আমি মজা পাই। এই সাবজেক্ট গুলোর পড়াশোনা অনেক প্রাকটিক্যাল, বাস্তব জীবনের সাথে সহজেই রিলেট করা যায়। সো বেসিক্যালি আমি গ্রুপ চেঞ্জ করে হ্যাপি।

(৭) ভাইয়া তাহলে কি গ্রুপ চেঞ্জ করে ফেলবো?

আমি বলবো এটা বেস্ট ডিসিশন। দুইটা বছর মানসিক প্রেশার নিয়ে পড়াশোনা করার দরকার নেই। হ্যাঁ, তোমাকে হয়ত অনেকেই অনেক নিচু চোখে দেখবে, তুমি সায়েন্সে পড়ো না তাই তোমাকে পাত্তা দিবে না, কিন্তু ভেবে দেখো তো মানুষের এসব সমালোচনা কি তোমার রেজাল্ট ভালো করে দিবে? নাকি তোমাকে উলটো ডিপ্রেশনে ফেলে দিবে? যদি ডিপ্রেশনেই ফেলে দেয় তাহলে তাদের কথা কানে নিবা কেনো? উলটা গ্রুপ চেঞ্জ করলে তুমি তোমার স্বপ্নের কলেজে ভর্তি হতে পারবে, তোমার কোনো আফসোস থাকবে না, তুমি দুইটা বছর আনন্দ নিয়ে পড়াশোনা করবে। তোমার কোনো ফ্রেন্ড যদি দুইবছর পর বুয়েট কিংবা মেডিকেলে ভর্তি হয়ে একসময় নামকরা ডাক্তার অথবা ইঞ্জিনিয়ার হতে পারে, তোমার কাছেও সুযোগ আছে ভালো একজন উদ্যোক্তা হওয়ার, ভালো অর্থনীতিবিদ হওয়ার, ভালো ব্যবসায়ী হওয়ার, ইংরেজি অথবা অর্থনীতি নিয়ে পড়ে ভালো একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে জব করার, সিক্স ডিজিট স্যালারী ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার না হয়েও ইনকাম করা যায় ভাইয়া। কিন্তু এত পরের চিন্তা এখন না করে, আগামী দুই বছরের চিন্তাটা আগে করো। দুইবছর পর তোমার সামনেও অনেক রাস্তা থাকবে ভালো কিছু করার।

(৮) ভাইয়া এতদিন তো বিজ্ঞান বিভাগের পড়াশোনা করেছি, এখন কি হঠাৎ করে গ্রুপ চেঞ্জ করে মানবিক বা ব্যবসায় শিক্ষার পড়াশোনা বুঝবো?

অবশ্যই বুঝবা। ব্যবসায় শিক্ষার টা জানি না, (সেক্ষেত্রে ব্যবসায় শিক্ষা নিয়ে পড়ে এমন কোনো সিনিয়রের সাথে কথা বলে নিও) তবে মানবিক বিভাগের পড়াশোনা যথেষ্ট সহজ। তুমি নিজেই দেখবা তুমি খুব সহজেই পারছো সব। বিষয়বস্তু গুলো তোমার ভালো লাগতেছে।

(৯) ভাইয়া আব্বু আম্মু রাজি না হলে কি করবো?

দেখো তোমার বাবা মা তোমাকে ভালোবাসে। কাজেই তারা তোমার ভালো চায়। তুমি যদি নিজে বুঝতে পারো বিজ্ঞান বিভাগে থেকে তুমি কোপ আপ করতে পারবা না তাহলে তোমার বাবা মার সাথে তুমি খোলাখুলি এই ব্যাপারে কথা বলো। খাবার টেবিলে বসে তাদেরকে বোঝাও। তুমি কেন গ্রুপ চেঞ্জ করতে চাও সেটা লজিক্যালি তাদেরকে বোঝাও। যারা ইতঃপূর্বে গ্রুপ চেঞ্জ করেছে তারা কিভাবে বাবা-মাকে কনভিন্স করেছে তাদের কাছ থেকে শোনো সেটা। একটা সময় তোমার বাবা মা তোমার কথা অবশ্যই শুনবে।

সবশেষে একটাই কথা বলবো, জীবন তোমাকে ঘুরে দাড়ানোর সুযোগ দিবে। তোমাকে সেটা সময়মত কাজে লাগাতে হবে। জীবন এক অনন্ত সম্ভাবনার নাম। শুভকামনা তোমাদের জন্য।

নাইমুর রহমান দুর্জয়
৫৮ তম আবর্তন, মানবিক বিভাগ।
ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ।

মাধ্যমিক ব্যাচ ১৮, বিজ্ঞান বিভাগ,
মাইলস্টোন কলেজ।